পৌরসভা নির্বাচনের তফসিল ১৫ দিন পেছানোর দাবি জানিয়েছে বিএনপি। পাশাপাশি
লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরিতে নেতাকর্মীদেরও মুক্তি দাবি দলটির। এদিকে
ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও বিরোধী দল জাতীয় পার্টি চায় নির্বাচনী প্রচারণায়
এমপিদের অংশগ্রহণের সুযোগ। দলগুলোর এসব দাবির বিষয়ে আজ কমিশন বৈঠকে
সিদ্ধান্ত হবে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ গতকাল বিকালে
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এতথ্য জানান। দিনের শুরুতে নির্বাচন কমিশনে
যায় জাতীয় পার্টির মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলুর নেতৃত্বে একটি
প্রতিনিধিদল। বেলা সাড়ে ১২টার দিকে আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক
মাহবুব-উল-আলম হানিফের নেতৃত্বে দলটির ৫ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল সিইসি’র
সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সর্বশেষ বেলা পৌনে ২টার দিকে বিএনপি চেয়ারপারসনের
উপদেষ্টা ড. ওসমান ফারুকের নেতৃত্বে দলটির একটি প্রতিনিধিদল নির্বাচন কমিশন
সচিবালয়ে যায়। সিইসি’র সঙ্গে প্রায় ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক করে দলটি। এ সময়
প্রতিনিধি দলে ছিলেন- বিএনপি চেয়ারপারসনের আরো ৩ উপদেষ্টা শামসুজ্জামান
দুদু, এসএম আবদুল হালিম, ক্যাপ্টেন (অবঃ) সুজাউদ্দিন ও বিএনপি’র যুব-বিষয়ক
সম্পাদক সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল। এদিকে ই-মেইলের মাধ্যমে সিডিউল
পরিবর্তন করে অন্তত ১৫ দিন নির্বাচন পেছানোর দাবি জানিয়েছে কৃষক শ্রমিক
জনতা লীগ। দলের যুগ্ম-সম্পাদক ইকবাল সিদ্দিকী স্বাক্ষরিত পত্রে বলা হয়,
রাজনৈতিক দলগুলোর প্রার্থী বাছাই ও অন্যান্য কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার
লক্ষ্যেই নির্বাচন পেছানো প্রয়োজন।
এসব দাবি ওঠার পর বিকালে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ। বিএনপি’র সময় পেছানোর দাবি সম্পর্কে তিনি বলেন, অনেকদিন আগ থেকেই আমাদের নির্বাচনের প্রস্তুতি ছিল। কিন্তু যখন এই আইন হলো, তার প্রেক্ষিতে আমাদের বিধিমালা করতে হয়েছে। বিধিমালা পরিবর্তন করার পরে আমরা খুব একটা সময় পাইনি। রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করারও সময় হয়ে উঠেনি। আইনগতভাবে আমাদের কতগুলো বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এছাড়া শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা, বিশ্ব ইজতেমা ও ভোটার তালিকা হালনাগাদের কার্যক্রম রয়েছে সামনে। এসব কারণেই ওই ৯০ দিন পেরিয়ে যাবে। তার আগে আমরা নির্বাচন করতে পারবো না। আইনের সেই বাধার কারণেই আমাদেরকে নির্বাচনটা এর মধ্যে করতে হচ্ছে। তবুও উনারা যেহেতু দাবি জানিয়েছেন, তাই আমরা বলেছি কমিশন বৈঠকে বসে সিদ্ধান্ত নেবো। এমপিদের প্রচারণায় অংশগ্রহণের সুযোগ রাখার বিষয়ে তিনি বলেন, যেহেতু নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলো আমাদের প্রধান স্টেকহোল্ডার। তাই তারা কোন কথা বললে আমরা সেটা গুরুত্বের সঙ্গেই নিই। আমরা আগামীকাল বৈঠকে বসবো। তারপর সিদ্ধান্ত নেবো। তবে এক্ষেত্রেও আমাদের আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সিইসি আরও বলেন, আইন অনুযায়ী ডিসেম্বরের ৩০ তারিখে নির্বাচন করাটাই কমিশনের শেষ সুযোগ। না হলে আইন ভঙ্গ করতে হবে। অনেক পৌরসভার নির্ধারিত সময়সীমা পার হয়ে যাবে। এদিকে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করার তাগিদে বিএনপি নেতাকর্মীদের মুক্তির বিষয়ে প্রশাসনকে