Thursday, December 10, 2015

মহেশখালীতে সড়ক মেরামত কাজ শুরু, জনমনে স্বস্তি।



মহেশখালীতে সড়ক মেরামত কাজ শুরু, জনমনে স্বস্তি।
শহীদুল ইসলাম কাজল,মহেশখালী(কক্সবাজার)
                     
                  দ্বীপ উপজেলা মহেশখালীর গুরুত্বপূর্ন জনতা বাজার-কালারমারছড়া-গোরকঘাটা সড়কের মেরামত কাজ শুরু হওয়ায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে শুরু করেছে দীর্ঘদিনের বঞ্চিত উত্তর মহেশখালীবাসি। অনেক দিন পর হলেও সড়ক যন্ত্রনা থেকে মুক্তি পেতে যাওয়ায় পরিবহন শ্রমিক থেকে শুরু করে যাত্রীদের মাঝেও দেখা দিয়েছে আনন্দের বন্যা। কালারমারছড়া ইউনিয়নের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী মাষ্টার রুহুল আমিন জানান, মহেশখালী-কতুবদিয়ার মাটি ও মানুষের প্রিয় নেতা আশেক উল্লাহ রফিক এমপি, সড়ক যন্ত্রনা থেকে মহেশখালী বাসিকে মুক্তি দেওয়ার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে নিয়মিত যোগাযোগ করে দ্রুত রাস্তার কাজ শুরু করেছেন। ইতিপূর্বে শুধু প্রায় আট কলোমিটার সড়ক মেরামত কাজ না হওয়ায় পরিবহণ শ্রমিকদের ইচ্ছে মতো ভাড়া আদায়ের কাছে জিম্মি ছিলেন মহেশখালীবাসি এমন-ই অভিযোগ যাত্রীদের। অধিকাংশ সড়কের মেরামত কাজ প্রায় শেষ হলেও বিগত কয়েক বছরের অতিরিক্ত ভাড়া থেকে মুক্তি পায়নি দ্বীপবাসি। উপজেলার প্রশাসনিক সব কিছু মূল ভু-খন্ডের একেবারে দক্ষিনে অবস্থিত হওয়ায় উপদ্বীপ ধলঘাট, মাতারবাড়িসহ উত্তরের চারটি ইউনিয়নের হাজারো জনগন বিভিন্ন প্রয়োজনে প্রতিদিন উপজেলা সদরে যাতায়ত করে থাকেন। এ অবস্থায় অবশিষ্ট ভাঙ্গা রাস্তা/সড়ক, কয়েকটি ঝুকিপূর্ন কালভার্ট ও অতিরিক্তি গাড়ি ভাড়া নিয়ে চরম বেকায়দায় পড়েন যাত্রীরা। বর্তমানে গত অর্থ বছরে নির্মিত এলজিইড়ি’র(জনতা বাজার-শাপলাপুর-গোরকঘাটা) সড়কের বিভিন্ন অংশে বড় ধরনের ভাঙন ও গর্তের সৃষ্টি হওয়ায় অল্প দিনেই শেষ হয়ে যায় যাত্রীদের আশা আকাংখা। ফলে অনেক দিন পর হলেও ভাল সড়ক/ রাস্তা পাওয়ার সুফল উপভোগ করতে পারছেনা অবহেলিত মহেশখালীবাসি। ভাঙ্গা সড়ক ও কালভার্টের অজুহাত দেখিয়ে মহেশখালীর পরিবহনে অস্বাভাবিক ভাড়া আদায়ের অভিযোগ থাকলেও দেখার যেন কেউ নেই। বর্তমানে বিগত কয়েক বছরের তুলনায় এলজিইড়ি এবং সওজ,র অধিকাংশ সড়কের অবস্থা ভাল হলেও পরিবহণ ভাড়া কমেনি এক টাকাও। অনেকের অভিযোগ, মহেশখালীর পরিবহণ সেক্টর নিয়ন্ত্রনে আওয়ামীলীগ ও বিএনপি পন্থি কয়েকটি প্রভাবশালী পরিবার জড়িত থাকায় অতিরিক্ত ভাড়া আদায় নিয়ে কেউ মূখ খোলতে পারছেনা। ফলে ইচ্ছে মতো ভাড়া আদায় করলেও মাথাব্যাথা নেই কর্তৃপক্ষের এমন অভিযোগ যাত্রীদের। শুধুমাত্র আট কিলোমিটার ভাঙ্গা সড়ক ও হোয়ানক কালা গাজীর পাড়া ঝুকিপূর্ন নড়বড়ে কালভার্টে’র কারণে মহেশখালীতে মালামাল নিয়ে আসতে অতিরিক্ত ভাড়া দাবী করেন পরিবহণ শ্রমিকরা। এ অজুহাতে ব্যবসায়িরা ইচ্ছে মতো প্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য আদায় করছে বলে জানান ক্রেতারা। এছাড়া ভাঙা সড়কের কারনে বর্তমানে দুরপাল্লার পণ্যবাহী পরিবহণ মহেশখালীতে অনেকটা কমে গেছে বলে জানান মহেশখালী সেতু ইজারাদার সজীব। ফলে