খাবার দিতে দেরি করায় ক্যান্টিন বয়কে পিটিয়ে আহত করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
বিজয় একাত্তর হলের ছাত্রলীগ কর্মী মোকাম্মেল। ঘটনার প্রতিবাদ করায় হলের এক
শিক্ষার্থীকেও মারধর করে ওই ছাত্রলীগ কর্মী। গতকাল দুপুরে হলের ক্যান্টিনে এ
ঘটনা ঘটে। এদিকে ক্যান্টিনের পরিচালক মো. ইসমাঈল প্রতিবেলায় অর্ধশতাধিক
ছাত্রলীগ নেতাকর্মী ক্যান্টিনে ফাও খায় বলে অভিযোগ করেছেন। ক্যান্টিন
সূত্রে জানা যায়, দুপুর দেড়টার দিকে ক্যান্টিনে খাবার খেতে আসেন মোকাম্মেল
(অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সায়েন্স, দ্বিতীয় বর্ষ)। নিয়ম রয়েছে
ক্যান্টিনে খাওয়ার পূর্বে টোকেন সংগ্রহ করা। কিন্তু মোকাম্মেল টোকেন সংগ্রহ
না করেই খাবারের অর্ডার করেন। খাবার আনতে দেরি করায় ক্যান্টিন বয়
শাহজাহানকে মারধর করে মোকাম্মেল। এ সময় ক্যান্টিন বয়কে বাঁচাতে এগিয়ে এলে
হলের শিক্ষার্থী কামরুলকে (ইসলামের ইতিহাস, তৃতীয় বর্ষ) মারধর করা হয়। পরে
হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি শেখ ইনান ও সাধারণ সম্পাদক ফুয়াদ হোসেন শাহাদাত
এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন। এদিকে হল ক্যান্টিনের পরিচালক মো. ইসমাঈল
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, টোকেন ছাড়া খাওয়া নিষিদ্ধ করেছে হল
কর্তৃপক্ষ। কিন্তু হল ছাত্রলীগের প্রায় অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী প্রতিবেলায়
টোকেন ছাড়া খাবার গ্রহণ করেন। কোনো টাকাও দেন না। এ বিষয়ে হল ছাত্রলীগের
সাধারণ সম্পাদক ফুয়াদ হোসেন শাহাদাত বলেন, এটা নন-পলিটিক্যাল একটি ঝামেলা।
যে ছেলে ঘটনার সঙ্গে জড়িত সে ছাত্রলীগের কেউ না। তবে শাখা ছাত্রলীগের
সভাপতি শেখ ইনান বলেন, মোকাম্মেল ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত এবং হলে
সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে রাজনীতি করে। ঘটনার সত্যতা স্বীকার তিনি বলেন, আমি ও
সাধারণ সম্পাদক গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করি। ক্যান্টিনে ফাও খাওয়ার অভিযোগের
বিষয়ে তিনি বলেন, এ বিষয়ে ক্যান্টিন পরিচালকের সঙ্গে কথা বলতে হবে। তাছাড়া
ফাও খাওয়ার কোনো অভিযোগ আমার কাছে এলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা
নেয়া হবে। বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি আবিদ আল হাসান বলেন,
ক্যাম্পাসের বাইরে থাকার ঘটনা এখনও শুনিনি। খোঁজ নিয়ে দোষীদের বিরুদ্ধে
ব্যবস্থা নেয়া হবে। হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. এজেএম শফিউল আলম ভূইয়া বলেন,
ঘটনার কথা জানি না। হলে গিয়ে বিস্তারিত শুনে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
Subscribe to:
Post Comments (Atom)

No comments:
Post a Comment