Saturday, November 28, 2015

রেস্টুরেন্টে লাঠির ঠনঠন শব্দ

চীনের রেস্টুরেন্টগুলোতে ঢুকলেই চোখে পড়বে সবাই খাচ্ছেন লম্বাটে লাঠি দিয়ে। এসব লাঠি দিয়েই তারা খাচ্ছেন হরেক রকমের খাবার। কয়েকজন চায়নিজের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, সব বয়সী চায়নিজদের প্রিয় খাবার ‘শুকরের মাংস’ (পোর্ক)। বিমানে তাদের কোনো কিছু জিজ্ঞেস না করেই দেয়া হয় শুকরের মাংস রয়েছে এমন খাবার। আন্তর্জাতিক চেন শপ ম্যাগডোনালসে দেখা মেলে পোর্কের তৈরি বার্গার। এসব বার্গার চিকেন বার্গারের চেয়ে দাম বেশি। সর্বত্র পোর্কের আধিক্য থাকায় চীনের রেস্টুরেন্টে ঢুকলে পোর্কের গন্ধ পাওয়া যায়। চীনের কয়েকটি রেস্টুরেন্টে সরজমিন গিয়ে দেখা যায়, সব বয়সী চায়নিজ নারী-পুরুষরা অনেকটা আয়েশ করে আড্ডা দিচ্ছেন। এরপর খাবার দেয়া হলে সবার খাওয়ার ধরন একই। নুডুলস, রাইস বা অন্য যে কোনো খাবার দুটি চিকন লাঠি দিয়ে চাপ দিয়ে খাচ্ছেন। চাপ দিয়ে খাবার খাওয়া শেষ হয়ে গেলে তারা পানিজাতীয় জিনিসগুলো চুমুক দিয়ে খান। এদিকে বেইজিং, সাংহাই ও গুয়ানজো শহরে চায়নিজদের নিজেদের হোটেলের আধিক্য বেশি। তবে ভারতীয় মালিকানাধীন অনেক হোটেল রয়েছে। এ ছাড়া স্প্যানিশ, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের মালিকানাধীন কয়েকটি রেস্টুরেন্ট রয়েছে। কয়েকজন চায়নিজের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, স্যুপ নুডুলস তাদের কাছে খুবই জনপ্রিয় একটি খাবার। এটাকে তারা বলেন লা-মিয়ান। প্রধান খাবার শুরু করার আগে স্যুপ নুডুলস তাদের চাই। এ ছাড়া হু গু, সুই জো ইউ, পিকিং ডাক, কুং পাও চিকেন, মা পো টফু ও প্যান ফ্রাইড ড্রাম্পলিং তাদের খুব পছন্দের খাবার। এসব খাবার নিয়মিতই গ্রহণ করে থাকেন তারা। সুই জো ইউ আইটেমটি সিচুয়ান মাছের সঙ্গে তেল ও মরিচ মিশিয়ে রান্না করে খেয়ে থাকেন। সাংহাইয়ের আমপাথান রেস্টুরেন্টে এক বিকালে দেখা যায় অন্যরকম দৃশ্য। বাচ্চাদের প্লে গ্রাউন্ডে ওই সময় বিভিন্ন বয়সী পাঁচটি বাচ্চা খেলা করছে। প্লে গ্রাউন্ডে যেসব খেলনা রয়েছে তার সবই শিক্ষণ উপযোগী। কেউ আর্ট করছে, বাড়ি বানাচ্ছে, ভেতরে ঢুকে লুকোচুরি খেলছে। বাচ্চাদের দেখা গেল ছোটবেলা থেকেই তারা আদব-কায়দা বেশ রপ্ত করেছে। এক বাচ্চা আরেক বাচ্চার সঙ্গে খেলনা নিয়ে কোনো ধরনের টানাটানি বা মারামারি করছে না। বেশ আগ্রহ সহকারে তারা খেলাধুলা করছে। খাবার টেবিলে সাজানো হলে তারা টেবিলে চলে আসছে। আমপাথান রেস্টুরেন্টে কর্মী ইউ সি নাই মানবজমিনের এ প্রতিবেদককে