‘নির্বাচনে জিতে আসতে পারবেন তো? মাঠ কিন্তু আমাদের দখলে। তার পরও যদি
হারেন তাহলে কেন্দ্রের কাছে মুখ থাকবে না। বিএনপি এলে কিন্তু পরিবেশ
অন্যরকম হতে পারে। পরাজয় হলে নেত্রী অখুশি হতে পারেন।’চট্টগ্রামে
পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত ছয় উপজেলার সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীদের
ফরম বিতরণ করার সময় গতকাল এমনি কথা বলেছেন নগর শাখার শীর্ষ পর্যায়ের
নেতারা। এ সময় তারা যারা ফরম নিতে আসেন, তাদের নির্বাচনে শতভাগ জয়ী হওয়ার
ব্যাপারে আশাবাদ প্রতিশ্রুতি আদায় করেন।নগর আওয়ামী লীগের একটি সূত্র
জানায়, পুরো চট্টগ্রামে পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী বাছাইয়ে সতর্কতা
অবলম্বন করছেন দলের নেতারা। আর তাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে
দলের শীর্ষ পর্যায়ের এক ডজন নেতা কাজ করছেন ভালো প্রার্থী বাছাইয়ে। দলের
একাধিক সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। ইতিমধ্যে প্রার্থী বাছাইয়ে সাবেক
মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগ সভাপতি এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী, বর্তমান মেয়র আ জ ম
নাছির উদ্দিন, মন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি, ইঞ্জিনিয়ার মোশারফ হোসেন, সিডিএ
চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম, রাউজানের এমপি ফজলে করিমসহ একাধিক ব্যক্তিরা
কেন্দ্রের নির্দেশে কাজ করছেন বলে জানা গেছে। এই বিষয়ে জানতে চাইলে
মেয়র আজম নাছির উদ্দিন বলেন, তৃণমূলে আমাদের অবস্থা ভালো। এক প্রার্থীর
জন্যই সবাই কাজ করবে। কোন ধরনের গ্রুপিং, বিভেদ কিংবা একাধিক প্রার্থী না
দেয়ার বিষয়টি নিয়ে চিন্তা ভাবনা চলছে। আশা করছি, সবাই জিতে আসতে পারবেন। নগরীর
আওয়ামী লীগের কার্যালয় দোস্ত বিল্ডিংয়ে সকাল ১০টায় সন্দ্বীপ, সীতাকুণ্ড,
মীরসরাই, রাউজান, বারৈয়ারহাট ও রাঙ্গুনিয়ার সম্ভাব্য প্রার্থীরা ফরম নিতে
সেখানে ভিড় জমান। এই সময় সেখানে নগর আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্ষদের নেতারা
উপস্থিত ছিলেন। জানতে চাইলে এই বিষয়ে মানবজমিনের সঙ্গে কথা হয় উত্তর
জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম এ সালামের। তিনি বলেন, আজ (গতকাল)
থেকে ফরম বিতরণ শুরু হলো। আমরা চাইছি তৃণমূল পর্যায়ের সব প্রার্থীদের জয়ের
ব্যাপারে কেন্দ্রের নির্দেশমতো কাজ করতে।তিনি আরও বলেন, যেসব প্রার্থী
মেয়র হওয়ার জন্য ফরম নিয়েছেন তাদের মধ্য থেকে ত্যাগী ও যারা বিপক্ষ দলের
লোকের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জিতে আসতে পারবে তাদের ব্যাপারে ইতিবাচক
মনোভাব রয়েছে আমাদের। আগামী ৩০শে নভেম্বরের মধ্যে সবকিছু যাচাইবাছাই করে
ঢাকায় পাঠিয়ে দেবো। ফরম বিতরণকালে উপস্থিত দলের দপ্তর সম্পাদক
মহিউদ্দিন বাবলু বলেন, নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী দেবে কিনা তা এখনও আমরা
জানিনা। তবে শোনা যাচ্ছে। দিলে তাদের বিপক্ষে শক্ত প্রার্থী দিতে হবে। এসব
বিষয় নিয়ে কথা বলেছি। তবে আওয়ামী লীগের অনেকেই প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন
করতে আগ্রহী। আমরা সবার তৎপরতা ও দলের প্রতি নিষ্ঠা দেখে বাছাই করছি। এদিকে
নির্বাচনে আওয়ামী লীগে টান টান উত্তেজনা থাকলেও তার বিপরীত চিত্র
বিএনপিতে। একাধিক উপজেলায় মামলায় জর্জরিত বিএনপির শক্ত প্রার্থীরা রয়েছেন
এলাকা ছাড়া। বিশেষ করে হাটহাজারী, সাতকানিয়া, লোহাগাড়া, সীতাকুণ্ড জোনে
বিএনপি-জামায়াতের প্রার্থী নির্বাচনে দল কিছুটা সংকটের মুখে পড়বে বলে ধারণা
করা হচ্ছে। গত ৫ বছরে এখানকার একাধিক সম্ভাব্য প্রার্থীর বিরুদ্ধে
নাশকতার মামলা করা হয়েছে। দলীয় সূত্র জানায়, ৫০টির বেশি মামলায় এলাকা ছাড়া
একাধিক প্রার্থী। যাদের অনেকে গ্রেপ্তারের ভয়ে সামনে আসতে পারছেন না বলে
জানান নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাহাদাত হোসেন।
Subscribe to:
Post Comments (Atom)

No comments:
Post a Comment