Monday, November 30, 2015

চট্টগ্রামে ভুয়া মামলা কারাগারে বাদী সুমি

নগরীর বায়েজিদ বোস্তামি থানার আলীনগরের বাসিন্দা সুমি আক্তার। গত ৫ই মে তিনি নিজের শ্লীলতাহানির অভিযোগ এনে তিনজনের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১০/৩০ ধারায় মামলা করেন। ওই মামলায় সুমি আক্তারের সঙ্গে বাদী হন নিজের স্বামী মো. ইব্রাহিমও। মামলার আরজিতে বলা হয়, ২৫শে এপ্রিল মফিজ, শফিক ও এরশাদ তাদের আলীনগরের বাসায় গিয়ে সুমি আক্তারের শ্লীলতাহানি করেন। ট্রাইব্যুনাল সেটি বিচার বিভাগীয় তদন্তের জন্য ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে পাঠান। তদন্ত শেষে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে মর্মে গত ৬ই আগস্ট আদালতে প্রতিবেদন দাখিল হয়। ১লা অক্টোবর ট্রাইব্যুনাল আসামিদের বিরুদ্ধে অপরাধ আমলে নিয়ে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।  ১৫ই নভেম্বর তিন আসামিকে তাদের বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে নবীনগর থানা পুলিশ। গতকাল রোববার তাদের জামিন আবেদনের ওপর শুনানির দিন ধার্য ছিল।কিন্তু গতকাল সুমি আক্তারের পক্ষ থেকে তিন আসামির জামিনে আপত্তি নেই মর্মে ট্রাইব্যুনালে একটি দরখাস্ত দাখিল করা হয়। শুনানির সময় ট্রাইব্যুনাল সুমি আক্তারের কাছে জানতে চান, জামিনে আপত্তি নেই বলছেন, তাহলে কি মামলা মিথ্যা ছিল। এ সময় বের হয়ে আসে থলের বিড়াল। ট্রাইব্যুনালের জবাবে সুমি আক্তার বলেন, ভুল বোঝাবুঝি থেকে মামলাটি করা হয়েছিল। স্বামীর সঙ্গে তিন আসামির  বিরোধকে কেন্দ্র করে তার নির্দেশে আমি মামলাটি করেছিলাম।আদালতের সঙ্গে প্রতারণা করায় এবং তিনজন নিরীহ মানুষকে ফাঁসানোর দায়ে বিচারক তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। একই সঙ্গে আদালত তিন অভিযুক্তকে জামিনও দিয়েছেন। চট্টগ্রামের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২-এর বিচারক মো. সেলিম মিয়ার আদালতে এই বিচার কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এদিকে সকাল সাড়ে ১১টার দিকে আদালতের ভিন্নধর্মী ওই আদেশ শোনার পর অনেক আইনজীবী বিষয়টি জানতে ট্রাইব্যুনালে ভিড় জমান। আইনজীবীরা মনে করছেন, মিথ্যা মামলা দায়ের করায় বাদীকে জেলহাজতে পাঠানোর ঘটনা চট্টগ্রাম আদালতের ইতিহাসে রেকর্ড হয়ে থাকবে। এ বিষয়ে অ্যাডভোকেট বিবেকানন্দ চৌধুরী বলেন, আদালতকেন্দ্রিক একটি চক্র নারী নির্যাতনের মিথ্যা মামলা দিয়ে দীর্ঘদিন সাধারণ লোকজনকে হয়রানি করে আসছে। ব্যক্তিগত কিংবা পারিবারিক বিরোধের জের ধরে হয়রানি করতে নারী নির্যাতন মামলাকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। আদালতের এই আদেশ রেকর্ড সৃষ্টি করবে এবং হয়রানি কমাবে।ট্রাইব্যুনালের পিপি অ্যাডভোকেট এমএ নাসের বলেন, সুমি আক্তার ও তার স্বামী মিলে তিন প্রতিবেশীকে ফাঁসাতে তাদের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির মামলা দায়ের করেছিল। আবার সুমি আক্তারই তাদের জামিনে আপত্তি নেই বলে জানালে আদালতের সন্দেহ হয়। এ সময় আদালতের প্রশ্নের জবাবে সুমি মিথ্যা মামলা করেছিল বলে স্বীকার করে নেয়।  আদালত সুমি ও তার স্বামীকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।যাদের মামলার আসামি করা হয়েছিল তারা হলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর উপজেলার জগন্নাথপুর গ্রামের জুলফিকার আলীর ছেলে মফিজ ও শফিক এবং তাদের পাশের বাড়ির এরশাদ। বাদী সুমির স্বামী ইব্রাহিমের বাড়িও একই গ্রামে। কারাগারে থাকা তিন আসামির প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকার মুচলেকায় জামিন দিয়েছেন আদালত।

No comments:

Post a Comment