মানিকগঞ্জ থেকে ঢাকায় আসতে যাত্রীবাহী চলন্ত এক বাসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের
ছাত্রীকে লাঞ্ছিত করার বিষয়টি স্বীকার করেছে চালকের সহকারী মামুন। শুক্রবার
রাতে মানিকগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করে তাকে ঢাকার দারুসসালাম থানায় আনা হয়।
পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মামুন যৌন হয়রানির কথা স্বীকার
করেছে। পরে ওই তরুণীর সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ার কথাও স্বীকার করেছে
সে। আরও তথ্য আদায়ের জন্য আদালতে সোপর্দ করে ৩ দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়েছে।
দারুসসালাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিমুজ্জামান জানান,
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মামুন অপরাধের কথা স্বীকার করেছে। তাকে রিমান্ডে
নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। গত শুক্রবার মানিকগঞ্জ থেকে ঢাকার গাবতলীতে
যাতায়াতকারী শুকতারা পরিবহনের একটি বাসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই ছাত্রী
যৌন হয়রানির শিকার হন। তৃতীয় বর্ষের ওই ছাত্রী পরে রাজধানীর দারুসসালাম
থানায় গিয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা
দায়েরের পরপরই মানিকগঞ্জ পুলিশের সহায়তায় মামুন নামে চালকের ওই সহকারীকে
গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে চালকের সহকারী
মামুন যৌন হয়রানির কথা স্বীকার করেছে। তার দাবি, বাসে ওই ছাত্রীর পাশের
আসনে সে বসেছিল। দু’-একবার তার গায়ের সঙ্গে ধাক্কাও লেগেছে। এ নিয়ে ওই
তরুণীর সঙ্গে তার কথাকাটাকাটি হয়েছে। মামুন স্বীকার করেছে, কথাকাটাকাটির
একপর্যায়ে ওই মেয়েকে তারা বাস থেকে নামিয়ে দেয়ার কথা বললেও শেষ পর্যন্ত
নামিয়ে দেয়নি। থানায় দায়েরকৃত এজাহারে ওই ছাত্রী বলেন, শুক্রবার দুপুরে
মানিকগঞ্জ থেকে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শামসুন্নাহার হলে ফেরার জন্য
শুকতারা পরিবহনের একটি বাসে (জ-০৪-০০৬৬) উঠেন। ওই বাসে যাত্রী কম ছিল। বেলা
দেড়টার দিকে চালকের সহকারী মামুন তার পাশের খালি আসনে বসে। এর কিছুক্ষণ
পরই মামুন তার সঙ্গে অশালীন আচরণ করতে থাকে। এমনকি একপর্যায়ে মামুন তার
শরীরে হাত দেয়ার চেষ্টা করে। সঙ্গে সঙ্গে প্রতিবাদ করলে মামুন তাকে
তুই-তোকারি করে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে। একপর্যায়ে বাস থেকে নামিয়ে দেয়ার
চেষ্টাও করে। এ সময় বাসের অপর কয়েকজন যাত্রী প্রতিবাদ করায় তিনি ওই বাসেই
গাবতলী গিয়ে নামেন। পরে থানায় গিয়ে তিনি চালকের সহকারীর বিরুদ্ধে মামলা
দায়ের করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই ছাত্রী বলেন, বাসচালকের সহকারীর
আচরণে তিনি হতবাক হয়ে গিয়েছিলেন। প্রতিবাদ করায় উল্টো তাকেই যখন গালিগালাজ
করা হচ্ছিল তখন তিনি অসহায় বোধ করছিলেন। বিষয়টি তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক বড়
ভাইকে জানান। ওই বড় ভাইয়ের মাধ্যমে তিনি বাসে থাকা অবস্থাতেই ঢাকা
মেট্রোপলিটন পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে
পুলিশের ওই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার পরামর্শে থানায় গিয়ে মামলা করেন। তরুণী
বলেন, এই ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া প্রয়োজন। তিনি অন্যায়ের প্রতিবাদ
করতে গিয়েও হেনস্তার শিকার হয়েছেন। অনেক নারী বাসচালক ও তাদের সহকারীর
কাছে অপদস্থ হয়ে প্রতিবাদ করার সাহস পান না। এদিকে শুক্রবার রাতেই
বিষয়টি জেনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক
শামসুন্নাহার হলে যৌন হয়রানির শিকার ওই ছাত্রীর সঙ্গে কথা বলেন। তিনি
প্রতিবাদকারী ওই ছাত্রীকে সাহস যোগানোর পাশাপাশি কেউ নির্যাতনের শিকার হলে
তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ জানানোর আহ্বান জানান। একই সঙ্গে নির্যাতনকারী ওই
বাসচালকের সহকারীর বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেয়ার জন্য পুলিশের প্রতি
আহ্বান জানান।
Subscribe to:
Post Comments (Atom)

No comments:
Post a Comment