রংপুরে গত মাসে খুন হওয়া জাপানি নাগরিক কুনিও হোশির মূল হত্যাকারী কলকাতায়
লুকিয়ে রয়েছে বলে ভারত ও পশ্চিমবঙ্গ সরকারের গোয়েন্দারা কবুল করেছেন। তবে
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক গেয়েন্দা কর্মকর্তা বলেছেন, কলকাতার বন্দর
এলাকায় সে লুকিয়ে রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। তার খোঁজে গোয়েন্দারা বন্দর
এলাকার দুটি জায়গাকে চিহ্নিত করে অভিযান শুরু করেছেন। কলকাতার পুলিশ প্রধান
এ কথা স্বীকার করেছেন। তবে তিনি অভিযান নিয়ে বিস্তারিত কোনও তথ্য জানাতে
অস্বীকার করেছেন। গোয়েন্দারদের স্থানীয় ইনফরমারদেরও ঐ ব্যাক্তির সম্পর্কে
তথ্য জানানোর জন্য কাজে লাগানো হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে মূল অভিযুক্ত
হিসেবে যাকে চিহ্নিত করার চেষ্টা হচ্ছে তার নাম গোপন রাখা হয়েছে। অবশ্য
বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল কয়েকদিন আগে ভারতের
হিন্দু পত্রিকাকে জানিয়েছিলেন যে, কুনিও হত্যাকান্ডের সঙ্গে জড়িত দুই জন
ঘাতক সীমান্ত পাড়ি দিয়ে ভারতে পালিয়ে গেছে। বাংলাদেশ অবশ্য ইতিমধ্যেই এদের
ব্যাপারে গোয়েন্দা তথ্য তুলে দেয়া হয়েছে। সম্প্রতি ঢাকায় অনুষ্ঠিত দুই
দেশের স্বরাষ্ট্র সচিব পর্যায়ের বৈঠকে ভারতে পালিয়ে থাকা যে ২০৪ জন জঙ্গি ও
সন্ত্রাসীর নাম ভারতের হাতে তুলে দেয়া হয়েছে তার মধ্যে জাপানি নাগরিকের
হত্যাকারীর নামও রয়েছে বলে ভারতীয় গোয়েন্দা সুত্রে জানানো হয়েছে।
গোয়েন্দারা জানিয়েছেন, তাদের কাছে খবর রয়েছে যে জাপানি নাগরিক হত্যার মূল
অভিযুক্ত কলকাতার বন্দর এলাকার কোথাও লুকিয়ে রয়েছে। তার সম্পর্কে
সুনির্দ্দিষ্ট তথ্য পাবার পরেই তাকে ধরার জোর চেষ্টা চলছে বলে জানানো
হয়েছে। কলকাতার বন্দর এলাকা ৯টি থানা নিয়ে গঠিত। বর্ধমানের খাগড়াগড়
বিস্ফোরণে অভিযুক্ত শাকিল গাজি দীর্ঘদিন বন্দর এলাকাতেই আস্তানা গেড়েছিলেন।
ভারতের জাতীয় গোযেন্দা সংস্থা এনআইয়ের কর্তারা আগেই জানিয়েছেন যে, জেএমবি
জঙ্গীরা ইতিমধ্যেই পশ্চিমবঙ্গসহ ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে জাল বিস্তার করেছে।
তবে জঙ্গীদের সম্পর্কে ভারত ও বাংলাদেশের গোয়েন্দারা তথ্য আদান প্রদানের
মাধ্যমে সমন্বয় রেখে কাজ করছেন।
Subscribe to:
Post Comments (Atom)

No comments:
Post a Comment