Wednesday, November 25, 2015

দলীয় মনোনয়ন পেতে দৌড়ঝাঁপ

বেলকুচিতে মেয়র ও কাউন্সিলর পদে সম্ভাব্য প্রার্থীরা প্রচারণা শুরু করেছেন। বিশেষ করে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির প্রার্থীরা দলীয় মনোনয়ন পেতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। তবে বিএনপির প্রার্থীরা নির্বাচনের পরিবেশ ও দলীয় নেতাকর্মীদের আটক করে হয়রানি করার অভিযোগ এনে বলেছেন, দলীয় সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে আছি। কেন্দ্র থেকে যে সিদ্ধান্ত আসবে সেভাবেই কাজ হবে। ওদিকে বেলকুচির পাড়া, মহল্লা, রাস্তাঘাট সহ সর্বত্র ডিজিটাল ব্যানার, ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে। দলীয় মনোনয়ন পেতে অনেকে কৌশলে নানা ধরনের প্রচারণা চালানোর পাশাপাশি শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন।২০০৪ সালে ৯টি ওয়ার্ড নিয়ে বেলকুচি পৌরসভা গঠিত হয়। এই পৌরসভায় প্রায় ৬০ হাজার ভোটার রয়েছে। ২০১০ সালে এই পৌরসভায় প্রথম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এর আগের ৬ বছর প্রশাসক দিয়ে পৌরসভা পরিচালনা করা হয়েছে। ২০১০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের আলহাজ মফিজ উদ্দিন খান লাল বিএনপির আব্দুর রাজ্জাক মণ্ডলকে সামান্য ভোটে পরাজিত করে মেয়র পদে নির্বাচিত হন। ভোটাররা বলছেন, এবারের নির্বাচনে একজন সঠিক ব্যক্তিকে মেয়র হিসেবে দেখতে চাই। আওয়ামী লীগ বা বিএনপি নয়, যে পৌরসভার উন্নয়ন করতে পারবে বলে পৌরবাসী মনে করবে তাকেই ভোট দেয়া হবে। বেলকুচি উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও ৪নং দৌলতপুর ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান বেগম আশানুর বিশ্বাস এবারের পৌর নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে মেয়র হিসেবে নির্বাচন করার জন্য চেষ্টা করে যাচ্ছেন। ইতিমধ্যে তিনি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নমিনেশন পেয়েছেন।তিনি বলেন, রায়দৌলতপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হিসেবে তিনি উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। একই সঙ্গে তিনি দলের নেতা হিসাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।বেলকুচি পৌর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ  সম্পাদক ও সাবেক ভিপি, উপজেলা যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মীর সেরাজুল ইসলামও এবারের পৌর নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নমিনেশনের আশায় কাজ করছেন।বিশিষ্ট শিল্পপতি ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান রতনও আওয়ামী লীগের নমিনেশন পেতে মরিয়া। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় সমর্থন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে পরে তিনি ভোটবর্জন করেন। উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, বেলকুচি ডিগ্রি কলেজের প্রথম ভিপি ফজলুল হক সরকারও আওয়ামী লীগের নমিনেশনে নির্বাচন করার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছেন।তিনি জানান, দলীয় সমর্থন পেলে পৌরসভায় মেয়র পদে নির্বাচন করবেন।এদিকে বিএনপিরও একাধিক নেতা দলীয় মনোনয়ন পেতে কাজ করে যাচ্ছেন। তবে সবার থেকে উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক মণ্ডল দলীয় মনোনয়নে অনেকটাই এগিয়ে। গত পৌর নির্বাচনে স্বল্প ভোটে আওয়ামী লীগ প্রার্থী মফিজ উদ্দিন লাল খানের কাছে পরাজিত হন। এবার দলীয় মনোনয়ন পেলে নির্বাচিত হবেন বলেও অনেকে মনে করছেন। তিনি বলেন, পৌরসভার নির্বাচনের ঘোষণার পর থেকেই বিএনপির ওপর নির্যাতনের মাত্রা বেড়েছে। অনেক নেতাকর্মীকে আটক করা হয়েছে। নেতাকর্মীদের জেলে রেখে নির্বাচন করা সম্ভব নয়। এদিকে দলও এখন পর্যন্ত কোন সিদ্ধান্ত নেয়নি। দল যদি নির্বাচনে আসে ও তাকে দলীয় মনোনয়ন দেয়া হয় ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে নির্বাচনে তিনি জয়লাভ করবেন বলে আশা রাখেন।উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মনোয়ার চৌধুরী বাবুও বিএনপি দলীয় মনোনয়ন পেতে আগ্রহী। একই সঙ্গে উপজেলা বিএনপির সাবেক প্রচার সম্পাদক আলতাফ হোসেন প্রামানিক  ও পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম মজনু খানও দলীয় সমর্থন পেতে কাজ করে যাচ্ছেন।
আগামী পৌর নির্বাচনে বেলকুচিতে একটি হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীর মধ্যে।

No comments:

Post a Comment