Monday, November 30, 2015

সিলেটে ৩ পৌরসভায় আওয়ামী লীগের প্রার্থী হতে মাঠে ১৭ নেতা

সিলেটের তিন পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ১৭ নেতা মেয়র পদে লড়াইয়ে নেমেছেন। তাদের ঘিরে বিভক্তি দেখা দিয়েছে দলে। অনেক স্থানে মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছেন নেতারা। সবাই দলের মনোনয়ন চান। আর মনোনয়নকে কেন্দ্র করে ভোটারের কাছাকাছি থাকার চেয়ে এ মুহূর্তে লবিংয়ে ব্যস্ত প্রার্থীরা। কেউ জেলায়, কেউ কেন্দ্রে চালাচ্ছেন লবিং। এদিকে, পৌর নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গঠিত সিলেট আওয়ামী লীগের প্রতিনিধিদল গতকাল থেকে তিন পৌরসভা সফর শুরু করেছেন। সফরকালে জেলা নেতারা ঘোষণাকারী মেয়র প্রার্থীদের সঙ্গে বৈঠক করছেন। সিলেট জেলার গোলাপগঞ্জ, কানাইঘাট ও জকিগঞ্জ পৌরসভায় এবার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। তিনটি পৌরসভায় আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে মেয়র পদে তিন জনকে মনোনয়ন দেয়া হবে। কিন্তু ১৭ জন প্রার্থী ইতিমধ্যে প্রার্থিতা ঘোষণা করে মাঠে সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। তারা সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত চালাচ্ছেন প্রচারণা। এজন্য প্রতিটি পৌরসভায়ই প্রার্থীদের পক্ষে নেতা-কর্মীরা হয়ে পড়ছেন বিভক্ত। সিলেটের গোলাপগঞ্জ পৌরসভায় মনোনয়ন প্রত্যাশী হয়ে মাঠে রয়েছেন বর্তমান মেয়র, উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক জাকারিয়া আহমদ পাপলু। তবে, তার সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমেছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক ও সাবেক পৌর প্রশাসক সিরাজুল জব্বার চৌধুরী, যুবলীগ নেতা আমিনুল ইসলাম রাবেল ও জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য সৈয়দ মিসবাহ উদ্দিন। গতকাল সকালে সিরাজুল জব্বার চৌধুরী মানবজমিনকে জানিয়েছেন, তিনি গোলাপগঞ্জ আওয়ামী লীগের ত্যাগী নেতা। এ ছাড়া পৌরসভার প্রশাসক ছিলেন। এবার দল তাকেই মনোনয়ন দেবে। এবং জনগণ তার সঙ্গে রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। অপর মেয়র প্রার্থী আমিনুল ইসলাম রাবেল জানিয়েছেন, কোনো দুর্নীতিবাজকে মানুষ আর ক্ষমতায় রাখতে চায় না। মানুষ পরিবর্তন চায়। আর বিষয়টি আওয়ামী লীগের জেলার নেতারা বুঝতে পারছেন। সুতরাং যারা ত্যাগী নেতা তাদেরকেই করতে হবে নৌকার মাঝি। সিলেটের জকিগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে নৌকা প্রতীক পেতে আওয়ামী লীগের ৪ নেতা জোরেশোরে চালাচ্ছেন লবিং। তারা হলেন- উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ফারুক আহমদ, সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক নাসিম আহমদ, আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুর রহমান লুকু ও সাবেক কাউন্সিলর আবদুল আহাদ। কানাইঘাট পৌরসভার নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন ও সমর্থন নিয়ে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য দলের নেতাকর্মীদের সমর্থন চেয়ে প্রার্থিতা ঘোষণা করেন ৭ জন। তারা হলেন- বর্তমান মেয়র উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক লুৎফুর রহমান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সদস্য ও প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার মাহমুদ হোসেন, উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক ও আওয়ামী লীগের সদস্য ক্রীড়া সংগঠক মাসুক আহমদ, উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মামুন রশিদ, পৌর আওয়ামী লীগের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক কে.এইচ.এম আব্দুল্লাহ, পৌর আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক চিত্রশিল্পী ভানু লাল দাস এবং জেলা যুবলীগের সদস্য সাবেক ছাত্রনেতা আবদুল হেকিম শামীম। স্থানীয় গ্রুপিং ও কোন্দলের কারণে প্রার্থী সংখ্যা বেশি হয়েছে বলে জানিয়েছেন নেতারা। এদিকে, ইতিমধ্যে মেয়র পদে নাম ঘোষণাকারী প্রার্থীদের নাম তালিকাভুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে সিলেট জেলা আওয়ামী লীগ। তিন পৌর সভায় তিনজন প্রার্থীকে দলীয় মনোনয়ন দিবে সংগঠনটি। চূড়ান্ত মেয়র প্রার্থীর তালিকা প্রস্তুত করতে সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, সংশ্লিষ্ট তিন উপজেলার আওয়ামী লীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, সংশ্লিষ্ট পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক এবং সংশ্লিষ্ট এলাকার দলীয় এমপিদের নিয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। ওই কমিটির সদস্যরা তৃণমূল আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীর সঙ্গে বৈঠক করবেন। এ সময় তারা তৃণমূলের মতামতের ভিত্তিতেই সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীদের নামের একটি তালিকা প্রণয়ণ করবেন। এরপর ওই তালিকা নিয়ে পাঠানো হবে ঢাকায়।

No comments:

Post a Comment