Sunday, November 22, 2015

মৃত্যুদণ্ড কার্যকর নিয়ে সংসদে আলোচনা- প্রধানমন্ত্রী ঝুঁকি নিয়ে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করছেন

সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের ফাঁসির বিষয় নিয়ে আজ রোববার জাতীয় সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে অনির্ধারিত আলোচনা হয়েছে। এতে অংশ নিয়ে মন্ত্রী এমপিরা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও রায় কার্যকর করার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান।
তারা বলেন, প্রধানমন্ত্রী ঝুঁকি নিয়ে এই বিচার কাজ করেছেন। দেশী বিদেশী কোনো শক্তিই তাকে এই বিচার থেকে বিরত রাখতে পারেনি। বিচারের রায় কার্যকরের মধ্য দিয়ে ৪৩ বছর পরে জাতি কলংকমুক্ত হচ্ছে।
সন্ধ্যায় স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠক চলাকালে ৭১ বিধির মনোযোগ আকর্ষণ নোটিশের কার্যসূচি স্থগিত করে স্পিকার পয়েন্ট অব অর্ডারে বক্তব্য দেয়ার জন্য সংসদ সদস্যদের সুযোগ দেন। শনিবার রাতে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও আলী আহসান মুজাহিদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর নিয়ে সদস্যরা বক্তব্য দেন।
আলোচনায় অংশ নেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, আওয়ামী লীগের সিনিয়র সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী, তথ্য মন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, চীফ হুইপ আ স ম ফিরোজ, খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম, সাবেক পররাষ্ট্র মন্ত্রী ডা. দীপুমনি, ক্যাপ্টেন এবি এম তাজুল ইসলাম, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, মো. আবদুর রহমান, সাবেক প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক, আব্দুল মান্নান, শামীম ওসমান, ডা. রুস্তম আলী ফরাজী প্রমুখ। এর আগে প্রশ্নোত্তর পর্বেও প্রশ্ন করতে গিয়ে ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়াও ফাঁসীর প্রসঙ্গ নিয়ে কথা বলেন। প্রশ্নকর্তাদের অনেকেও প্রশ্নের আগে বিষয়টি উল্লেখ করেন।
অনির্ধারিত আলোচনায় অংশ নিয়ে তোফায়েল আহমেদ বলেন, শেখ হাসিনা যদি প্রধানমন্ত্রী না হতেন কেউ দুটি বিচার করতো না। একটি বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের এবং অন্যটি যুদ্ধাপরাধীদের। তিনি ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ বাতিল করে প্রথমে বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের বিচার করে ফাঁসি দিয়েছেন। এখন যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করে একে একে রায় কার্যকর করছেন। জাতির পক্ষ থেকে কতৃজ্ঞচিত্তে শেখ হাসিনাকে এজন্য অভিনন্দন জানাই।
শেখ ফজলুল করিম সেলিম বলেন, এই বিচারের মধ্য দিয়ে প্রমাণিত হলো দেশে গণতন্ত্র ও আইনের শাসন নিশ্চিত করার জন্য শেখ হাসিনার বিকল্প নেই। বিদেশীদের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, আপনারা এসব কথা বলে মানবতাবিরোধী অপরাধীদের রক্ষা করতে পারবেন না।
কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে ২০০৯ সালে যে নির্বাচনী ইশতিহার দিয়েছিল তাতে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের অঙ্গীকার ছিল। তিনি সেটি অক্ষরে অক্ষরে পুরণ করেছেন। দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করেছেন।
তথ্য মন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেন, অনেকেই বলার চেষ্টা করছেন, বিরোধী দলকে দমনের চেষ্টা করা হচ্ছে। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে কেউ অপরাধ করে থাকলে তাকে অবশ্যই বিচারের সম্মুখিন হতে হবে। কোনো দায়মুক্তি দিয়ে তাকে রক্ষা করা যাবে না। আদালত যুদ্ধাপরাধীদের যে সাজা দিয়েছে, শেখ হাসিনার সরকার তা কার্যকর করেছে।

No comments:

Post a Comment