রাজধানীর পৃথক স্থানে অভিযান চালিয়ে জঙ্গি সংগঠন জামা’আতুল মুজাহেদিন
বাংলাদেশের (জেএমবি) পাঁচ জঙ্গিকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা
পুলিশ (ডিবি)। গ্রেপ্তারকৃতরা হলো- চান মিয়া, ওমর ওরফে মানিক, শাহ জালাল,
কবীর হোসেন ও হাফেজ আহসান উল্লাহ মাহমুদ। পুলিশ জানিয়েছে , গ্রেপ্তারকৃতরা
হোসনি দালানে বোমা হামলা, সাভারে ব্যাংক ডাকাতি ও আশুলিয়ায় চেকপোস্টে পুলিশ
হত্যার সঙ্গে জড়িত। গ্রেপ্তারকৃত একজনের দেয়া তথ্যমতে, ডিবি পুলিশের একটি
দল দারুসসালাম এলাকার বালুর মাঠে অভিযান চালায়। এসময় পুলিশের উপস্থিতি টের
পেয়ে জঙ্গিদের অপর সদস্যরা গুলি করে। পুলিশও পাল্টা গুলি চালালে জেএমবির
সামরিক কমান্ডার আলবানি ওরফে হোজ্জা ভাই ওরফে মেম্বার ভাই ওরফে শাহাদাত
ওরফে মাহফুজ আহত হয়। পরে ঢাকা মেডিকেলে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে
মৃত ঘোষণা করেন। গতকাল সকালে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে
এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়।সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মহানগর
ডিবি পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মো. মনিরুল ইসলাম জানান, বুধবার রাত থেকে গতকাল
ভোর পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে রাজধানীর মিরপুর, আবদুল্লাহপুর ও কামরাঙ্গীচর
এলাকায় অভিযান চালিয়ে জেএমবির সক্রিয় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের তথ্যমতে, দারুস সালাম এলাকার দ্বীপনগর বালুর মাঠ
এলাকায় অভিযান পরিচালনাকালে বুধবার রাতে জেএমবির সামরিক শাখার প্রধান
আলবানি ওরফে মাহফুজ পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে মারা যায়। এসময় ঘটনাস্থল
থেকে ১টি পিস্তল, ২টি ম্যাগাজিন, ১২ রাউন্ড গুলি, ১টি চাকু ও ১ মোটর সাইকেল
উদ্ধার হয়। তিনি আরও জানান, পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত মাহফুজ ও
রাশেদ ওরফে আশিক লালবাগের হোসইনী দালানে বোমা হামলার সঙ্গে সরাসরি
সম্পৃক্ত। এছাড়া আশুলিয়ার বাড়ৈপাড়া চেকপোস্টে কনস্টেবল মকুল হত্যা মামলার
প্রধান আসামি ছিল মাহফুজ। গ্রেপ্তারকৃতরা বেশ কিছুদিন ধরে ঢাকা ও এর
আশপাশের এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে জেএমবির সাংগঠনিক কাজ করে আসছিল। চাঁনমিয়া,
ওমর ফারুক ওরফে মানিক, শাহজালাল ও আহসান উল্লাহ মাহমুদ বিভিন্ন উৎস থেকে
অর্থ সংগ্রহ করতেন। বিভিন্ন ধরনের জঙ্গি প্রশিক্ষণ ও একাধিক স্থানে হামলার
তাদের পরিকল্পনা ছিল। তিনি আরও জানান, আশুলিয়ার ব্যাংক ডাকাতিতে
নেতৃত্ব দিয়েছিল জেএমবির অন্যতম নেতা শাহদাৎ। জেএমবির নেটওয়ার্ক
চূর্ণবিচূর্ণ হওয়ার কারণে তাদের অর্থ সংগ্রহে ভাটা পড়ে। এজন্য তারা ওই
ডাকাতি করেছে বলে ডিবিপুলিশের কাছে স্বীকারোক্তি দিয়েছে। জঙ্গিদের এমন
কর্মকাণ্ডে দেশী ও আন্তর্জাতিক কোনো চক্রের মদদ আছে কি না সাংবাদিকদের এমন
প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, এরা এসব কর্মকাণ্ড করে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী
সংগঠনের কাছে একটি বিশেষ বার্তা পাঠাতে চায় যে, তাদের অনুসারীরা বাংলাদেশে
আছে। তারা একাধিক ‘সুইসাইড স্কোয়াড’ গঠন করেছে। কিছু ক্ষুদ্রাস্ত্র সংগ্রহ
করেছে। তারা ওই সব কর্মকাণ্ড করে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোর কাছ
থেকে ফান্ড সংগহ করার চেষ্টা করে। বর্তমানে যারা জেএমবিতে যোগ দিচ্ছে তারা
অধিকাংশ ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মী। বয়সে তরুণ। তবে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর
নজরদারির কারণে তাদের ওই সব পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। গ্রেপ্তারকৃতরা ব্লগার
হত্যাকাণ্ডে র সঙ্গে জড়িত কি না অপর একটি প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, তারা
ব্লগার হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নয়। সংবাদ সম্মেলনে এ সময় অন্যানের মধ্যে
উপস্থিত ছিলেন, ডিসি ডিবি (পূর্ব) মাহবুবে আলম, ডিসি ডিবি (দক্ষিণ) মো.
মাশরুকুর রহমান খালেদ, ডিসি ডিবি (পশ্চিম) সাজ্জাদুর রহমান, ডিসি (মিডিয়া)
মো. মুনতাসির আলম ও ডিবির এডিসি (দক্ষিণ) ছানোয়ার হোসেন প্রমুখ।এদিকে
পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত জেএমবির সামরিক কমান্ডার আলবানি ওরফে
হোজ্জা ভাই ওরফে মেম্বার ভাই ওরফে শাহাদাত ওরফে মাহফুজের লাশ ঢাকা মেডিকেল
কলেজ হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। গতকাল বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে এক ব্যক্তি ও এক
নারী এসে নিহত মাহফুজের সম্পর্কে খোঁজখবর নেয়। কিন্তু তারা সাংবাদিকদের
নিজেদের পরিচয় ও নিহতের সম্পর্কে তাদের কী সম্পর্ক তা বলেননি। দারুসসালাম
থানার ওসি সেলিমুজ্জামান জানান, নিহতের কোনো আত্মীয়স্বজন তাদের সঙ্গে
যোগাযোগ করেনি।
Subscribe to:
Post Comments (Atom)

No comments:
Post a Comment