পুরান ঢাকার হোসেনী দালানে তাজিয়া মিছিলের প্রস্তুতিকালে গ্রেনেড হামলা ও আশুলিয়া চেকপোস্টে পুলিশ হত্যার সাথে জড়িত সন্দেহে জেএমবির ৫ সদস্যকে আটক করেছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গ্রেফতারকৃতরা হলেন- চাঁন মিয়া, ওমর ফারুক ওরফে মানিক, শাহ জালাল, হাফেজ ক্বারী আহসান উল্লাহ মাহমুদ ও কবির হোসেন ওরফে রাসেদ ওরফে আশিক।গোয়েন্দা পুলিশের দাবি, বুধবার রাতভর মিরপুর, আব্দুল্লাহপুর, গুলিস্তান ও কামরাঙ্গীরচর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। আজ দুপুরে ঢাকা মহানগর পুলিশের মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়।ঢাকা মহানগর পুলিশের ডিসি (মিডিয়া) মুনতাসিরুল ইসলাম জানান, বুধবার রাতে দারুসসালাম থানাধীন দ্বীপনগর বালুর মাঠ এলাকায় অভিযান পরিচালনাকালে জেএমবি’র সামরিক শাখার প্রধান আলবানি ওরফে হোজ্জা ভাই ওরফে মেম্বার ভাই ওরফে শাহাদত ওরফে মাহফুজ পুলিশের সাথে বন্ধুকযুদ্ধে আহত হয়। পরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে একটি পিস্তল, দুইটি ম্যাগাজিন, ১২ রাউন্ড গুলি, একটি চাকু ও একটি মোটর সাইকেল জব্দ করা হয়।প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত আসামীরা জানায়, তারা সকলেই জেএমবি’র সক্রিয় সদস্য। তাদের মধ্যে আলবানি ওরফে হোজ্জা ভাই ওরফে মেম্বার ভাই ওরফে শাহাদত ওরফে মাহফুজ ও রাসেদ ওরফে আশিক ২৩ অক্টোবর রাতে লালবাগে হোসাইনী দালানে বোমা বিস্ফোরণের সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত। গ্রেফতারকৃত চাঁন মিয়া, ওমর ফারুক ওরফে মানিক, শাহ জালাল ও হাফেজ ক্বারী আহসান উল্লাহ মাহমুদ ওই ঘটনায় বাসা ভাড়া, আর্থিক ও অন্যান্য সহায়তা দিয়ে থাকে।তারা আরও জানায়, তারা বেশ কিছুদিন ধরে ঢাকা ও তার আশপাশ এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে জেএমবি’র সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনার চেষ্টা করে আসছিল। বিভিন্ন ধরণের জঙ্গি প্রশিক্ষণ ও বিভিন্ন হামলার প্রস্তুতি তাদের উদ্দেশ্য ছিল।পবিত্র আশুরা উপলক্ষে তাজিয়া মিছিলের প্রস্তুতির সময় ২৩ অক্টোবর রাত ১টা ৫৫ মিনিটে হোসেনী দালান চত্বরে পর পর তিনটি গ্রেনেডের বিস্ফোরণ ঘটে।এ ঘটনায় এক কিশোর নিহত হয়। আহত হন শতাধিক। তাদের ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ ও মিটফোর্ড মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর।
Subscribe to:
Post Comments (Atom)

No comments:
Post a Comment