নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সাত খুন মামলার অভিযোগপত্রে ‘ত্রুটি রয়েছে’ বলে মনে
করছে হাইকোর্ট। অধিকতর তদন্ত চেয়ে বাদী সেলিনা ইসলাম বিউটির করা একটি
আবেদনের উপর শুনানির সময় গতকাল অভিযোগপত্রে ত্রুটির কথা বলেন হাইকোর্টের
বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম। আদালত আগামী রোববার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য
করেছে। ওই দিন উভয় পক্ষকে অভিযোগপত্র হয়ে যাওয়ার পর অধিকতর তদন্তের সুযোগ
আছে কি না, সে বিষয়ে আইনগত দিক দেখে আসতে বলা হয়েছে। ২০১৪ সালের এপ্রিলে
নারায়ণগঞ্জের কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম ও তার চার সঙ্গী এবং আইনজীবী চন্দন
সরকার ও তার গাড়িচালককে অপহরণের পর হত্যা করা হয়। তখন নজরুলের স্ত্রী
সেলিনা নারায়ণগঞ্জের আরেক কাউন্সিলর নূর হোসেনসহ ছয়জনকে আসামি করে মামলা
করেন। সেই সঙ্গে র্যাবের কর্মকর্তাদেরও হত্যাকা-ে সম্পৃক্ততার অভিযোগ তোলে
নজরুলের পরিবার। প্রায় এক বছর পর গত ৮ এপ্রিল নূর হোসেন ও র্যাব
কর্মকর্তাসহ ৩৫ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় গোয়েন্দা পুলিশ, যাতে
বাদ পড়েন এজাহারের পাঁচ আসামি। নূর হোসেন বাদে অন্য আসামিদের বাদ দেওয়ায়
অভিযোগপত্র প্রত্যাখ্যান করে নারাজি আবেদন করেন বাদী সেলিনা। নারায়ণগঞ্জের
আদালত তা খারিজ করে দেয়ার পর হাই কোর্টে যান তিনি। গত ২৩শে নভেম্বর হাই
কোর্টে করা ওই আবেদনের উপর ২৯শে নভেম্বর শুনানি নিয়ে ১লা ডিসেম্বর পরবর্তী
দিন ধার্য করে আদালত। গতকাল শুনানির শুরুতে নিহত নজরুলের স্ত্রীর করা
নারাজি আবেদন নিম্ন আদালতে নামঞ্জুর হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরেন তার আইনজীবী
আবদুল বাসেত মজুমদার। বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম বলেন, ‘ওয়েল রিজন’ দেখিয়ে
অভিযোগপত্রের বিরুদ্ধে বাদীর নারাজি আবেদন নিম্ন আদালত খারিজ করেছে দেখা
যাচ্ছে। ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশে ভুলটা কোথায়? বলেছে, আসামির নাম-পরিচয় পাওয়া
গেলে দেয়া যাবে। তখন বাসেত মজুমদার বলেন, মামলার বাদী যদি এজাহারে কারও
নাম বলে থাকলে সাধারণত অভিযোগপত্রে সেই নাম থাকা উচিত। তবে পুলিশ যে
অভিযোগপত্র দাখিল করেছে, সেখানে কারও নাম রয়েছে, আবার কারও নাম বাদ দিয়েছে।
ঘটনার হোতা ষড়যন্ত্রকারী মামলার তদন্তকালে দেশে ছিল না। সরকার তাকে ফিরিয়ে
এনেছে। এখন তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে নতুন তথ্য পাওয়া যেতে পারে। এজন্য
অধিকতর তদন্ত চাচ্ছি। বিচারপতি ইনায়েতুর রহিম বলেন, মামলার অভিযোগপত্র
দাখিল করা হয়েছে। এরপরে যার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র হয়েছে, সেই আসামিকে
রিমান্ডে নিয়ে সম্পূরক অভিযোগপত্র দাখিলের কোনো নজির আছে কি? আইন ও
পারিপার্শ্বিক অবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে।“বিশাল মামলা।
সবকিছু অর্জন করতে গিয়ে মামলার বিচার যদি কোনো কারণে বিলম্বিত হয়, তাহলে
যারা ভেতরে (কারাগারে) রয়েছে, তারা তো বেনিফিট নেওয়ার চেষ্টা করবে? আবার
এটিও সত্য, যারা ওই ঘটনার সঙ্গে জড়িত তাদেরও বিচার হওয়া দরকার। বেঞ্চের
জ্যেষ্ঠ বিচারক ইনায়েতুর রহিম বলেন, বলেন, ‘অভিযোগপত্র পর্যালোচনা করে
দেখেছি, মনে হয়েছে এতে মারাত্মক ক্রটি রয়েছে। আপনারা দেখেন। যদিও ত্রুটির
বিষয়টি সুনির্দিষ্ট করে বলছি না। ওই সেন্সে ডিফেক্ট না। আপনারা
অভিযোগপত্রটি ভালো করে দেখুন। তখন বাসেত মজুমদার অভিযোগপত্র পর্যালোচনার
জন্য সময় চাইলে আদালত রোববার শুনানির দিন রাখে। শুনানিতে বাসেত মজুমদারকে
সহায়তা করেন আইনজীবী মন্টু ঘোষ। রাষ্ট্র পক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি
জেনারেল শেখ এ কে এম মনিরুজ্জামান কবির ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল শহীদুল
ইসলাম।
Subscribe to:
Post Comments (Atom)

No comments:
Post a Comment