গ্রামীণ ব্যাংককে আরও ৫ বছরের জন্য কর অব্যাহতি দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। সমপ্রতি এনবিআরের বোর্ডসভায় সর্বসম্মতিক্রমে
২০২০ সাল পর্যন্ত ব্যাংকটিকে সব ধরনের কর থেকে অব্যাহতি দেয়ার সিদ্ধান্ত
হয়। চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য এর সারসংক্ষেপ শিগগিরই অর্থমন্ত্রীর কাছে
পাঠানো হবে বলে এনবিআর সূত্রে জানা গেছে। চলতি বছরের ৩১শে ডিসেম্বর গ্রামীণ
ব্যাংকের কর অব্যাহতি সুবিধার মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা। এ মেয়াদ ২০২০ সাল
পর্যন্ত বাড়ানোর বিষয়ে সম্প্রতি ব্যাংকটির পক্ষ থেকে আবেদন করা হলে
এনবিআরের বোর্ডসভায় তা উত্থাপন করা হয়। গ্রামীণ ব্যাংকের আবেদনে বলা হয়,
বর্তমানে তাদের ২ হাজার ৫৬৮টি শাখা রয়েছে। এগুলোর মাধ্যমে দেশের ৮১ হাজার
৩৯০টি গ্রামে প্রায় ৮৬ লাখ ৫৪ হাজার সদস্যের মাঝে ক্ষুদ্রঋণ বিতরণ করা
হচ্ছে। এ কর্মসূচির আওতায় সদস্য পরিবারের লোকসংখ্যা ৫ কোটির বেশি, যা দেশের
মোট জনগোষ্ঠীর প্রায় এক-তৃতীয়াংশ। গ্রামীণ ব্যাংক বছরে প্রায় ১৩ হাজার ৫০০
কোটি টাকা ঋণ বিতরণ করছে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়। কর অব্যাহতি দেয়া হলে
বিপুলসংখ্যক শেয়ারহোল্ডারকে লভ্যাংশ দেয়া সম্ভব হবে বলে আবেদনে জানানো হয়।
যোগাযোগ করা হলে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা বলেন, হ্যাঁ যা শুনেছেন তা সত্যি।
বোর্ডসভায় অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এর বেশি মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি। নিয়ম
অনুযায়ী, অর্থমন্ত্রীর অনুমোদনের পর আইনগত ভিত্তি খতিয়ে দেখতে বিষয়টি
যাচাই-বাছাইয়ের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। আইন মন্ত্রণালয়ের
অনাপত্তি পেলে চূড়ান্তভাবে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে। যেদিন প্রজ্ঞাপন জারি
করা হবে, ওইদিন থেকেই পরবর্তী ৫ বছরের জন্য কর অব্যাহতি সুবিধা পাবে
গ্রামীণ ব্যাংক। গ্রামীণ ব্যাংক কর অঞ্চল-১৪-এর কর সার্কেল-২৮৭
অধিক্ষেত্রভুক্ত করদাতা। করদাতা শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) ০৭০-২০০-১৮৮৪।
২০১২-১৩ করবর্ষে প্রতিষ্ঠানটির মোট আয় নিরূপণ করা হয়েছে ৩৬৫ কোটি ৩১ লাখ
টাকা। এ কর অব্যাহতির ফলে ২০২০ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত গ্রামীণ ব্যাংকের যে
কোন আয়ের ওপর আরোপনীয় আয়কর, সুপারট্যাক্স বা ব্যবসায়িক মুনাফা করের
আওতামুক্ত থাকবে। এর আগে এসআরওর মাধ্যমে ২০১১ সালের ১লা জানুয়ারি থেকে চলতি
বছরের ৩১শে ডিসেম্বর পর্যন্ত কর অব্যাহতি দেয় এনবিআর।
Subscribe to:
Post Comments (Atom)

No comments:
Post a Comment