ইসি কোন অনুরোধ করবে কিনা? এ প্রশ্নের জবাবে রকিবউদ্দীন বলেন, কাউকে হয়রানি করা হলে আদালত রয়েছেন। আমি আশা করবো তারা সেই প্রক্রিয়ায় আগাবেন। তবে কাউকে অযাচিত হয়রানি করা হবে না। করা উচিত না। প্রসঙ্গত, আগামী ৩০শে ডিসেম্বর ভোটগ্রহণের দিন ধার্য্য করে গত ২৪শে নভেম্বর দেশের ২৩৪টি পৌরসভা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। পরে আরো ২টি পৌরসভা তফসিলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়ন পত্র দাখিলের শেষ দিন ৩রা ডিসেম্বর। যাচাই-বাছাই ৫ ও ৬ই ডিসেম্বর। মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষদিন ১৩ই ডিসেম্বর। দলীয় প্রতীকে স্থানীয় নির্বাচনের এই প্রথম ধাপ এটি। সেই অনুযায়ী নির্বাচনের আচরণবিধিতে বেশকিছু পরিবর্তন আনে নির্বাচন কমিশন। তার মধ্যে রয়েছে- এমপিদের প্রচারণায় অংশ না নেয়া ও একটি দল একজনের বেশি মেয়র পদে মনোনয়ন দিতে পারবে না।
এসব দাবি ওঠার পর বিকালে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ। বিএনপি’র সময় পেছানোর দাবি সম্পর্কে তিনি বলেন, অনেকদিন আগ থেকেই আমাদের নির্বাচনের প্রস্তুতি ছিল। কিন্তু যখন এই আইন হলো, তার প্রেক্ষিতে আমাদের বিধিমালা করতে হয়েছে। বিধিমালা পরিবর্তন করার পরে আমরা খুব একটা সময় পাইনি। রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করারও সময় হয়ে উঠেনি। আইনগতভাবে আমাদের কতগুলো বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এছাড়া শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা, বিশ্ব ইজতেমা ও ভোটার তালিকা হালনাগাদের কার্যক্রম রয়েছে সামনে। এসব কারণেই ওই ৯০ দিন পেরিয়ে যাবে। তার আগে আমরা নির্বাচন করতে পারবো না। আইনের সেই বাধার কারণেই আমাদেরকে নির্বাচনটা এর মধ্যে করতে হচ্ছে। তবুও উনারা যেহেতু দাবি জানিয়েছেন, তাই আমরা বলেছি কমিশন বৈঠকে বসে সিদ্ধান্ত নেবো। এমপিদের প্রচারণায় অংশগ্রহণের সুযোগ রাখার বিষয়ে তিনি বলেন, যেহেতু নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলো আমাদের প্রধান স্টেকহোল্ডার। তাই তারা কোন কথা বললে আমরা সেটা গুরুত্বের সঙ্গেই নিই। আমরা আগামীকাল বৈঠকে বসবো। তারপর সিদ্ধান্ত নেবো। তবে এক্ষেত্রেও আমাদের আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সিইসি আরও বলেন, আইন অনুযায়ী ডিসেম্বরের ৩০ তারিখে নির্বাচন করাটাই কমিশনের শেষ সুযোগ। না হলে আইন ভঙ্গ করতে হবে। অনেক পৌরসভার নির্ধারিত সময়সীমা পার হয়ে যাবে। এদিকে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করার তাগিদে বিএনপি নেতাকর্মীদের মুক্তির বিষয়ে প্রশাসনকে ইসি কোন অনুরোধ করবে কিনা? এ প্রশ্নের জবাবে রকিবউদ্দীন বলেন, কাউকে হয়রানি করা হলে আদালত রয়েছেন। আমি আশা করবো তারা সেই প্রক্রিয়ায় আগাবেন। তবে কাউকে অযাচিত হয়রানি করা হবে না। করা উচিত না। প্রসঙ্গত, আগামী ৩০শে ডিসেম্বর ভোটগ্রহণের দিন ধার্য্য করে গত ২৪শে নভেম্বর দেশের ২৩৪টি পৌরসভা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। পরে আরো ২টি পৌরসভা তফসিলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়ন পত্র দাখিলের শেষ দিন ৩রা ডিসেম্বর। যাচাই-বাছাই ৫ ও ৬ই ডিসেম্বর। মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষদিন ১৩ই ডিসেম্বর। দলীয় প্রতীকে স্থানীয় নির্বাচনের এই প্রথম ধাপ এটি। সেই অনুযায়ী নির্বাচনের আচরণবিধিতে বেশকিছু পরিবর্তন আনে নির্বাচন কমিশন। তার মধ্যে রয়েছে- এমপিদের প্রচারণায় অংশ না নেয়া ও একটি দল একজনের বেশি মেয়র পদে মনোনয়ন দিতে পারবে না।

No comments:
Post a Comment