Thursday, November 26, 2015

দহগ্রামে থ্রিজি পৌঁছে দিলো গ্রামীণফোন উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিমের সঙ্গে কথা বলে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল দহগ্রামে গ্রামীণফোনের থ্রিজি নেটওয়ার্ক উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল দহগ্রাম হাইস্কুল প্রাঙ্গণে এলাকার অধিবাসী এবং স্থানীয় সরকারি কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে এর উদ্বোধন করা হয়। প্রতিমন্ত্রী এবং স্থানীয় এমপি ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মোতাহার হোসেন দুজনেই দহগ্রামে গ্রামীণফোনের থ্রিজি উদ্বোধনের সময় উপস্থিত ছিলেন। গ্রামীণফোনের সিইও রাজিব শেঠি, সিএমও ইয়াসির আজমান উদ্বোধনের সময় গণভবনে এবং চিফ কর্পোরেট অ্যাফেয়ার্স অফিসার, মাহমুদ হোসেন এসময় প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে দহগ্রামে ছিলেন। ভিডিও কনফারেন্সে প্রধানমন্ত্রী সাম্প্রতিককালে কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাট অঞ্চলে বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, অবহেলিত দহগ্রাম-আঙ্গরপোতার মানুষ আজ নতুন যুগে প্রবেশ করেছেন। অনেক উন্নত দেশ যা পারে না বাংলাদেশের মানুষ তা পারে। বাংলাদেশের মানুষ অসাধ্যকে সাধন করেছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এক সময় লালমনিরহাট ছিল মঙ্গাপীড়িত অঞ্চল। আমরাই সর্বপ্রথম লালমনিরহাটে ভুট্টা চাষ করি। বর্তমানে সারা দেশে ভুট্টার চাষ হচ্ছে। শুধু ভু্‌ট্টাই নয় লালমনিরহাটে এখন ১৫ শতাংশ উদ্বৃত্ত খাদ্য উৎপাদন হচ্ছে। এভাবেই এ অঞ্চল থেকে মঙ্গা শব্দটি বিদায় নিয়েছে। এক সময় মোবাইলফোন শহরে ব্যয়বহুল ভাবে শুধুমাত্র শহরে ব্যবহার হতো। বর্তমানে আমরা অল্প খরচে শহর থেকে গ্রামাঞ্চলে ছড়িয়ে দিয়েছি মোবাইলের ব্যবহার। আজ আমরা থ্রিজিতে চলে গেছি। প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে বেকারদের দক্ষকর্মী হিসেবে গড়ে তুলতে প্রতিটি উপজেলায় একটি করে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ে তুলতে কাজ করছে সরকার। যাতে বেকার যুবক-যুবতীরা প্রশিক্ষণ নিয়ে নিজেদের স্বাবলম্বী করতে পারে। সেই সঙ্গে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দিয়ে বেকারদের বিদেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করছে সরকার। এ ভাবেই দেশ এগিয়ে যাচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। এখন আর টাকা খরচ করে ঢাকায় যেতে হচ্ছে না, ঘরে বসেই দেশের মানুষ শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষিসহ সকল বিষয়ে তথ্য পাচ্ছে ইউনিয়ন তথ্যসেবা কেন্দ্রে। ডাকঘরগুলোতে তথ্যসেবা কেন্দ্র স্থাপনের কাজ চলছে। এতে দেশের মানুষ ঘরে বসে সকল তথ্যসহ কেনাকাটা করতে পারবেন। এছাড়া, মানুষের দোরগড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছাতে কমিউনিটি ক্লিনিক করা হয়েছে। এছাড়াও উপজেলা ও জেলা সদর হাসপাতালগুলোকে ৩০ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় এবং ৫০ শয্যার হাসপাতালে ১০০টি বেডের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সেই সঙ্গে মেডিকেল কলেজও বাড়ানো হয়েছে। ভিডিও কনফারেন্সে দহগ্রামবাসীর আমন্ত্রণ গ্রহণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, লালমনিরহাটে অনেক গিয়েছি, এ বছর কুড়িগ্রামে সফর করেছি। আগামীতে লালমনিরহাটের বিলুপ্ত ছিটমহলে আসবো। এসময় প্রধানমন্ত্রী দহগ্রাম-আঙ্গরপোতায় থ্রিজি নেটওয়ার্ক সংযোগ প্রদান করায় গ্রামীণফোনকে ধন্যবাদ জানান। এদিকে গ্রামীণফোন জানিয়েছে, দেশব্যাপী গ্রামীণফোনের শক্তিশালী  থ্রিজি নেটওয়ার্ক স্থাপনের উদ্যোগের অংশ হিসেবে দেশের বিগত ছিটমহলসহ প্রত্যন্ত অঞ্চলে প্রতিষ্ঠানটির সেবা পৌঁছে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর প্রথম উদ্যোগ দহগ্রামকে সাইবার দুনিয়ার সঙ্গে যুক্ত করলো। এ ধরনের প্রত্যন্ত অঞ্চলে এটাই প্রথম থ্রিজি স্থাপনা। গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে গ্রামীণফোনের সিইও বলেন, টেলিযোগাযোগ ও ইন্টারনেটের পক্ষে অবকাঠামোর স্বল্পতাকে অতিক্রম করে দ্রুততার সঙ্গে উন্নয়ন কার্যক্রমকে এগিয়ে নেয়া সম্ভব। থ্রিজি প্রযুক্তির মাধ্যমে দহগ্রামের মানুষ ডিজিটাল বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্ত হতে পারবেন। দেশের বৃহত্তম টুজি এবং থ্রিজি নেটওয়ার্ক অপারেটর গ্রামীণফোন তাদের মানসম্পন্ন সেবা দিতে পেরে আনন্দিত। সমপ্রতি ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে স্থলসীমা চুক্তি বাস্তবায়নের ফলে দহগ্রামের মতো প্রত্যন্ত অঞ্চলে ৫০ হাজার মানুষের দুর্দশার অবসান হয়। থ্রিজি উদ্বোধনের পাশাপাশি গ্রামীণফোন তার কর্পোরেট দায়িত্বের অংশ হিসেবে দহগ্রাম হাইস্কুলে ইন্টারনেট সংযোগসহ কয়েকটি কম্পিউটার উপহার দেয়। গ্রামীণফোন বাংলাদেশে ‘সবার জন্য ইন্টারনেট’ পৌঁছে দিতে আগ্রহী। এই লক্ষ্যের অংশ হিসেবে গ্রামীণফোন দেশের সব মানুষকে ইন্টারনেটের সঙ্গে যুক্ত করতে, সম্ভাব্য ব্যবহারকারীদের মধ্যে ইন্টারনেটের সুবিধা সম্পর্কে সচেতনতা  তৈরি এবং জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে ডিজিটাল সেবা ব্যবহারে সুযোগ সৃষ্টি করতে চায়। দহগ্রামে থ্রিজি সেবা চালু করার মাধ্যমে কোম্পানির ‘ইন্টারনেট ফর অল’ লক্ষ্য আরেক ধাপ এগিয়ে গেল। গ্রামীণফোন এরই মধ্যে ৫৬০০ থ্রিজি বিটিএস স্থাপন করেছে। এর ফলে দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৭০ ভাগ থ্রিজির আওতায় চলে এসেছে।

No comments:

Post a Comment