মালির
রাজধানী বামাকোর একটি পাঁচ তারকা হোটেলে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার পর
দেশটিতে ১০ দিনের জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট
ইব্রাহিম বৌবাচার কেইটা তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছেন। তিনি আরও
জানিয়েছেন, শুক্রবারের জিম্মি পরিস্থিতিতে দুই হামলাকারীসহ নিহতের সংখ্যা
২১। এর আগে মালির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন মৃতের সংখ্যা ২৭ বলে জানিয়েছিল। এ খবর
দিয়েছে বিবিসি। হামলার দায় স্বীকার করেছে আল কায়েদা সংশ্লিষ্ট জঙ্গিগোষ্ঠী
আল মৌরাবিতুন। শুক্রবার স্থানীয় সময় সকাল ৭টায় রেডিসন ব্লু হোটেলে হামলা
চালায় জঙ্গিরা। তারা হোটেলে অবস্থানরত ১৭০ ব্যক্তিকে জিম্মি করে নেয়। এরপর
মালিয়ান বিশেষ বাহিনী অভিযান শুরু করে। পরে তাদের সঙ্গে যোগ দেয় জাতিসংঘ
শান্তিরক্ষী বাহিনী, ফরাসি ও মার্কিন বিশেষ বাহিনী। দীর্ঘ ৭ ঘণ্টারও বেশি
সময় অভিযানের পর ১৩০ জনকে জিম্মিদশা থেকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়। নিহতদের
মধ্যে চীনের তিন কর্পোরেট নির্বাহীও ছিলেন। দেশটির প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং
ওই হামলাকে নিষ্ঠুর ও বর্বর আখ্যা দিয়েছেন। মার্কিন এক নাগরিকও হামলায় নিহত
হন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বলেন, এ হামলাটি আবারও স্মরণ করিয়ে
দেয় যে, সন্ত্রাসবাদ এখন বহু দেশকে হুমকিতে ফেলেছে। মালির প্রেসিডেন্ট
ইব্রাহিম বৌবাচার কেইটা এ পরিস্থিতিতে চাদ সফর সংক্ষিপ্ত করে দেশে ফিরে
আসেন। তিনি বলেন, তার দেশ সন্ত্রাসবাদের মূলোৎপাটনে সবকিছু করবে। এখনও
নিশ্চিত হওয়া যায়নি হামলায় কতজন বন্দুকধারী অংশ নিয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা
জানিয়েছে ১৩ জন হোটেলে গুলি করতে করতে প্রবেশ করেছে। তবে হোটেল পরিচালনা
কোম্পানি রেজিডোর গ্রুপ জানিয়েছে, মাত্র ২ জন এ হামলার সঙ্গে জড়িত ছিল। আল
কায়েদা সংশ্লিষ্ট সশস্ত্র গ্রুপ আল মৌরাবিতুন হামলার দায় স্বীকার করে
বলেছে, ইমারত আল সাহরা গ্রুপ ও একিউআইএম (আল কায়েদা ইন দ্য ইসলামিক
মাগরিব)-এর সঙ্গে সমন্বয় করে এ হামলা চালিয়েছে তারা। তবে মালিতে উগ্র
সন্ত্রাসবাদের অস্তিত্ব একসময় বেশ জোরালো ছিল। দেশটির বিশাল অংশ একসময়
জঙ্গিদের নিয়ন্ত্রণে ছিল। তবে ২০১৩ সালে ফরাসি বাহিনী জঙ্গিদের নিয়ন্ত্রণে
থাকা বেশির ভাগ অংশই নিজেদের কব্জায় নিতে সক্ষম হয়। কিন্তু এরপরও দেশটিতে
জঙ্গিবাদ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। আগস্টে সন্দেহভাজন বন্দুকধারীদের
গুলিতে নিহত হয় ১৩ জন। এদের মধ্যে ৫ জাতিসংঘ কর্মীও ছিল। মালির কেন্দ্রে
অবস্থিত সেভারে শহরের একটি হোটেলে জিম্মি করে তাদের হত্যা করে জঙ্গিরা।
২০১৩ সালের জানুয়ারিতে নিজেদের সাবেক উপনিবেশ মালিতে হস্তক্ষেপ করে
ফ্রান্স। ওই সময় আল কায়েদা সংশ্লিষ্ট জঙ্গি গোষ্ঠী দেশের উত্তরাঞ্চলের
নিয়ন্ত্রণ নেয়ার পর রাজধানী বামাকোর দিকে অগ্রসর হওয়ার হুমকি দেয়। ২০১৩
সালের জুলাইয়ে দেশটির উত্তরাঞ্চলের প্রধান শহরগুলো পুনরায় নিয়ন্ত্রণে আসার
পর ফরাসি ও আফ্রিকান সৈন্যদের কাছ থেকে মালির নিরাপত্তা পরিস্থিতির দায়িত্ব
গ্রহণ করে জাতিসংঘ বাহিনী।
Subscribe to:
Post Comments (Atom)

No comments:
Post a Comment