Saturday, November 28, 2015

ভিন্নধারার শিল্পকলার সমারোহ

শিল্পকলা হচ্ছে সংস্কৃতি বিকাশের অন্যতম মাধ্যম, যা সকল দেশে ও সকল স্থানে বিদ্যমান। তবে স্থান-কাল ভেদে এর ভিন্নতা লক্ষ করা গেলেও স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য পরিলক্ষিত হয়। ভৌগোলিক অবস্থান অনুযায়ী আমরা দুটি ভাগ লক্ষ করি, প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য। প্রাচ্যদেশীয় বলতে আমরা সাধারণত চীন, জাপান, ভারত, পাকিস্তান, কোরিয়া, ইন্দোনেশিয়া, তিব্বত, বাংলাদেশ প্রভৃতি দেশকে বুঝে থাকি। আমরা সাধারণত প্রাচ্যের অধিবাসী। এ দেশে প্রাতিষ্ঠানিক শিল্পকলার সূচনা হয় ১৯৪৮ সালে, ঢাকায় গভর্নমেন্ট আর্ট ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে। তবে প্রাচ্যধারার শিল্পচর্চা শুরু হয় ১৯৫৫ সালে প্রাচ্যকলা প্রতিষ্ঠার মধ্যদিয়ে। প্রাথমিকভাবে শিক্ষার্থীর সংখ্যা কম হলে বর্তমানে এর চাহিদা যথেষ্ট যা বর্তমানে বাংলাদেশ সোসাইটি অব ওরিয়েন্টাল আর্ট ও বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর-এর যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠিত ‘প্রাচ্যশিল্পের বিস্তার’ শীর্ষক প্রদর্শনী তার প্রমাণ। এই প্রদর্শনী দেখার পর যে কোনো দর্শক, শিল্পী ও শিল্পবোদ্ধা সহজেই অনুধাবন করবেন যে, এটি শুধু একটি প্রদর্শনীই নয়, একটি শিল্প আন্দোলনও। প্রাচ্যধারার বিভিন্ন ধরনের শিল্পকলার সমারোহ। ছবির সংখ্যা ও গুণগত মানেও অনেক দূর এগিয়ে এসেছে এ দেশের প্রাচ্যকলা বা প্রাচ্যধারার শিল্পকলা; যা এত দিন ছিল পর্দার আড়ালে। বর্তমানে এই প্রদর্শনীর মাধ্যমে তা উন্মোচিত হয়েছে। এই সংগঠন থেকেই শুরু হয়েছে প্রাচ্যশিল্প বিকাশের আন্দোলন। এই প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণকারী সব শিল্পীই প্রাচ্যকার সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং অধিকাংশ শিল্পীই প্রাচ্যধারায় শিল্পকলা চর্চা ও দেশ-বিদেশে নানা প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণের মাধ্যমে নিজেদের স্বতন্ত্র স্থানে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছেন। প্রদর্শনী কক্ষের ছবিসমূহ দেখলে সহজেই বোঝা যায় যে, তা এ দেশের প্রতিচ্ছবি। চীন, জাপান, কোরিয়া, পাকিস্তান, ভারত প্রভৃতি দেশের চিত্র যেমন নিজ দেশের পরিচিতির সঙ্গে সম্পৃক্ত বাংলাদেশও তা থেকে পিছিয়ে নেই, এই প্রদর্শনী তারই প্রমাণ। বর্তমানে প্রাচ্যধারার বিকাশে এই সংগঠন যেভাবে এগিয়ে এসেছে, যদি এর ধারাবাহিকতা বজায় রাখা যায়, তবে হয়তো স্বল্প সময়ের মধ্যেই প্রাচ্যদেশীয় শিল্পকলা নয় বরং ‘বাংলাদেশের শিল্পকলা’ বা শীর্ষক অধ্যায়ের সূচনা হবে; যা হবে একান্ত বাংলাদেশের। কেননা, বাংলাদেশে বর্তমানে যে শিল্পকলা চর্চা হচ্ছে, তা বিশ্বের কোন অংশের চেয়ে গুণেমানে কম নয়। জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবেও স্বীকৃত। এদেশে প্রাচ্যধারার শিল্পকলা চর্চায় অগ্রজ শিল্পীদের মধ্যে শিল্পী আবদুস সাত্তার, শিল্পী নাসরীন বেগম, শিল্পী রফিক আহমেদ, শিল্পী মো. আবদুল আযীয অন্যতম। তাদের প্রত্যেকের চিত্রই স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যের অধিকারী; যা অন্য কোনো দেশ বা কোনো শিল্পীর কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়। পরবর্তী ধাপেও যেসব শিল্পী রয়েছেন তারাও নিজস্বতা নিয়ে অনেক দূর এগিয়ে গেছেন। বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের নলিনীকান্ত ভট্টশালী গ্যালারিতে অনুষ্ঠিত প্রদর্শনী ১২২ জন শিল্পীর ২৩২টি চিত্রকর্ম স্থান পাচ্ছে, তবে কিছু কিছু ছবিতে প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের সংমিশ্রণ লক্ষ্য করা যায়। তবে আশা করা যায় বর্তমান প্রদর্শনী থেকে অভিজ্ঞতা অর্জনের মাধ্যমে তা অচিরেই দূর হবে।

No comments:

Post a Comment