ভারত ও বাংলাদেশ সীমান্তে ভারতীয় ভুয়া নাগরিকদের বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে
পুলিশকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। পুলিশ মনে করছে সীমান্তের কাছে উত্তর ২৪
পরগনা, নদীয়া, মালদা ও মুর্শিদাবাদে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি ভুয়া নাগরিক
হিসেবে অবস্থান করছে। তারা ভারত ও বাংলাদেশ উভয় দেশেরই ভুয়া ভোটার কার্ড
তৈরি করেছে। এর মাধ্যমে তারা সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কের ইনফর্মারে পরিণত হয়ে
থাকতে পারে। গতকাল এ খবর দিয়েছে অনলাইন টাইমস অব ইন্ডিয়া। পুলিশের এক
সিনিয়র কর্মকর্তা বলেছেন, বাংলাদেশি অনেক সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে এরই মধ্যে
পুলিশি হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পাচার করা ছাড়াও ভুয়া ভারতীয়
পরিচয়দানকারীরা বাংলাদেশের বেশ কিছু সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর গোয়েন্দা হিসেবে কাজ
করে। এ নিয়ে সম্প্রতি যশোরে বাংলাদেশ ও ভারতের প্রশাসনিক পর্যায়ে বৈঠক
অনুষ্ঠিত হয়েছে। দু’পক্ষই এ অবস্থায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। এতে উত্তর ২৪
পরগণার জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মানমীট কর নন্দ, এসপি তন্ময় রায় চৌধুরী ও
অন্যান্য কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে বাংলাদেশি পক্ষে উপস্থিত ছিলেন
যশোর, সাতক্ষীরা ও ঝিনাইদহ জেলার কর্মকর্তারা। তিন দিনের এ বৈঠকে দু’দেশের
সীমান্ত রক্ষা বাহিনী বিএসএফ ও বিজিবির প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।
তন্ময় রায় চৌধুরী বলেছেন, বাংলাদেশ ও ভারতে যেসব তালিকাভুক্ত অপরাধী লুকিয়ে
আছে তা নিয়ে এরই মধ্যে আমরা আলোচনা করেছি। আলোচনা হয়েছে কিভাবে তাদেরকে
দমন করা যায় তা নিয়ে। উত্তর ২৪ পরগনার প্রায় ৩৯০ জন অপরাধীর একটি তালিকা
আমরা বাংলাদেশ প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করেছি। বাংলাদেশে অপরাধ করে এদের
বেশির ভাগই পালিয়ে ভারতে আশ্রয় নিয়েছে। এ সময় বাংলাদেশ থেকে সাম্প্রতিক
সময়ে যেসব অপরাধী পালিয়ে ভারতে গিয়েছে তাদের একটি তালিকা ভারতের হাতে
দিয়েছে বাংলাদেশ। এর ছয় মাস পরে অগ্রগতি নিয়ে আরেকটি বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
সূত্রের উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়, গত দু’বছরে সীমান্তের কাছে বশিরহাট
ও বনগাঁওয়ের বিভিন্ন গ্রামে স্থায়ীভাবে অবস্থান করার জন্য গিয়েছে কমপক্ষে
২০০০ বাংলাদেশি।
Subscribe to:
Post Comments (Atom)

No comments:
Post a Comment