Sunday, November 29, 2015

সিসিকের পরিদর্শক হচ্ছেন সহ-প্রকৌশলী

সিলেট সিটি করপোরেশনের সড়কবাতির পরিদর্শক হয়ে গেছেন প্রকৌশলী। যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও তিনি ওই পদে নিয়োগ পাওয়ায় এ নিয়ে তোলপাড় চলছে করপোরেশনে। এইচএসসি পাস সমমানের শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে ১৯৯৫ সালে তৎকালীন সিলেট পৌরসভায় সড়কবাতি পরিদর্শক হিসেবে নিয়োগ পান অরবিন্দ দেব। বিদ্যুৎ শাখায় নিয়োগ পেলেও তিনি এখন সিলেট সিটি করপোরেশনের উপসহকারী প্রকৌশলী (সিভিল)। শিগগিরই তিনি সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) হিসেবে পদোন্নতি পেতে যাচ্ছেন। পদোন্নতি নিয়ে সিলেট সিটি করপোরেশনের এ অনিয়ম নিয়ে কর্মকর্তাদের মধ্যে ক্ষোভ থাকলেও মুখ খুলতে পারছেন না তারা। জানিয়েছেন, বিদ্যুৎ বিভাগে নিয়োগ পেয়ে সিভিল বিভাগের প্রকৌশলী হিসেবে পদোন্নতি পাওয়ার কোন নজির নেই। সিসিক সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৫ সালে সিলেট পৌরসভার সড়কবাতি পরিদর্শক হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর অরবিন্দ দেব ২০০০ সাল পর্যন্ত এক পদেই দায়িত্ব পালন করেন। ২০০০ সালে তৎকালীন সিলেট পৌরসভার সার্ভেয়ার মুজিবুর রহমান নবীগঞ্জ পৌরসভায় বদলি হলে সার্ভেয়ার পদটি শূন্য ছিল। সে সময় ওই শাখায় ভারপ্রাপ্ত সার্ভেয়ার হিসেবে অরবিন্দ দেবকে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেয়া হয়। পরে সড়কবাতি পরিদর্শক হিসেবে চাকরিতে যোগ দেয়ার তথ্য গোপন করে সার্ভেয়ারের দায়িত্ব পালনের বিষয়টি উল্লেখ করে উপসহকারী প্রকৌশলী হিসেবে পদোন্নতির জন্য মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়। ২০১০ সালে তিনি উপসহকারী প্রকৌশলী হিসেবে পদোন্নতি লাভ করেন। চলতি বছরে সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে অরবিন্দ দেবের পদোন্নতির জন্য মন্ত্রণালয়ে আরেকটি প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে, যার স্মারক নং সা: ১/৬৭৯(অংশ-১)/০৩-১৫/১২৫৭-তারিখ-২৮-১০/২০১৫। এ বিষয়ে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমান জানিয়েছেন, ‘পৌরসভা থেকে সিটি করপোরেশনে রূপান্তরের সময় পৌরসভার সব কর্মকর্তাকে সিসিকের কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব দেয়া হয়। তৎকালীন প্রধান নির্বাহীর পরামর্শক্রমে এটি করা হয়েছে বলে জানান তিনি। বিদ্যুৎ শাখা থেকে সিভিল শাখার প্রকৌশলী হিসেবে কীভাবে পদোন্নতি হয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটি যথাযথ বিধি অনুযায়ী স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় দিয়েছে। মন্ত্রণালয় তো বিধির বাইরে কিছু করার কথা নয়।’ সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এনামুল হাবীব জানিয়েছেন, ‘বিষয়টি পৌরসভা থাকাকালীন সময়ের। বর্তমানে অরবিন্দ উপসহকারী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।’ তিনি বলেন, প্রায় ২০ বছর আগের বিষয় এটি। অরবিন্দের পদোন্নতির বিষয়টি যখন বাস্তবায়ন হয়, তখনকার সময় দায়িত্ব পালনকারীরাই ভালো বলতে পারবেন।’ অরবিন্দ দেব বলেন, ‘এ ব্যাপারে আমার কোনো বক্তব্য নেই। আপনারা সিসিকের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করলে সবকিছু জানতে পারবেন।’ ১৯৯৫ সালে ইলেকট্রিক বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত বর্তমানে ইলেকট্রিক শাখার সহকারী প্রকৌশলী রুহুল আলম জানিয়েছেন, ‘আপনাদের জানা তথ্যটি সঠিক। অরবিন্দ সড়কবাতি পরিদর্শক হিসেবেই প্রথমে জয়েন করেন। তবে সার্ভেয়ার বা উপসহকারী প্রকৌশলী হওয়ার মতো শিক্ষাগত যোগ্যতা তার ছিল। তৎকালীন সার্ভেয়ার বদলি হওয়ার পর ইন্টারনাল একটি অর্ডারের মাধ্যমে অরবিন্দকে সার্ভেয়ারের দায়িত্ব দেয়া হয়। পরে তিনি মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেন যে সার্ভেয়ারের চলতি দায়িত্ব তিনি পালন করছেন। তখন লোকাল অথরিটি অরবিন্দকে সাপোর্ট দিলে মন্ত্রণালয় তাকে পদোন্নতি দিয়েছে। ইলেকট্রিক শাখা থেকে সিভিল বিভাগে পদোন্নতি লাভের বিধান আছে কিনা- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, সে ক্ষেত্রে তার শিক্ষাগত যোগ্যতাকে অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে।’

No comments:

Post a Comment