যুদ্ধাপরাধীদের
ফাঁসি ও মানবতাবিরোধী বিচার নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন
সংসদ সদস্যরা। গতকাল সংসদে অনির্ধারিত আলোচনায় অংশ নিয়ে তারা দেশের
অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বিদেশিদের নাক না গলানোর আহ্বান জানান। একইসঙ্গে
মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ও পাকিস্তান দূতাবাসকে কড়া
জবাব দেয়ার দাবি জানান। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে
পাকিস্তানের বিবৃতি ও বিদেশি কিছু গণমাধ্যমে প্রকাশিত নেতিবাচক সংবাদের
কঠোর সমালোচনা করেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট তারানা
হালিম। তিনি বলেন, আল জাজিরা টেলিভিশনে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের
আব্বাস ফয়েজ আলবদর-আলশামসের প্রতি চরম সহানুভূতি ব্যক্ত করেছেন।
মানবাধিকারের প্রশ্নে তিনি খণ্ডিত তথ্য দিয়েছেন। আমাদের অনুরোধ থাকবে, এসব
খণ্ডিত তথ্য দিয়ে আব্বাস ফয়েজ যেন মানবতার কথা না বলেন। তিনি বলেন, ২০১৪
সালে যখন পেট্রলবোমা দিয়ে পুড়িয়ে পুড়িয়ে মানুষ হত্যা করা হয়, তখন তো তাদের
কোন বিবৃতি চোখে পড়েনি। দোষীদের ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চেয়ে
নিরপরাধীদের পেট্রলবোমা মেরে পুড়িয়ে কাবাব বানানো অনেক বেশি কষ্টের। আশা
করি তারা সেটা বুঝবেন। তিনি আরও বলেন, ২০০৮ সালের নির্বাচনের আগে ইশতেহারে
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।
সাহসিকতার সঙ্গে এর বিচার করে প্রধানমন্ত্রী দেখিয়ে দিয়েছেন তিনি
বঙ্গবন্ধুর কন্যা, উনি কথা দিলে কথা রাখতে জানেন। বিদেশি কয়েকটি পত্রিকায়
কুখ্যাত যুদ্ধাপরাধী সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও আলী আহসান মুজাহিদকে বিরোধী
দলের নেতা হিসেবে উল্লেখ করে প্রতিবেদন প্রকাশের কড়া সমালোচনা করে তারানা
হালিম বলেন, আসলে ওই দুই যুদ্ধাপরাধী বিরোধী দলের নন, তারা মানবতাবিরোধী
অপরাধী। তাদের পরম সহানুভূতি জানিয়ে তাদেরকে যে বিরোধী দল বলা হচ্ছে, তাতে
এদেশের সরকারের, জনগণের আপত্তি রয়েছে। এদেশের জনগণ যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের
জন্য বর্তমান সরকারকে রায় দিয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যেন ওইসব বিদেশি
পত্রিকাকে বিষয়টি অবহিত করেন। যারা ভুলভাবে বিশ্বদরবারে কুখ্যাত
যুদ্ধাপরাধীদের বিরোধী দল বলে তুলে ধরছেন, তা সত্যের অপলাপমাত্র। পরাজিত
একটি দেশও নানা কথা বলেছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যেন তাদের ডেকে সতর্ক করে
দেয়। স্বতন্ত্র এমপি ডা. রুস্তম আলী ফারাজিও একই দাবি করে বলেন, বিদেশী
প্রভুরা এখানে কর্তৃত্ব করতে চায়। কখনও দেখা গেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, কখনও
আমেরিকা, কখনও বা পাকিস্তান। এরা আমাদের সার্বভৌমত্বের ওপর হস্তক্ষেপ,
স্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপ, আইনের প্রতি হস্তক্ষেপ করেছে। তিনি বলেন, আজকের
সেই পরাজিত শক্তি পাকিস্তান, বাংলাদেশ যখন আইনের শাসনের ওপর ভিত্তি করে
চলছে তারপরও তারা আমাদের দেশের সরকারের সিদ্ধান্তের ব্যাপারে নাক গলানোর
চেষ্টা করে। তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে যারা আমাদের স্বাধীনতার ওপর, আমাদের
গৃহীত রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তের ওপর, সংবিধানের ওপর, আইনের শাসনের বিরুদ্ধে
অযাচিত কেউ মন্তব্য করে সঙ্গে সঙ্গে তাদের কড়া ভাষায় প্রতিবাদ করতে হবে।
অবিলম্বে পাকিস্তানসহ ওইসব দেশের রাষ্ট্রদূতকে তলব করতে হবে। কারণ দ্রুত
ব্যবস্থা না নেয়া হলে তারা আশকারা পেয়ে যাবে। সরকার এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা
নিবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
Subscribe to:
Post Comments (Atom)

No comments:
Post a Comment