মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার বিষয়ে জাতিসংঘের দেয়া বিবৃতিকে চরম বিরক্তিকর
বলে প্রত্যাখ্যান করেছে বাংলাদেশ। দেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের
রায় সম্পর্কে ‘ভুল ধারণা’র ভিত্তিতে সংস্থাটির মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার
সংবাদ ব্রিফিংয়ে মন্তব্য করেছেন বলে মনে করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ওই
বিবৃতির বিষয়ে সরকারের তরফে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এরই মধ্যে একটি প্রতিবাদ
নোট পাঠিয়েছে। গতকাল এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। সেখানে বলা
হয়- সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী এবং আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের
মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং গণহত্যার সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে
প্রমাণিত হওয়ায় তাদের মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে, বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থান
বিবেচনায় নয়। বিরোধী রাজনৈতিক দলের সঙ্গে ওই দু’জনের সম্পৃক্ততার বিষয়টি
কাকতালীয়ভাবে মিলে গেছে বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়। গত শনিবার
মধ্যরাতে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী এবং আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের
মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। এর পর জেনেভায় এক ব্রিফিংয়ে ট্রাইব্যুনালের
বিচার নিয়ে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের মুখপাত্র রাভিনা
শামদাসানি বিবৃতি দেন। সেখানে তিনি বিচারের সুষ্ঠুতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ
করেন। বলেন, সন্দেহ দেখা দেয়ায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা উচিত হবে না বলে
আমরা দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশকে সতর্ক করছি। জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক
বিশেষজ্ঞরাও ফাঁসি বন্ধ রাখার আহ্বান জানিয়েছেন উল্লেখ করে মুখপাত্র বলেন,
বাংলাদেশে সুষ্ঠু বিচারের আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বজায় রাখা হয়নি।
ইন্টারন্যাশনাল কোভেন্যান্ট অন সিভিল পলিটিক্যাল রাইটসের শর্ত অনুযায়ীও ওই
বিচার করা হয়নি। অথচ বাংলাদেশ এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করা একটি দেশ। বিবৃতিতে
জাতিসংঘের মৃত্যুদণ্ড বিরোধী অবস্থানের বিষয়টিও স্মরণ করেন তিনি।
কাছাকাছি সময়ে নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের নিয়মিত ব্রিফিংয়েও সংস্থাটির
মৃত্যুদণ্ড বিরোধী অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফেন
ডুজাররিক। যে কোন অপরাধের দণ্ড হিসাবে এটি রহিত করার আহ্বানও জানান তিনি।
জাতিসংঘের ওই প্রতিক্রিয়ার জবাবে পাঠানো দীর্ঘ নোটে বিচার প্রক্রিয়ার
স্বচ্ছতা এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বজায় রাখার বিষয়ে গৃহীত পদক্ষেপের
বিস্তারিত তুলে ধরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সেখানে বলা হয়- এটি খু্বই
অগ্রহণযোগ্য যে, ট্রইব্যুনালের বিষয়ে একটি গোষ্ঠীর ভিত্তিহীন ও
পক্ষপাতদুষ্ট অপপ্রচারকে আন্তর্জাতিক সমপ্রদায়ের কেউ কেউ গ্রহণ করছেন।
ইন্টারন্যাশনাল কোভেন্যান্ট অন সিভিল পলিটিক্যাল রাইটস (আইসিসিপিআর) এবং এ
সংক্রান্ত প্রটোকলে বাংলাদেশের সই করার বিষয়টি স্মরণ করে বলা হয়, ওই
চুক্তির শর্ত অনুয়ায়ী যে কোন বিচারের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বজায়
রেখে চলার বাধ্যবাধকতা রয়েছে বাংলাদেশের। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে
যে বিচার চলছে তা বাংলাদেশকে দায়মুক্তির সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসা,
ভিকটিমের ন্যায়বিচার পাওয়ার নিশ্চয়তা এবং সত্য ও সমন্বয়ের (রিকনসিলিয়েশন)
সুযোগ সৃষ্টি করেছে বলেও নোটে উল্লেখ করা হয়।
Subscribe to:
Post Comments (Atom)

No comments:
Post a Comment