Saturday, November 28, 2015

ছিটমহল বিনিময় মিলন এনে দিয়েছে মতিয়ারের পরিবারে

পশ্চিমবঙ্গের দিনহাটার অস্থায়ী শিবিরে মিলন হয়েছে ১০ বছর বিচ্ছিন্ন থাকা একটি পরিবারের। ছিটমহল বিনিময় শেষ পর্যন্ত মিলন এনে দিয়েছে বাংলাদেশের ভেতরে থাকা সাবেক ভারতীয় ছিটমহল দাশিয়ারছড়ার বাসিন্দা মতিয়ারের পরিবারে। অবশ্য ছিটমহল বিনিময় হওয়ার আলোচনা শুরু থেকেই আশায় বুক বেঁধেছিলেন ওপারের মতিয়ার আর এপারের এলেমা বিবি। বিয়ে হয়েছে ১৫ বছর আগে। কিন্তু ১০ বছর আলাদা ছিলেন তারা। গত বৃহস্পতিবার দিনহাটার শিবিরে তাদের আবার দেখা হয়েছে। একসঙ্গে সংসার পাতারও আশ্বাস পেয়েছেন। দাশিয়ারছড়ার যুবক মতিয়ারের সঙ্গে আলিপুরদুয়ারের কুমারগ্রামের তরুণী এলেমার দেখা হয়েছিল দিল্লির একটি কারখানায়। দুজনেই সেখানে গিয়েছিলেন কাজের খোঁজে। ১৫ বছর আগে কাজের খোঁজে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে এসেছিলেন মতিয়ার। এলমাকে  বিয়েও করেন মতিয়ার। বিয়ের পর এক কন্যা ও এক পুত্র সন্তান হয়। তারপরেই বাবা-মায়ের সঙ্গে দেখা করতে ফের দাশিয়ারছড়াতে ফিরে গিয়েছিলেন মতিয়ার। কিন্তু তার পরে তিনি আর এ পারে ফিরে আসতে পারেননি। এপারে এলমার কাছেই বড় হতে থাকে কন্যা আমিনা ও পুত্র আসরাফুল। এখন আমিনা দশম শ্রেণীর ছাত্রী। আসরাফুল অষ্টম শ্রেণীতে। মতিয়ার জানিয়েছেন, ছিটমহল বিনিময়ের প্রক্রিয়া শুরু হতেই আশায় বুক বেঁধেছিলেন তিনি। জনগণনায় তার নাম ছিল। দিন কয়েক আগে সাহেবগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে দিনহাটায় আসেন তিনি। কিন্তু কিভাবে দেখা করবেন স্ত্রী-সন্তানের সঙ্গে তা নিয়ে চিন্তায় ছিলেন। তবে লোক মারফত খবর পৌঁছায় এলেমার কাছেও। এ দিন তিনি ছেলেমেয়েদের নিয়ে শিবিরে যান। বৃহস্পতিবার আবার দেখা হওয়ার পরে কারও চোখ বাধা মানেনি। মতিয়ার বলেন, অপেক্ষা আর সহ্য করতে পাচ্ছিলাম না। কখনও মনে হচ্ছিল আর বোধহয় দেখা হবে না আমাদের। আজ কত আনন্দ হচ্ছে বলে বোঝাতে পারব না। তারা দিনহাটার মহকুমা শাসকের কাছে লিখিতভাবে এক সঙ্গে শিবিরে থাকার অনুমতি চেয়েছেন। মহকুমা শাসক কৃষ্ণাভ ঘোষ জানিয়েছেন, বিষয়টি জেলা শাসককে জানিয়েছি। তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক রবীন্দ্রনাথ ঘোষও বলেছেন, এবারে যাতে তারা একসঙ্গে থাকতে পারেন, সে ব্যাপারে প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলব।

No comments:

Post a Comment