Tuesday, December 1, 2015

গবেষণা নয় রাজনৈতিক বিবেচনায় পদোন্নতি

বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে শিক্ষকরা রাজনৈতিক বিবেচনায় পদোন্নতি পায় বলে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের বার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন বলছে, উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে গবেষণা হচ্ছে না। শিক্ষকদের পদোন্নতিতে গবেষণা নয়, রাজনৈতিক বিবেচনা মুখ্য হওয়ায় এমনটি হচ্ছে। এ ছাড়াও শিক্ষকদের ওপর অর্পিত দায়িত্বে অবহেলা, একাধিক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে সময় দেয়া, উত্তরপত্র মূল্যায়নে বিলম্ব, ক্যাম্পাস বন্ধের সময় গবেষণা বা অন্যান্য কাজে অনুপস্থিত থাকাসহ বেশি কিছু অভিযোগ তুলেছে বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ন্ত্রক সংস্থা ইউজিসি। উচ্চ শিক্ষায় সার্বিক শৃঙ্খলা আনতে শিক্ষকদের দায়িত্ব ও সার্বিক আচরণের উপর সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন ও এর যথাযথ প্রণয়ন বাস্তবায়ন জরুরি হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকরা ইউজিসির এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন। তারা বলছেন, এই সংস্থার লোকজন রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়োগ ও পদোন্নতি হয় বলে অন্যদের তেমন মনে করে। সম্প্রতি প্রকাশিত ইউজিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের যোগ্যতা সাধারণ বিবেচনায় অত্যন্ত উঁচু মানের। বেশির ভাগ শিক্ষক নিষ্ঠাবান ও তাদের অবদান জাতীয় উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তবে কিছু সংখ্যক শিক্ষকের বিরুদ্ধে কর্তব্যের অবহেলার অভিযোগ রয়েছে। এতে আরও বলা হয়, একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে একাডেমিক সেশনে অর্থাৎ প্রতি বছর ৩০-৩২ সপ্তাহ ক্লাস অনুষ্ঠিত হলে বাকি সময় একজন শিক্ষক গবেষণা, প্রশাসন ও শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে আলোচনা ইত্যাদি কাজে কতটুকু সময় তার কর্মস্থলে উপস্থিত থাকবেন তা সুনির্দিষ্ট নীতিমালা না থাকায় বেশির ভাগ সময় শিক্ষকরা কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকেন। অনেক অফিসে দুপুরের সময় শিক্ষকদের রুম তালাবদ্ধ থাকতে দেখা যায়। এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে এক ধরনের নেতিবাচক ধারণা জন্মাচ্ছে। এ ছাড়াও শিক্ষকরা যথাসময় পরীক্ষাসহ বিভিন্ন খাতা মূল্যায়ন না করাই ফল প্রকাশে দেরি হয়। যা সেশনজটের একটি কারণ। কোন কোন শিক্ষকের বিরুদ্ধে একাধিক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে কাজ করার অভিযোগ রয়েছে। কেউ নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়ে অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে বেশি সময় ব্যয় করেন। সরকারি শিক্ষকরা কতটুকু সময় ব্যয় করতে পারবেন তার সুনির্দিষ্ট নীতিমালা না থাকায় এসব ঘটনা ঘটছে। কমিশন মনে করে, উচ্চ শিক্ষা সার্বিক শৃঙ্খলা আনার জন্য শিক্ষকদের দায়িত্ব ও সার্বিক আচরণের উপর সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন ও এর যথাযথ প্রণয়ন বাস্তবায়ণ জরুরি হয়ে পড়েছে।তবে ইউজিসির এই প্রতিবেদনের কড়া সমালোচনা করে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশন ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ বলেন, সারা দেশে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের পক্ষ থেকে প্রত্যাখ্যান করলাম। এটা সম্পূর্ণ ভোগাস রিপোর্ট। ইউজিসি কিসের ভিত্তিতে এসব তথ্য বা অভিযোগ করেছেন তা আমাদের সামনে হাজির করা হউক। তিনি অভিযোগ করেন, ইউজিসির কর্মকর্তারা রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়োগ ও পদোন্নতি পায় বলে অন্যদের তেমন মনে করেন। গবেষণার জন্য ইউজিসি কত টাকা বরাদ্দ রেখেছে জানতে চেয়ে তিনি বলেন, গবেষণা করতে টাকা লাগে, মুখে বলে ও রিপোর্ট করে করা যায় না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন প্রফেসর ফরিদ আরও বলেন, সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ থেকে ৩% শিক্ষক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে খণ্ডকালীন পড়াশুনা করান। তাই বলে তারা সমগ্র শিক্ষক সমাজকে এভাবে হেয় করতে পারেন না।   গবেষণায় অপ্রতুল বরাদ্দ উল্লেখ করে ইউজিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, উচ্চ শিক্ষাখাতে জাতীয় বাজেটের ০.৬৫%। এই বরাদ্দ গবেষণার ন্যূনতম চাহিদা মেটাতে সক্ষম হচ্ছে না। কমিশন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে যে পরিমাণ বাজেট রাখার প্রস্তাব করে শিক্ষামন্ত্রণালয় তা সংশোধন করে দেয়। ফলে মঞ্জুরি কমিশনের পক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের ন্যূনতম চাহিদা মেটানো সম্ভব হচ্ছে না।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. মীজানুর রহমান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের কর্মঘণ্টা নির্ধারণ করে দেয়ার কোন নীতিমালা না থাকলেও তারা এ ব্যাপারে সচেতন থাকেন। ইউজিসি ঢালাওভাবে এ ধরনের অভিযোগ করতে পারেন না। রাজনৈতিক বিবেচনায় পদোন্নতি হওয়ার অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। এটা কিসের ভিত্তিতে বলেছে তাও জানতে চান এই ভিসি।

No comments:

Post a Comment