স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, দেশে সাংগঠনিকভাবে আইএস বা এ ধরনের কোন
কিছুর অস্তিত্ব নেই। একথা আমি জোর গলায় বলতে পারি। তবে আনসারুল্লাহ বাংলা
টিম, জেএমবিসহ অন্যদের কর্মকাণ্ড আমরা নিয়ন্ত্রণ করে ফেলেছি। তারপরও আমরা
যেটা বলতে চাই, এগুলো কিন্তু সবই এক। এগুলোর যদি গোড়া খুঁজতে যান দেখবেন
উৎপত্তিটা ওই জামায়াত-শিবিরই। গতকাল সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে
আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, যারাই আইএস, তারাই জেএমবি, তারাই আনসারুল্লাহ
বাংলা টিম, তারাই হরকাতুল জিহাদ। মাঝে মাঝে তারা বিভিন্ন নামে অস্তিত্ব
প্রমাণ করতে চাচ্ছে। দেশকে অস্থিতিশীল করতে চাচ্ছে। যারাই অস্থিতিশীল
পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করছে, তাদেরকেই আমরা নিয়ন্ত্রণ করছি। আমরা তাদের
কোন ধরনের সুযোগ দেব না। আইএসের অনলাইন ম্যাগাজিন ‘দাবিক’-এর ১২তম সংখ্যায়
জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের মুরতাদ ও বাংলাদেশে ইতালির নাগরিক সিজার
তাভেল্লা, জাপানি নাগরিক কুনি হোশিও ও নাস্তিক ব্লগারদের হত্যা এবং হোসেনি
দালানে (শিয়া সমপ্রদায়ের তীর্থস্থান) হামলা মুজাহিদরাই করেছে বলে উল্লেখ
করা হয়েছে। এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, হোসেনি
দালানে যারা বোমা নিক্ষেপ করেছিল আমরা তাদের বেশির ভাগকেই ধরে ফেলেছি।
কাজেই কে কি করল বা কে কি বলল এটা আমাদের দেখার বিষয় না। তারা এগুলো করার
প্রচেষ্টা চালাচ্ছে, আত্মপ্রকাশের প্রচেষ্টা করছে। জামায়াতে ইসলামী আর্থিক
প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অর্থ
মন্ত্রণালয়ের কাছে চিঠি পাঠানোর বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন,
জঙ্গিবাদে অর্থায়নের বিষয়ে শিল্পমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি কমিটি রয়েছে।
সেখানে দীর্ঘ আলোচনার পর তথ্যের ওপর ভিত্তি করে এ চিঠিগুলো যাচ্ছে। এগুলো
ওই কমিটির ফাইন্ডিংস। ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, স্বরাষ্ট্র
মন্ত্রণালয়ের সংকেত পেলে ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম খুলে দেয়া হবে- এ
বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মন্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা সাময়িক
ব্যবস্থা, যে কোন মুহূর্তে আমরা (নিষেধাজ্ঞা) তুলব।অনেকে বিকল্প উপায়ে
ফেসবুক ব্যবহার করছেন এ বিষয়টির প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করলে
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমাদের ইয়াং (তরুণ) ছেলেরা অত্যন্ত ইনোভেটিভ। তারা
একটা কিছু না কিছু করে প্রচেষ্টা নিচ্ছে। এগুলোতে আমরা মনে করি তাদের মেধা
আছে, মেধা প্রয়োগ করে অনেক কিছু করছে। এগুলো আমার মনে হয় না করাই উত্তম।
সম্প্রতি হত্যাকাণ্ডগুলোর তদন্তের অগ্রগতির বিষয়ে জানতে চাইলে
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ইতালীয় নাগরিক হত্যাকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
জাপানি নাগরিক হত্যাকারীকেও আমরা শনাক্ত করেছি। ফারুকী ও খিজির
হত্যাকারীদের আমরা ধরেছি। এদিকে হাতে লেখা পাসপোর্টের বিষয়ে
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, হাতে লেখা পাসপোর্ট উঠে গেলেও হাতে লেখা
পাসপোর্টধারী যারা বিদেশে যেতে চান ও যারা বিদেশ থেকে দেশে আসতে চান তাদের
কোন সমস্যা হবে না। তিনি বলেন, দেশ থেকে মাত্র তিন দিনের মধ্যে মেশিন
রিডেবল পাসপোর্ট (এমআরপি) দেয়া হচ্ছে। এ ছাড়া বিদেশে অবস্থানকারী
বাংলাদেশীরা দূতাবাস থেকে সাত দিনের মধ্যে এমআরপি নিতে পারবেন। হাতে লেখা
পাসপোর্টধারীর সংখ্যা যতই হোক, কোন সমস্যা হবে না। সরকারের প্রতিদিন ২০
হাজার এমআরপি প্রিন্ট করার সক্ষমতা আছে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন,
আমরা বর্তমানে দিনে ১২ হাজারের বেশি পাসপোর্ট প্রিন্ট করছি। কখনও এটা আরও
নিচে ১০ হাজারেও নেমে যায়। তবে চাহিদা বাড়লে আমরা আরও যোগান দিতে পারব।
উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার (আইসিএও) সিদ্ধান্ত
অনুযায়ী গতকাল (২৪শে নভেম্বর) থেকে হাতে লেখা পাসপোর্ট ব্যবহার করা যাচ্ছে
না।
Subscribe to:
Post Comments (Atom)

No comments:
Post a Comment