সিলেটে ছাত্রদল নেতা জিল্লুর হক জিলু হত্যা মামলার চার্জশিট দাখিল হয়নি
দেড় বছরেও। যতই দিন যাচ্ছে মামলার তদন্তকে ভিন্ন খাতে নেয়ার চেষ্টা চলছে
বলে অভিযোগ করছেন পরিবারের সদস্যরা। তারা বলেন, পুলিশ শুরু থেকেই আলোচিত এ
হত্যাকাণ্ডে নিষ্ক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। সিলেটে ছাত্রদল নেতা জিলু
হত্যাকাণ্ডের দেড় বছর পূর্ণ হতে যাচ্ছে ২৭শে ডিসেম্বর। এই সময়ের মধ্যে বদলি
হয়েছেন মামলার প্রথম তদন্তকারী কর্মকর্তা। কিন্তু তদন্ত কার্যক্রমের নামেই
পেরিয়ে যাচ্ছে দেড় বছর। এই হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কোতোয়ালি
এসআই কমর উদ্দিনও এ ব্যাপারে বাদী পক্ষকে কোনো কিছু অবহিত করছেন না বলে
অভিযোগ পাওয়া গেছে। সূত্র জানায়, মামলা থেকে প্রধান আসামি মাহবুব কাদির
শাহীর নাম বাদ দেয়ার পাঁয়তারা স্বরূপ চার্জশিট নিয়ে লুকোচুরি করছে পুলিশ।
যে কারণে বাদী পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করছেন না মামলার তদন্তকারী
কর্মকর্তা। অবশ্য প্রধান আসামিকে চার্জশিট থেকে বাদ দেওয়ার আশঙ্কায় এ বছরের
৯ই আগস্ট পুলিশ কমিশারের কাছে একটি অভিযোগ দিয়েছেন মামলার বাদী আহমেদ
আহসান মাহবুব। তিনি জানান, মামলার তদন্তের অগ্রগতির খোঁজখবর নিতে তদন্তকারী
কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তিনি ফোন রিসিভ করেন না। মামলার
বাদী অভিযোগ করেন, মামলার প্রধান আসামি মাহবুব কাদির শাহী চার্জশিট থেকে
মুক্তি পাওয়ার বিষয়টি বিভিন্ন জনের কাছে বলে বেড়াচ্ছে। চার্জশিটে শাহীকে
বাদ দেয়া হতে পারে বলে আমরা সন্দিহান। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা হলেও এ
ব্যাপারে কিছুই জানেন না বলে মন্তব্য করেছেন কোতোয়ালি থানার এসআই কমর
উদ্দিন। তিনি বলেন, ‘ওসি তদন্ত স্যারের বক্তব্যই আমার বক্তব্য।’ তবে
ইতিমধ্যে গত ১লা ডিসেম্বর এ মামলার চার্জশিট দেয়া হয়েছে। কোতোয়ালি থানার
ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মোশাররফ হোসেন এমনটি জানালেও আদালতে চার্জশিট
শাখায় খোঁজ নিয়ে এর সত্যতা মিলেনি। গত বছরের ২৭শে জুন বিকালে নগরীর
পাঠানটুলায় ছাত্রদল নেতা জিল্লুল হক জিলুকে প্রকাশ্যে রাস্তায় কুপিয়ে হত্যা
করা হয়। ঘটনার পর দিন নিহতের বড় ভাই বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় একটি হত্যা
মামলা করেন। মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পান কোতোয়ালি থানার সাবেক এসআই শাহীন
উদ্দিন। তবে হত্যাকাণ্ডের পর পালিয়ে যাওয়ার সময় রক্তমাখা রামদাসহ দুই
আসামিকে আটক করে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেয় জনতা। এরপর কোনো
আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। মামলায় অভিযুক্তরা আদালতে আত্মসমর্পণ করে
জামিনে বেরিয়ে যায়।
Subscribe to:
Post Comments (Atom)

No comments:
Post a Comment