Friday, November 27, 2015

উন্নয়নের পথ থেকে দেশ দূরে সরে যাচ্ছে

বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সঙ্গে বৈঠক করেছেন বাংলাদেশ সফররত চীনা কমিউনিস্ট
পার্টির প্রতিনিধি দল। গতকাল সন্ধ্যা ৬টা থেকে প্রায় ঘণ্টাব্যাপী এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান সাংবাদিকদের বলেন, সামপ্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বাংলাদেশে আমাদের বিরোধী দলের যে পরিস্থিতি, রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বহীনভাবে পরিচালিত হচ্ছে; সেই কথাগুলো আলোচনায় এসেছে। বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে কীভাবে এ দেশ উন্নয়নের পথ থেকে দূরে সরে যাচ্ছে এই বিষয়গুলো তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি। পাশাপাশি দেশে যদি রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা না থাকে অর্থনীতি, সমাজনীতি, নিরাপত্তা ঝুঁকিসহ নানা রকম জটিলতা দেখা দিতে পারে সেই বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বিএনপি স্থায়ী কমিটির এ সদস্য বলেন, ভবিষ্যতে জাতীয়তাবাদী দল বাংলাদেশ পরিচালনার দায়িত্ব পেলে চায়নার সঙ্গে উন্নয়নের সম্পর্ক আরও জোরদার করবে। পাশাপাশি বিএনপি ও চীনা কমিউনিস্ট পার্টির দলগত যে সম্পর্ক এটি তিনটি প্রক্রিয়ায় শক্তিশালী করা হবে- এই প্রস্তাব তারা দিয়েছে। আমরা তার সঙ্গে একমত হয়েছি। প্রক্রিয়াগুলো হচ্ছে- প্রথমত. দুই দেশের নেতৃবৃন্দের মধ্যে বিনিময় সফর; দ্বিতীয়ত. দুই দেশের দলের কর্মীদের মধ্যে ট্রেনিং প্রোগ্রামের প্রচলন এবং তৃতীয়ত. আমরা এখান থেকে গিয়ে তাদের যে উন্নয়ন  প্রতিষ্ঠানগুলো রয়েছে সেখানে লেখাপড়া করতি পারি। গবেষণা করতে পারি। থিংট্যাঙ্ক শক্তিশালী করতে পারি। প্রয়োজনে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে বাংলাদেশ ও চায়না মিলে স্টাডি করতে পারি। এ ছাড়া জিয়াউর রহমানের সময়ে চীনের সহযোগিতায় আমাদের সামরিক বাহিনীর প্রথম যে উন্নয়ন করেছিলাম ভবিষ্যতে খালেদা জিয়া দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পেলে তা আরও জোরদার করা হবে। তিনি বলেন, অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বিএনপি চেয়ারপারসনের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এখানে বিভিন্ন বিষয় আলোচনা হয়েছে। আমাদের পক্ষ থেকে জোর দিয়ে বলেছি আধুনিক চায়না এবং বাংলাদেশের মধ্যে যে নতুন সম্পর্কের সূত্রপাত হয়েছিল সেটা হয়েছিল শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মাধ্যমে এবং তিনি ৪৪ বছর আগে সে সম্পর্কের সূচনা করেছিলেন। তারই ধারাবাহিকতায় আজকে বাংলাদেশ এবং চায়নার শুধু দুই দেশের জনগণের মধ্যেই নয় বিএনপির ও কমিউনিস্ট অব চায়নার মধ্যে একটি অত্যন্ত বিস্তৃত সম্পর্কের সৃষ্টি হয়েছে। যা দিন দিন গুরুত্বপূর্ণভাবে এগিয়ে চলছে। ড. মঈন খান বলেন, বৈঠকে বলা হয়েছে- খালেদা জিয়া যখন প্রধানমন্ত্রী ছিলেন তখন চীনের সঙ্গে যে গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলো নেয়া হয়েছিল সফলতার সঙ্গে অনেকগুলো সমাপ্ত হয়েছে। বাকিগুলো চালু রয়েছে। এর আগে বৈঠকে ১১ সদস্য বিশিষ্ট প্রতিনিধি দলটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন চীনা কমিউনিস্ট পার্টির বিশেষ দূত ও দলটির আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সহকারী মন্ত্রী চিয়ান ফেং জিয়াং। প্রতিনিধি দলের অন্য সদস্যরা হলেন- চীনা কমিউনিস্ট পার্টির ডিরেক্টর জেনারেল ইয়ান ঝিবিন, ডিরেক্টর ইয়ান রিঢং, ভাইস মিনিস্টারের সচিব লিও ইয়াং ঝি, কমিউনিস্ট পার্টির সহ-সম্পাদক টান উই, পার্টির রাজনৈতিক কর্মকর্তা হিহি প্রমুখ। বৈঠকে বিএনপি নেতাদের মধ্যে দলের স্থায়ী কমিটির লে. জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান, ড. আবদুল মঈন খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ড. ওসমান ফারুক, রিয়াজ রহমান, সাবিহ উদ্দিন আহমেদ ও জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধ প্রজন্ম দলের সভাপতি শামা ওবায়েদ অংশ নিচ্ছেন। এর আগে দুপুরে রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদকসহ দলের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন চীনা প্রতিনিধি দল।