Wednesday, December 16, 2015

কলকাতায় বাংলাদেশের বিজয় উৎসব

কলকাতায় বাংলাদেশ বিজয় উৎসবের সূচনা করে বাংলাদেশের শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু বলেন, এক দীর্ঘ সংগ্রামের মধ্য দিয়েই বাংলাদেশের উদ্ভব হয়েছে। আর এই সংগ্রামে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বের কথা তিনি বারে বারে স্মরণ করেন। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা হয়েছিল যে শহরের মাটি থেকে সেখানে ৪৪ বছর পর বিজয় উৎসব পালন করতে এসে আমু বলেন, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ভারত প্রধান শক্তি ছিল। ভারতের মানুষ একদিন মুক্তিযুদ্ধকে নিজেদের যুদ্ধ বলে গ্রহণ করেছিল। সেদিন ভারত সরকার ও সেদেশের মানুষ বাংলাদেশের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করেছিলেন। মঙ্গলবার নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামের বৃহৎ পরিসরে পাঁচদিন ব্যাপী বিজয় উসবের সূচনা অনুষ্ঠানের সভাপতি বাংলাদেশের হাই কমিশনার জকি আহাদ বলেন, এই প্রথম নিজ অঙ্গনের বাইরে এসে এত বড় পরিসরে এই আয়োজন। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি পশ্চিমবঙ্গের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম বলেন, দেশভাগের যন্ত্রণা আমাদেরও রয়েছে। কিন্তু আমাদের অভিন্ন হৃদয়। আমরা একসঙ্গে রয়েছি। আমাদের সম্পর্ক ছিন্ন হওয়ার নয়। এই প্রসঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথা উল্লেখ করে ফিরহাদ হাকিম বলেন, মমতার হৃদয়ে একদিকে পশ্চিমবঙ্গ আরেকদিকে বাংলাদেশ। তার মধ্যে বাংলাদেশ সম্পর্কে উন্মাদনা রয়েছে। ৫দিন ব্যাপী এই উৎসবে প্রদর্শিত ও বিক্রির ব্যাবস্থা করা হয়েছে বাংলাদেশের পণ্য ও সুস্বাদু খাবার। মোট ৪১টি স্টল রয়েছে । প্রথমদিনেই ক্রেতাদের ভিড় দেখা গেছে বিভিন্ন স্টলে। জামদানি, রাজশাহী শিল্প যেমন রয়েছে তেমনি রয়েছে বাংলাদেশের নিজস্ব অন্যান্য সামগ্রী।
উৎসব চলবে ১৯শে ডিসেম্বর পর্যন্ত। প্রতিদিনই থাকছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। নজরুলগীতি, রবীন্দ্রসংগীত, লোকগীতি, বাউলগান, লালনগীতি, আধুনিক গান, ব্যান্ড সংগীত, সুফিসংগীত, নৃত্যসহ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র দেখানো হবে। এসব অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন বাংলাদেশের রেনেসাঁ, এলআরবি, কুষ্টিয়ার লালন শিল্পীগোষ্ঠীর শিল্পীরাসহ বাংলাদেশের অন্তত ৬০ জন নামীদামি শিল্পী। থাকবেন পশ্চিমবঙ্গের প্রখ্যাত শিল্পীরাও।

No comments:

Post a Comment