Wednesday, November 25, 2015

ইতিহাস হয়ে যাচ্ছে নাজিমউদ্দিন রোড

বন্দিদের চাপ সামাল দিতে তড়িঘড়ি কেরানীগঞ্জের রাজেন্দ্রপুরে স্থাপিত ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার উদ্বোধন করতে যাচ্ছে কারা কর্তৃপক্ষ। আগামী ১২ই ডিসেম্বর কারাগারটি উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর পরই তা বন্দিদের রাখার জন্য খুলে দেয়া হবে। এটি উদ্বোধনের পর পরই পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডে ১৭৮৮ সালে তৈরি হওয়া কারাগার চলে    ইতিহাসের পাতায়। কারা কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, উদ্বোধনের পর পরই অর্থাৎ ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে কেরানীগঞ্জের রাজেন্দ্রপুরে স্থানান্তর করা হবে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার স্থানান্তরের সময় বন্দি নারীদের গাজীপুরের কাশিমপুর মহিলা কারাগারে নেয়া হবে। পরে তাদের কেরানীগঞ্জে নতুন কারা ভবনে আনা হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের তেঘরিয়া ইউনিয়নের রাজেন্দ্রপুরে ১৯৪ একরের বেশি জমিতে তৈরি হয়েছে নতুন কারাগার। এর মধ্যে ৩০ একর জমিতে বন্দিদের জন্য ভবনের নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। এসব ভবনে চার হাজার পুরুষ ও আলাদা ভবনে ২০০ নারী বন্দির ধারণক্ষমতা রয়েছে। তবে আট হাজারের মতো বন্দি থাকতে পারবে। বর্তমান ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের বন্দি ধারণক্ষমতা ২ হাজার ৮২৬, আছেন ৭ হাজার ৩০০ জন। এ কারাগারে ১৬০ নারী বন্দি আছেন। নতুন এ কেন্দ্রীয় কারাগারটি বুড়িগঙ্গা প্রথম সেতু থেকে পাঁচ কিলোমিটার দূরে ঢাকা-মাওয়া সড়কের বাঁ পাশে রাজেন্দ্রপুরে এর অবস্থান। এর ভেতরে রয়েছে আটটি ছয় তলা ভবন। প্রতিটি ভবন অন্তত ছয় ফুট উচ্চতার আলাদা সীমানা দেয়ালে ঘেরা। প্রতিটি ভবনের মেঝেতে ছয়টি করে বড় বড় কক্ষ রয়েছে। এ ছাড়া সীমানাপ্রাচীরের বিভিন্ন স্থানে ৪০ ফুট উঁচু চারটি পর্যবেক্ষণ টাওয়ার রয়েছে। ওই টাওয়ার থেকে পুরো কারাগারের চিত্র দেখা যাবে। দুর্র্ধষ জঙ্গি-সন্ত্রাসীদের রাখার জন্য চারটি চার তলা কারা ভবন (ডেঞ্জার সেল) নির্মাণকাজ শেষপর্যায়ে রয়েছে। ডেঞ্জার সেলের তিন নম্বর ভবনের সীমানাপ্রাচীরের ভেতরে টিনশেডের একতলা ফাঁসির মঞ্চ নির্মাণ করা হয়েছে। এর দক্ষিণে ওয়ার্কশপ, লন্ড্রি, সেলুন, গুদাম ও গম থেকে আটা তৈরির কারখানা তৈরি করা হয়েছে। এ কারাগারটিতে ১০০ কিশোর বন্দি ও ৩০ জন মানসিক ভারসাম্যহীন বন্দিকে রাখার উপযোগী আলাদা সেলের নির্মাণ শেষ হয়েছে। বন্দিদের ভবনের সীমানাপ্রাচীরের পাশে তাদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতাল নির্মাণ করা হয়েছে। এ ছাড়া কারাগার চত্বরে এক হাজার কারারক্ষী থাকার উপযোগী ব্যারাক নির্মাণ করা হয়েছে। কারাগারের বাইরে কারা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পরিবারের জন্য আলাদা ভবন, অফিসার্স ক্লাব, স্টাফ ক্লাব, স্কুল, মসজিদ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ সভার জন্য মিলনায়তন নির্মাণ করা হয়েছে। এসব নির্মাণকাজ চলছে দ্রুতগতিতে। এদিকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার কেরানীগঞ্জে স্থানান্তর হলে বর্তমানের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের স্থানে স্থাপিত হবে নতুন একটি পার্ক। হবে মিনি একটি প্রাণী জাদুঘর। পার্কের মধ্য দিয়ে তৈরি করা হবে স্বচ্ছ পানির লেক। কারা সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার কেরানীগঞ্জে স্থানান্তরিত হওয়ার পর বর্তমানের কারাগার থেকে পর্যায়ক্রমে সব বন্দিকে সেখানে সরিয়ে নেয়া হবে। তখন পুরনো ভবনকে ভেঙে ফেলা হবে। এরপর কারাগারের ডান পাশে এবং বাম পাশে থাকা তিনটি ছোট পুকুর ভরাট করা হবে। চারদিকে গাছ লাগানো হবে। তবে ভেতরের অংশ যেন বেশি সংকুচিত না হয় এজন্য ভেতরে কম গাছ লাগানো হবে। পার্কে কৃত্রিম উপায়ে ঘাস লাগানো হবে। কারাগারের পেছনে ডানপাশে দোতলা একটি মিনি প্রাণী জাদুঘর তৈরি করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তবে সেটি বড় হবে না। চার থেকে পাঁচ কক্ষের। তবে কারাগারের জাতীয় চার নেতার স্মৃতিবিজড়িত সেল জাদুঘর হিসেবে রাখার চিন্তা রয়েছে।

No comments:

Post a Comment