জোট নেতাদের সঙ্গে খালেদার বৈঠক ২০ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। গতরাত ৯টায় বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এ বৈঠক শুরু হয়। জোটসূত্রে জানা গেছে, পৌর নির্বাচন ইস্যুতে শরিকদের সঙ্গে এ বৈঠক করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন। বৈঠকে জাগপা সভাপতি শফিউল আলম প্রধান, বিজেপি চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ, বাংলাদেশ ন্যাপের সভাপতি জেবেল রহমান গানি, এনপিপি চেয়ারম্যান ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, এনডিপি সভাপতি খন্দকার গোলাম মর্তাজা, এলডিপির মহাসচিব ড. রেদোয়ান আহমেদ, খেলাফত মজলিসের মহাসচিব অধ্যাপক আহমেদ আবদুল কাদের, জামায়াতে ইসলামীর কর্মপরিষদ সদস্য আবদুল হালিম, ইসলামী ঐক্যজোটের মুফতি ওয়াক্কাস, মুফতি ফয়জুল্লাহ, ন্যাপ ভাসানীর মাওলানা আজহারুল ইসলাম, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির মহাসচিব এমএম আমিনুর রহমান, জাতীয় পার্টির (জাফর) এএফ আলম, সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক সাঈদ আহমেদ, মুসলীম লীগের শেখ জুলফিকার আলী চৌধুরী বুলবুল, পিপলস লীগের মাহবুব হোসেনসহ ২০ দলের শরিক দলের নেতারা অংশ নেন। বৈঠকে বিএনপির পক্ষে দলের যুুগ্ম মহাসচিব মো. শাহজাহান, মুখপাত্র ও আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ড. আসাদুজ্জামান রিপন উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, প্রায় তিন মাস পর জোটের শরিকদের সঙ্গে এ বৈঠক করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।
পৌর নির্বাচন নিয়ে কাজ শুরু করেছে বিএনপিআসন্ন পৌর নির্বাচনে মেয়র পদে দলীয় প্রার্থী ঠিক করার কাজ শুরু করেছে বিএনপি। দলের কয়েকজন নেতা গতকাল সকাল থেকে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এ নিয়ে কাজ শুরু করেছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। বিএনপির একাধিক দায়িত্বশীল নেতা জানান, পৌর নির্বাচন নিয়ে বুধবার রাতে দলের সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। সে বৈঠকে নির্বাচনে যাওয়ার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত হয়। নেতারা নির্বাচনে অংশগ্রহণের পক্ষে মত দিলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়ার দায়িত্ব দেন খালেদা জিয়ার ওপর। এ ব্যাপারে শরিকদের মতামত নিতে গতরাতে ২০ দলীয় জোটের সঙ্গে বৈঠক ডাকেন বিএনপি চেয়ারপারসন। নেতারা জানান, আসন্ন পৌর নির্বাচনের ব্যাপারে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না দিলেও বসে নেই বিএনপি। পৌর নির্বাচনে দলটির মনোনয়ন প্রত্যাশী ও তৃণমূল নেতারা আগেই প্রস্তুতি শুরু করেছেন। দলের শীর্ষ নেতৃত্বের তরফে ইতিবাচক ইঙ্গিত পাওয়ার পর কাজ করেছেন কেন্দ্রীয় নেতারাও। গতকাল সকাল থেকে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এমএ কাইয়ুম, যুগ্ম মহাসচিব মো. শাহজাহান, সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক আবুল খায়ের ভূঁইয়াসহ দলের কয়েকজন নেতা গুলশান চেয়ারপারসন কার্যালয়ে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকা আহ্বান ও প্রাথমিক যাচাই-বাছাইয়ের কাজ শুরু করেছেন। তাঁরা বিভিন্ন জেলায় নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে সম্ভাব্য প্রার্থীদের বিষয়ে খোঁজখবর করছেন। তবে চূড়ান্ত বাছাইয়ে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীসহ কয়েকজন সিনিয়র নেতা যুক্ত হবেন। এ ছাড়া কেন্দ্রীয় নেতাদের পাশাপাশি কিছু ক্ষেত্রে জেলা পর্যায়ে কমিটি করেও বিএনপি প্রার্থী মনোনয়নের দায়িত্ব দিতে পারে। তবে আজকালের মধ্যেই এ ব্যাপারে দলের তরফে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

No comments:

Post a Comment