প্রায় কোটি সেতু ইজারা নিয়ে লোকসান হওয়ার সম্ভাবনার কথা জানান তিনি। বর্তমানে নতুনভাবে যে মেরামতের কাজ শুরু হওয়ায় জনমনে আনন্দের দেখা মিললেও সন্দেহের কথা জানান অনেকেই। উত্তর নলবিলা এলাকার প্রবীণ আওয়ামীলীগ নেতা উলা মিয়া জানান, ইতিপূর্বে অনেক ধরনের মেরামত কাজ দেখেছি। দু-ছয় মাসের মধ্যে পুনরায় খানা খন্দের সৃষ্টি হতেও দেখেছেন। অনেকটা নিচু হওয়ায় বিগত সময়ে পানিতে প্লাবিত হয়ে অনেক জায়গায় সড়কের ক্ষতি হয়। মেরামতে এ বিষয়টা মাথায় রেখে কাজ করতে হবে। তাই মান সম্মত কাজের জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ জানান প্রবীণ এ ব্যক্তি। মহেশখালী পাহাড় সমৃদ্ধ দ্বীপ হওয়ায় প্রায় সময় পানির গতি পথ পরিবর্তন হয়ে রাস্তা / সড়কের উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হওয়ায় অল্পতেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়েন যোযোগ ব্যবস্থা। তাই দীর্ঘস্থায়ী সড়কের জন্য সড়ক মেরামতের সাথে প্রয়োজনীয় গাইডওয়াল, কালভার্ট, ড্রেনেজ ব্যবস্থা নির্মাণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবী সচেতন মহেশখালীবাসির। সম্প্রতি মেরামতের জন্য সড়কের খুড়াখুড়ি শুরু হলে ধুলা বালির যন্ত্রনায় অস্তির হয়ে পড়েন স্থানীয়রা। উত্তর নলবিলা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আব্দু শুক্কুর জানান, অনেক দিন পর মেরামত কাজ শুরু হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে দেখা দিয়েছে আনন্দ, তবে খুড়াখুড়ির ফলে ধুলা বালির কারনে চলাচলে অনেটা অসুবিধার সৃষ্টি হচ্ছেন। এ সমস্যা সমাধানে মেরামত কাজে পানি ব্যবহার করলে ধুলা বালির যন্ত্রনা থেকে অনেকটা মুক্তি পাওয়াসহ টেকসই হবে নির্মাণ কাজ এমন-ই জানান, ইঞ্জিনিয়ার হাসান রাশেল। এলজিইডি’র ২৫ কিলোমিটার সড়কের প্রয়োজনীয় সংস্কারের জন্য প্রায় ৮.৫ কোটি টাকা ব্যয়ে সড়কের আনুমানিক ৭০ ভাগ কাজ শেষ হয়। অবশিষ্ট সড়কের প্রয়োজনীয় গাইড়ওয়াল এবং মেরামতের কাজ শেষ না হওয়ায় গত বর্ষা মৌসুমে এ সড়কেও  যান চলাচল ব্যাহত হওয়ায় দূভোর্গে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা। এ বিষয়ে এলজিইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলী মঞ্জুরুল আলম ছিদ্দিকী জানান, অসমাপ্ত কাজ দ্রুত সমাপ্ত করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যদি যথা সময়ে কাজ শুরু না করে তাহলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মহেশখালী বাসির যন্ত্রনা খ্যাত সওজ’র আট কিলোমিটার সড়কের মেরামত কাজ বিষয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী আর পি বড়–য়ার দৃষ্টি আকর্ষন করলে তিনি জানান, মেরামত বিহীন ৭.৬ কিলোমিটার সড়কের প্রয়োজনীয় মেরামত কাজ শুরু হয়েছে। জনদূর্ভোগ লাগবে খুব দ্রুত কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে । তাই দেশের উন্নয়নের নামে রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় রোধকল্পে টেকসই প্রয়োজনীয় সড়ক মেরামত কাজ করার দাবী উন্নয়ন বঞ্চিত, উন্নয়ন প্রত্যাশী মহেশখালীবাসির।   


No comments:

Post a Comment