যুক্তরাষ্ট্রের
বাজারে বাংলাদেশী পণ্যের শুল্কমুক্ত সুবিধা চেয়েছেন ঢাকার প্রতিনিধিরা।
একই সঙ্গে তারা ট্রান্স-প্যাসেফিক পার্টনারশিপ বা টিপিপি’র বিষয়ে উদ্বেগ
প্রকাশ করেছেন। সোমবার ওয়াশিংটনে ইউএসটিআর অফিসে অনুষ্ঠিত
বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট কো-অপারেশন ফোরাম
এগ্রিমেন্ট’ (টিকফা) দ্বিতীয় বার্ষিক কাউন্সিল বৈঠকে বাণিজ্যের জন্য
গুরুত্বপূর্ণ ওই দুটি বিষয় নিয়ে কথা হয়। রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা বাসস এ
নিয়ে যে রিপোর্ট করেছে সেখানে বলা হয়েছে- বৈঠকে সাসটেইনিবিলিটি কম্প্যাক্ট
এবং জেনারেলাইজড সিস্টেম (জিএসপি) অ্যাকশন প্লান বাস্তবায়নে বাংলাদেশের
অর্জনের প্রশংসা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বৈঠকে বাংলাদেশে বিপুল সম্ভবনার কথা
উল্লেখ করে এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে দেশটির বিনিয়োগকারীরা এগিয়ে আসবে বলে
যুক্তরাষ্ট্রের তরফে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে। বৈঠকে শ্রমিকের অধিকার,
সাসটেইনিবিলিটি কম্প্যাক্ট ও জিএসপি অ্যাকশন প্লান, বাংলাদেশে বিনিয়োগ
পরিবেশ, ট্রান্সফরমেশন অব বাংলাদেশ, বাজার সুবিধা, দায়িত্বশীল ব্যবসায়িক
আচরণ, ইস্তাম্বুল প্রোগ্রাম অব অ্যাকশন, বালি প্যাকেজ, ন্যায্যমূল্য,
টিপিপি, ব্লু-ইকোনমি, অবকাঠামো ইত্যাদি বিষয়ে ব্যাপকভিত্তিক আলোচনা
অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ পক্ষ শ্রমিকের অধিকার, সাসটেইনিবিলিটি কম্প্যাক্ট ও
জিএসপি অ্যাকশন প্লান বাস্তবায়নে অর্জিত অগ্রগতি তুলে ধরেন। তারা হংকংয়ে
মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকের ঘোষণা এবং বালিতে ডব্লিউটিও মন্ত্রী পর্যায়ের
বৈঠকে গৃহীত বালি প্যাকেজ অনুযায়ী বাংলাদেশী পণ্যে শুল্কমুক্ত ও কোটামুক্ত
(ডিএফকিউএফ) সুবিধা প্রদানের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানান। এ
প্রসঙ্গে তারা আফ্রিকান গ্রোথ অ্যান্ড অপারচুনিটি অ্যাক্টের (এজিওএ) কারণে
আফ্রিকান এলডিসি ও বাংলাদেশসহ এশিয়ান এলডিসির মধ্যে বৈষম্যের কথা তুলে
ধরেন। বাংলাদেশের পক্ষ পক্ষ থেকে টিপিপির ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ বলা হয়-
এর ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও টিপিপিভুক্ত অপর কয়েকটি দেশে বাংলাদেশের রপ্তানির
ওপর বিরূপ প্রভাব পড়েছে। পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপনায় বাংলাদেশ পক্ষ গত কয়েক
বছরে বাংলাদেশে বিদেশী বিনিয়োগের জন্য ক্ষেত্র প্রস্তুতের চিত্র তুলে ধরা
হয়। তারা সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি, মধ্যবিত্ত
শ্রেণীর বিকাশ, এফডিআইয়ের জন্য রাজস্ব ও আর্থিক ও নন-আর্থিক ইনসেনটিভ এবং
বিশেষ অর্থনৈতিক জোনের মাধ্যমে বাংলাদেশে উপযুক্ত বিনিয়োগ পরিবেশ সৃষ্টির
কথা তুলে ধরেন। বৈঠকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব হেদায়েতুল্লাহ আল
মামুন বাংলাদেশ পক্ষের নেতৃত্ব দেন। প্রতিনিধি দলে পররাষ্ট্্র সচিব শহীদুল
হক, শ্রম ও কর্মসংস্থান সচিব মিকাইল শিপারসহ বাণিজ্য ও পররাষ্ট্র
মন্ত্রণালয় এবং ওয়াশিংটনস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তারা ছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে নেতৃত্ব দেন যুক্তরাষ্ট্রের সহকারী বাণিজ্য প্রতিনিধি
মিশেল ডিলানি। সেখানে টিকফার আগামী বৈঠক ঢাকায় আয়োজনের সিদ্ধান্ত হয়েছে।
২০১৩ সালের ২৫শে নভেম্বর বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র টিকফা চুক্তিতে স্বাক্ষর
করে। দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগের বাধাসমূহ দূর করতে দুই দেশ এই চুক্তি
স্বাক্ষর করে। ২০১৪ সালে ঢাকায় টিকফার প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।পররাষ্ট্র
সচিবের উপস্থিতিতে মার্কিন মন্ত্রীর উচ্ছ্বাস: এদিকে টিকফার বৈঠকে
পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হকের উপস্থিতিতে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন
যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক উপসহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিশা দেশাই
বিসওয়াল। ওই বৈঠকে তিনি উপস্থিত না থাকলেও ব্যক্তিগত টুইট বার্তায় তিনি
লেখেন, ‘এই শহরে (ওয়াশিংটনে) সেক্রেটারি হককে টিকফা আলোচনায় আসতে দেখে আমি
আনন্দিত। বাংলাদেশের সঙ্গে অংশীদারিত্ব শক্তিশালী করতে আমরা আলোচনা করছি
Subscribe to:
Post Comments (Atom)

No comments:
Post a Comment