Tuesday, December 29, 2015

সুন্দরবনে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত ২, বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলি উদ্ধার

পূর্ব সুন্দরবনে র‌্যাব-৮-এর সঙ্গে বনদস্যুদের বন্দুকযুদ্ধে ২ জন নিহত হয়েছে। এরা হলো- দস্যু আকাশ বাবু বাহিনী প্রধান আবুল কাশেম ওরফে আকাশ বাবু (৪০) ও সেকেন্ড-ইন-কমান্ড ফরিদ ওরফে মাইজ্জা ভাই (৪৫)। গতকাল সকাল ৭টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থলে থেকে ১৭টি দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র ও ৪৪৪ রাউন্ড বিভিন্ন ধরনের গুলিসহ বিভিন্ন মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় র‌্যাব ৮-এর ডিএডি মাহাবুব হোসেন বাদী হয়ে মংলা থানায় পৃথক দুটি মামলা করেছেন। র‌্যাব-৮ উপ-অধিনায়ক মেজর আদনান কবির জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব ৮-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফরিদুল আলমের নেতৃত্বে একটি টিম ওই সময় অভিযান চালায় তাম্বুলবুনিয়া খাল এলাকায়। এ সময় র‌্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে তাদের ওপর আকাশ বাবু বাহিনীর সশস্ত্র সদস্যরা গুলি চালায়। র‌্যাবও এ সময় পালটা গুলিবর্ষণ করে। আধঘণ্টাব্যাপী বন্দুকযুদ্ধে র‌্যাবের দেড়শ রাউন্ড গুলি খরচ হয়। একপর্যায়ে র‌্যাবের আক্রমণে টিকতে না পেরে বনদস্যুরা পিছু হটে গভীর বনে পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থল তল্লাশি করে দুটি গুলিবিদ্ধ মৃতদেহ ও ১৭টি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করে র‌্যাব। ঘটনাস্থলের কাছাকাছি মাছ ধরার জেলেরা এসে ওই লাশ বাহিনী প্রধান আবুল কাশেম ওরফে আকাশ এবং সেকেন্ড ইন কমান্ড ফরিদ ওরফে মাইজ্জা ভাইর বলে শনাক্ত করে। জেলেদের উদ্ধৃতি দিয়ে র‌্যাব জানায়, কাশেমের বাড়ি বাগেরহাটের শরণখোলায়। তবে ফরিদের ঠিকানা জানা সম্ভব হয়নি। এদিকে, অন্য একটি সূত্রে জানা যায়, আকাশের বাড়ি পিরোজপুরের জিয়ানগরে। তবে এ ব্যাপরে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। র‌্যাব জানায়, উদ্ধারকৃত আগ্নেয়াস্ত্রের মধ্যে রয়েছে এলজি ৪টি, কাটাবন্দুক ৫টি, একনলা বন্দুক ৬টি (পাকিস্তানি), এয়ার রাইফেল ২টি (চায়না), বন্দুকের তাজা কার্তুজ ৩৩টি, ০.২২ বোর রাইফেলের গুলি ১৪৭ রাউন্ড, এয়ার গানের গুলি ২৬৪টি, বন্দুকের ফায়ারকৃত কার্তুজ (খোসা) মোট ৩৬টি, দেশীয় ধারালো রামদা ৭টি, বান্ডুলিয়ার ২টি, টর্চলাইট ২টি, তাস ১ সেট, চাঁদা আদায়ের কার্ড হিসেবে ব্যবহৃত লেমিনেটিংকৃত দশ টাকার নোট ৮টি এবং পাঁচ টাকার নোট ১৪টি, মোবাইল সেট ২টি, সিমকার্ড ৯টি, হাতঘড়ি ১টি এবং বিপুল পরিমাণ রসদসামগ্রী ও তৈজষপত্র উদ্ধার করা হয়।
মামলা করতে আসায় নারীকে ওসির জুতাপেটা করা হুমকি
ডিমলা (নীলফামারী) থেকে: ডিমলা থানার ওসির বিরুদ্ধে অবৈধ দখলদারের সঙ্গে আঁতাত ও বৈধ মালিককে উচ্ছেদে সহযোগিতার অভিযোগ উঠেছে। থানায় মামলা করতে আসা বৈধ মালিককে জুতাপেটা করে থানা থেকে বের করে দেয়ার হুকুমও দেন ওসি। গতকাল সন্ধ্যায় ওসি রুহুল আমীন খান ও তদন্ত কর্মকর্তা এএসআই খতিবরের বিচার দাবি করে ডিমলা প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন বৈধ মালিক নুরুজ্জামান ও তার অসহায় পরিবার। সংবাদ সম্মেলনে নুরুজ্জামানের মা নুরজাহান বাচ্চাই লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। লিখিত বক্তব্যে জানা যায়, উপজেলা সদরের (কেয়ারবাজার) নামক স্থানে আমিনুর রহমানের পুত্র নুরুজ্জামান পজিশন খরিদা ডিড মূলে জমির স্বত্ববান হয়ে দীর্ঘদিন ধরে বসতবাড়ি নির্মাণ করে স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে বসবাস করে আসছেন। অন্যদিকে একই এলাকার মৃত রজনী কান্ত রায়ের পুত্র বীজেন্দ্রনাথ রায় ডিকালুসহ তার লোকজন উক্ত জমির পক্ষে কোনো প্রকার বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই বসতবাড়িসহ জমিটি অবৈধ দখলের চেষ্টা করতে থাকে। এতে নুরুজ্জামান বাধা দিলে ডিকালুর আজ্ঞাবাহী মৃত সোলায়মান হোসেনের পুত্র শফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে ডিমলা থানায় নুরুজ্জামানের বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিল করেন। নুরুজ্জানের স্ত্রী ও এলাকাবাসী বলেন, থানায় অভিযোগের ভিত্তিতে ডিমলা থানার এএসআই খতিবর রহমান বিষয়টি তদন্তকালে বাদীর সঙ্গে আঁতাত করে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে নুরুজ্জামানের বসতবাড়িতে আগুন দেয়ার পরামর্শ দেয়। পুলিশ অফিসারের পরামর্শক্রমে গত বুধবার ওই পুলিশ অফিসারের উপস্থিতিতে দিবালোকে ডিকালুসহ তার পাল্লাভুক্ত ২৫-৩০ জন লাঠিসোটা দিয়ে প্রতিপক্ষ নুরুজ্জামানের বাড়িতে হামলা চালিয়ে তার পিতা মাতা ভাই ও স্ত্রীকে মারধরে আহত করে এবং বসতবাড়িতে আগুন লাগিয়ে বসতবাড়ির দুটি ঘর পুড়িয়ে দেয়। এ সময় স্থানীয় লোকজন নুরুজ্জামানসহ আহতদের উদ্ধার করে ডিমলা হাসপাতালে ভর্তি করান। নুরুজ্জামানের মাতা নুরজাহান বলেন, ডিমলা থানায় তার বসতবাড়ি পুড়িয়ে দেয়ায় মামলা করতে গেলে থানার ওসি রুহুল আমীন খান তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। একপর্যায়ে জুতাপেটা করে থানা থেকে বের করার জন্য কর্মরত পুলিশ সদস্যকে নির্দেশ প্রদান করেন।

No comments:

Post a Comment