জানান, তা ফান চি, লা চ্চ চি, থিয়ে বান নিও রও, চিয়াও জ, ইয়াং জৌ ছাও ফান, লা মিয়েন, হো গো, সোই চ্রু ইউ ও মা লা থাংসহ অনেক খাবার আইটেম রয়েছে তাদের রেস্টুরেন্টে। এ খাবারগুলো নুডুলস, রাইস, চিকেন ও বিফ দিয়ে তৈরি হয়। অনেক খাবার আবার পোর্ক দিয়েও তৈরি করা হয়। তবে পোর্কের তৈরি খাবারের প্রতি তাদের বিশেষ দুর্বলতা রয়েছে। চায়নিজ রেস্টুরেন্টের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলছে দু-একটি বাংলাদেশি রেস্টুরেন্ট। সাংহাইতে চায়নিজ নারী জো পায় প্রতিষ্ঠা করেছেন ইন্ডিয়ান মসলা নামে একটি রেস্টুরেন্ট। বাংলাদেশি স্বামী শাহীনের অনুপ্রেরণায় তিনি রেস্টুরেন্টটি প্রতিষ্ঠা করেছেন বলে মানবজমিনের এ প্রতিবেদককে জানান। তিনি বলেন, আমাদের চায়নিজ খাবার পশ্চিমাবিশ্বের দেশগুলো খেয়ে অনেকটা হাঁপিয়ে ওঠে। তখনই তারা ইন্ডিয়ান টাইপের রেস্টুরেন্টে খাওয়ার ইচ্ছা পোষণ করে থাকেন। ওই চিন্তা থেকেই রেস্টুরেন্টটি স্থাপন করেছি। বেশ ভালোই চলছে রেস্টুরেন্ট। আমাদের কাস্টমারের তালিকায় বাংলাদেশি, ইন্ডিয়ান, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্সসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিকরা রয়েছেন। তিনি জানান, আমাদের রেস্টুরেন্টের কাছাকাছি যুক্তরাষ্ট্রের অনেক নাগরিক বসবাস করেন। তারা পাকুরা, তন্দুরি চিকেনসহ অনেক আইটেম বিভিন্ন সময় খেতে আসেন। সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো আমাদের রেস্টুরেন্টে খাবারের দাম চায়নিজ রেস্টুরেন্টের তুলনায় অনেক কম। সরজমিন রেস্টুরেন্টটিতে গিয়ে দেখা যায়, বেগুনভর্তা, আলুভর্তা, মাছভুনা, খাসির মাংসভুনা, ডালসহ সব পাওয়া যাচ্ছে ওই রেস্টুরেন্টে। তাই রেস্টুরেন্টটির খোঁজ পেলে বাংলাদেশিদের খাবারের কষ্ট অনেকটাই কমে যায়। বেইজিংয়ে সানতোর নামে বাংলা খাবারের একটি রেস্টুরেন্টের দেখা মেলে। ওই রেস্টুরেন্টটি চায়নিজ একটি নারীর সঙ্গে মিলিতভাবে চালান বাংলাদেশি সাগর। তিনি বলেন, চায়নিজ আইটেমের বদলে ভারতবর্ষের আইটেমগুলো বেশ জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। রেস্টুরেন্টটিও বেশ ভালো চলছে। এদিকে বিভিন্ন রেস্টুরেন্ট ও সুপার শপে গিয়ে ড্রাগন ফলের ব্যাপক চাহিদা লক্ষ করা গেছে। প্রতিদিনের খাবারের তালিকায় এ ফলটি রাখেন তারা। তবে বেশির ভাগ চায়নিজ খুব কম আহার করেন। এরপর মোবাইল বা কম্পিউটার নিয়ে কাজে মত্ত হয়ে যান। চায়নিজ নারীরা রাত-দিন পরিশ্রম করেন। এ নিয়ে তাদের কোনো ক্লান্তি নেই।

No comments:

Post a Comment