বগুড়ার শিবগঞ্জে শিয়া মসজিদে গুলি চালিয়ে মুয়াজ্জিনকে হত্যা করেছে
দুর্বৃত্তরা। গুলিতে আহত হয়েছেন ইমামসহ তিনজন। তাদের মধ্যে ইমাম শাহিনুর
রহমানকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ
হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গতকাল মাগরিবের নামাজের পর এশার নামাজের
প্রস্তুতি নেয়ার সময় এ হামলার ঘটনা ঘটে। শিয়া সম্প্রদায় মাগরিব ও এশার
জামায়াত একসঙ্গে আদায় করেন। ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তবে রাতে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কাউকে আটক করা
যায়নি। কেন এই হামলার ঘটনা ঘটেছে এ বিষয়েও স্পষ্ট কোন তথ্য মিলেনি। এর আগে
মহররমের তাজিয়া মিছিল বের করার প্রস্তুতির সময় ঢাকার হোসেনী দালান এলাকায়
বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় দুই জনের মৃত্যু হয়। তাজিয়া মিছিলের চারশ’ বছরের
ইতিহাসে এবারই প্রথম এ ধরনের হামলার ঘটনা ঘটে। এ হামলার পর আইএস এর দায়
স্বীকার করে বিবৃতি দেয়। যদিও পুলিশ এ ঘটনায় কয়েকজনকে আটকের কথা জানায় যারা
জেএমবি সদস্য বলে তাদের দাবি। পাবনা, দিনাজপুর ও রংপুরে খ্রিষ্টান
ধর্মযাজকদেরও ওপর কয়েকটি হামলার ঘটনা ঘটেছে সম্প্রতি। গতকালও রংপুরে ১১
খ্রিষ্টান পাদরিকে হত্যার হুমকি দিয়ে উড়ো চিঠি দেয়া হয়েছে। এ রকম
পরিস্থিতিতে গতকাল মসজিদে হামলার ঘটনা ঘটলো। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ঐ
এলাকার হুমায়ূন জানান, শিয়া সমপ্রদায় মাগরিব ও এশার নামাজ একই সঙ্গে পড়েন।
তারা সবাই মাগরিবের নামাজ শেষ করে এশার নামাজ শুরু করতে প্রস্তুতি
নিচ্ছিলেন। এ সময় হঠাৎ চারটি গুলির শব্দ হয়। চারজন গুলিবিদ্ধ হয়ে মেঝেতে
লুটিয়ে পড়েন। এরপর আতঙ্কে তারা মসজিদে দৌড়াদৌড়ি শুরু করেন। তাদের মধ্যে
ইমাম শাহিনুরের কোমরে, আফতাব আলী ও আবু তাহেরের পায়ে গুলি লাগে। প্রত্যক্ষদর্শীরা
জানায়, হামলাকারী ৩ জন যুবকের এক জন টুপি-পাঞ্জাবি পরা এবং অপর ২ জন চেক
শার্ট-প্যান্ট পরা ছিল। কোন কিছু বুঝে ওঠার আগেই এলোপাতাড়ি গুলি চালিয়ে
প্রাচীর টপকে মাঠের মধ্য দিয়ে পালিয়ে যায়। আহত মুসল্লিদের উদ্ধার করে
হাসপাতালে নেয়া হয়। গুরুতর আহত মুয়াজ্জিন মোয়াজ্জেম হোসেন ও ইমাম শাহিনুর
রহমানকে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পর চিকিৎসক
মোয়াজ্জেমকে মৃত ঘোষণা করেন। শাহিনুর রহমানের অবস্থাও আশঙ্কাজনক বলে
জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। মুসল্লি তাহের মিস্ত্রি (৫০) ও আফতাব আলী (৪০)কে
শিবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।নিহত মোয়াজ্জেম
হোসেনের চাচা উকিল মিয়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি
বিভাগে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, এখানে শিয়া-সুন্নির কোন দ্বন্দ্ব ছিল না।
কখনই কারও সঙ্গে মসজিদ নিয়ে বিরোধ ছিল না। হঠাৎ নির্বিচারে গুলি করার ঘটনায়
আমরা হতবাক। যখন সবাই মাগরিবের নামাজের সিজদায় ছিল তখনি গুলি বর্ষণের
ঘটনাটি ঘটে। এর আগে বেনামে হুমকি দেয়া হয়েছিল। গতকাল প্রায় ত্রিশজন মুসল্লি
সেখানে নামাজ আদায় করছিলেন। তখনি ঘটনাটি ঘটে। এ ধরনের ঘটনায় আমরা হতভম্ব। একই
কথা বলেন মেহেদী হাসান, রবিউল ইসলাম, হুমায়ূন আলীসহ বেশ কয়েকজন। শিবগঞ্জ
থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আহসান হাবিব বলেন, সেখানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী
বাহিনীর বিপুলসংখ্যক সদস্য উপস্থিত হয়েছেন। মসজিদের মেঝেতে ছোপ ছোপ রক্ত।
মসজিদের কয়েকটি স্তম্ভে গুলির ছিদ্র দেখা গেছে। ঘটনাস্থল থেকে কয়েকটি
গুলির খোঁসা উদ্ধার হয়েছে। এ ঘটনায় রাতেই বগুড়া জেলা প্রশাসক আশরাফ উদ্দিন,
পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বলেন, এটা
দুর্বৃত্তদের হামলা। জড়িতদের গ্রেপ্তার ও শাস্তি নিশ্চিত করারও আশ্বাস দেন
তারা।
Subscribe to:
Post Comments (Atom)

No comments:
Post a Comment