Tuesday, December 1, 2015

ধোঁয়াশার মধ্যেই অনলাইন আবেদন শুরু

প্রথমবারের মতো রাজধানীর স্কুল ভর্তিতে ৪০% এলাকা কোটা চালু করেছে সরকার। এলাকার বাসিন্দা কীভাবে নির্ধারণ হবে তা এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত করতে পারেনি শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এ নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। এই ধোঁয়াশার মধ্যে আজ থেকে শুরু হচ্ছে আগামী বছর স্কুল ভর্তির অনলাইন আবেদন। রাজধানীর ধানমন্ডি গভঃবয়েজ হাই স্কুলে নতুন পদ্ধতির উদ্বোধন করবেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ ও ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম। শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা জানান, স্কুল ভর্তিতে ভর্তি বাণিজ্যে কমানো, নিজ নিজ এলাকার স্কুলে সন্তানকে ভর্তি করানো, রাজধানী যানজট কমানো ইত্যাদি বিষয় মাথায় রেখে এলাকা কোটা পদ্ধতি চালু করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। কিন্তু এলাকায় বাসিন্দা কীভাবে নির্ধারণ হবে তা এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত করতে পারেনি শিক্ষা মন্ত্রণালয়। অভিভাবকদের আইডি কার্ড, ইউটিলিটি বিল অথবা ভাড়াটিয়া হলে বাড়ির মালিক কর্তৃক প্রত্যয়নপত্র জমা দিয়ে স্কুলে ভর্তি হতে হবে। তবে প্রমাণপত্র অসত্য হলে কোনভাবে ভর্তি করা হবে না। মন্ত্রণালয় যে কয়েকটি শর্ত দিয়েছে তা নিয়ে বাণিজ্য হতে পারে বলে আশঙ্কা করেছেন শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা।  তাদের শঙ্কা এই পদ্ধতিতে ভর্তি বাণিজ্য আরও বাড়বে। কারণ বেশির ভাগ ভাল স্কুল নির্দিষ্ট কিছু এলাকাকে ঘিরে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সবাই চাইবে এই এলাকায় বাসিন্দা হওয়া, কিংবা বাড়িওয়াল প্রতয়ণপত্র সংগ্রহ করবে। এই পদ্ধতি চালুর সময় শিক্ষাসচিব জানিয়েছিলেন, সব স্কুলের ক্যাচমেন্ট এরিয়া নির্ধারণের জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। অর্থাৎ একটি স্কুলের আওতার মধ্যে কোন কোন এলাকা পড়বে এটা নির্ধারণের জন্য একটি জরিপ করা হবে। তিনি জানিয়েছিলেন, সব স্কুলের ক্যাচমেন্ট এরিয়া নির্ধারণের ব্যাপারে এক স্কুলের সঙ্গে আরেক স্কুলের দ্বন্দ্ব হতে পারে। সেক্ষেত্রে থানা শিক্ষা অফিসার বিষয়টি নিষ্পত্তি করবেন। তিনি না পারলে জেলা শিক্ষা অফিসার এটি করবেন। কিন্তু গতকাল পর্যন্ত উপজেলা, জেলা শিক্ষা অফিসার কোন জরিপ চালায়নি। মাউশির উপ-পরিচালক মোস্তফা কামাল বলেন, উপজেলা, জেলা অফিস দিয়ে ঢাকার মতো জনবসিতপূর্ণ এলাকায় জরিপ করানো সম্ভব না। তাই আমরা ভোটা আইডি কার্ড, বাড়ির মালিক কর্তৃপক্ষের প্রত্যয়নপত্র জমার কথা বলেছি। আমরা আশা করছি কোন জটিলতা হবে না। অভিভাবক ঐক্য ফোরামের চেয়ারম্যান জিয়াউল কবির দুলু বলেন, এই পদ্ধতিতে বাণিজ্য করার একটা পথ সুগম করা হয়েছে। বাড়িওয়াল প্রত্যয়নপত্র হলেই এলাকার বাসিন্দা হবে বলে জানানো হয়েছে। এই প্রত্যয়নপত্র যে কেউ আনতে পারবে। বেসরকারি স্কুলগুলোর একটি মোহাম্মদপুর এলাকার সেন্ট জোসেফ হাই স্কুলের প্রিন্সিপাল ব্রাদার রবি পিউরিফিকেশন বলেন, সার্বিক দিক দিয়ে ভালো হলেও এটা বাস্তবায়ন করা কঠিন হবে। যেসব এলাকায় ভালো স্কুল আছে সেসব এলাকার বাড়ি ভাড়া বেড়ে যাবে। যাদের অর্থনৈতিক অবস্থা দুর্বল, তারা সেখানে থাকতেই পারবে না। আর তারা যে এই এলাকার শিক্ষার্থী তা কিভাবে আমরা নিশ্চিত হবো? তারা তো সার্টিফিকেট চাইলে একটি সার্টিফিকেট এনে দেবে। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা (মাউশি) অধিদপ্তর সূত্র জানায়, ৩৫টি স্কুলের মধ্যে মাত্র ১৪টিতে প্রথম শ্রেণি রয়েছে। তাতে শূন্য আসন সংখ্যা এক হাজার ৭৫০টি। আর প্রথম থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত শূন্য আসন সংখ্যা প্রায় সাড়ে নয় হাজার। প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি লটারি অনুষ্ঠিত হবে ২৬শে ডিসেম্বর। দ্বিতীয় থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। ‘এ’ গ্রুপের লিখিত পরীক্ষা ১৭ই ডিসেম্বর, ‘বি’ গ্রুপের লিখিত পরীক্ষা ১৮ই ডিসেম্বর ও ‘সি’ গ্রুপর লিখিত পরীক্ষা ১৯শে ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হবে। এবারই প্রথম স্কুলগুলোকে ৪০ শতাংশ ‘এলাকা কোটা’ সংরক্ষণ করতে হবে। ইতিমধ্যেই এ ব্যাপারে ক্যাচমেন্ট এরিয়া নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে আবেদনের সময় এলাকা কোটার বিষয়ে অপশন থাকবে।

No comments:

Post a Comment