শ্রীপুরে এক শিশু কণ্ঠশিল্পীকে ধর্ষণচেষ্টা চালিয়েছে দুই প্রতিবেশী। এ
ঘটনার বিচার চাওয়ায় সালিশ বসিয়ে ‘ঘটনা নিয়ে বাড়াবাড়ি না করার আদেশ দিয়েছেন
প্রভাবশালীরা’। বিচার না পেয়ে শিশুটি বাড়ি ফিরে বিষপান করে। মুমূর্ষু
অবস্থায় শিশুটিকে প্রথমে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে ঢাকা
মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শ্রীপুর উপজেলার গোসিংগা ইউনিয়নের
হায়াতখারচালা গ্রামে ঘটনাটি ঘটে। টানা সাত দিন চিকিৎসার পর সুস্থ হয়ে
ধর্ষণচেষ্টা মামলা করতে গেলে পুলিশ মামলা না নিয়ে থানা থেকে তাড়িয়ে দেয় বলে
অভিযোগ শিশুর স্বজনদের। নিরুপায় শিশুর মা-বাবা গতকাল দুপুরে উপজেলা
নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ করেছেন। ধর্ষণচেষ্টার শিকার শিশুটি
(১৩) এ বছর জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) পরীক্ষা দিয়েছে।
ধর্ষণচেষ্টাকারীরা হলো প্রতিবেশী আইজুদ্দিনের ছেলে মহসিন (৩০) ও মৃত
সোবহানের ছেলে আরমান। গ্রামবাসী জানায়, গ্রামের দরিদ্র আখ ব্যবসায়ীর
দুই মেয়ে ও এক ছেলের মধ্যে ওই শিশুটি দ্বিতীয়। শিশুটি তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ার
সময়ই গানের প্রতি কৌতূহল বাড়ে। নিজের উদ্যোগে শিশুটি গানও শেখে।শিশুর
বাবা জানান, গত ১৯শে নভেম্বর গ্রামের কয়েকজন তরুণ পাশে লতাপাতা দরগায় সংগীত
অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। ওই তরুণরা তার শিশু মেয়েকেও গান গাওয়ার আমন্ত্রণ
জানায়। শিশুটি জানায়, রাত প্রায় ১০টায় প্রতিবেশী আরমান ও মহসিনের সঙ্গে
বাড়ি থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে অনুষ্ঠানে যাওয়ার পথে তাকে ধর্ষণের
চেষ্টা চালায় তারা। একপর্যায়ে সে দৌড়ে দরগার একটি কক্ষে আশ্রয় নেয়। টের
পেয়ে স্থানীয় জাহাঙ্গীর আলম স্বপন নামে গ্রামের এক তরুণ তাকে বাড়ি পৌঁছে
দেন। শিশুটির মা জানান, বাড়ি ফিরে তার মেয়ে তাকে ঘটনা জানায়। শিশুর
বাবা অভিযোগ করেন, পরদিন রাতেই হায়াতখারচালা হাজী আবদুল কাদের প্রধান উচ্চ
বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ওবায়দুল্লাহ তার বাড়িতে সালিশ বসিয়ে
‘যা হওয়ার হয়েছে, এটা নিয়ে বাড়াবাড়ি না করার আদেশ দেন।’ শিশুর বাবা
জানান, বিচার না পেয়ে তার মেয়ে হতাশ হয়ে পড়ে। লজ্জায়-ঘৃণায় ওই রাতেই তার
মেয়ে বিষপান করে। টের পেয়ে তারা মুমূর্ষু অবস্থায় শিশুটিকে প্রথমে শ্রীপুর
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।
টানা সাত দিন চিকিৎসার পর সুস্থ হয়ে ওঠে শিশুটি। পরে গত ২৭শে নভেম্বর
শিশুসহ তিনি থানায় মামলা করতে যান। শিশুর বাবা অভিযোগ করেন, থানার
সেকেন্ড অফিসার এসআই হেলাল উদ্দিন মামলা নেয়া যাবে না বলে তাদের থানা থেকে
তাড়িয়ে দেন। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে শ্রীপুর মডেল থানার এসআই হেলাল উদ্দিন
বলেন, ধর্ষণচেষ্টার ঘটনা শুনে আমি ওই শিশুর বাবাকে বারবার ফোন করে থানায়
আসতে বলেছিলাম। তিনি আজ নয়; কাল অথবা পরে আসবেন বলে যখন এসেছিলেন, তখন ওসি
স্যার বাইরে ছিলেন। আমি তাকে পরে এসে ওসি স্যারের কাছে অভিযোগ দিতে
বলেছিলাম। শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর
রহমান বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। আমি কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নিচ্ছি।
Subscribe to:
Post Comments (Atom)

No comments:
Post a Comment