র্যাব-এর উপস্থিতি টের পেয়ে ওয়্যারড্রোবের ভেতরে লুকিয়ে পড়ে সিলেটের
সন্ত্রাসী পাঙ্গাস। সে বাসায় আছে- নিশ্চিত জেনেই র্যাব চালিয়েছিল অভিযান।
কিন্তু তাকে ঘরে না পেয়ে তল্লাশি শুরু করে র্যাব। একপর্যায়ে কাপড় রাখার
ওয়্যারড্রোবের ভেতরে তাকে পাওয়া যায়। সেখান থেকে র্যাব সদস্যরা তাকে আটক
করেন। পরে পাঙ্গাসের স্বীকারোক্তি মতে, সেই আলোচিত কালো ব্যাগ ও রামদাও
উদ্ধার করা হয়। এদিকে, পাঙ্গাসকে গ্রেপ্তারে সিলেটে পীরমহল্লা, হাউজিং
এস্টেট এলাকায় স্বস্তি নেমে এসেছে। আর পাঙ্গাসের বিরুদ্ধে চারটি মামলা
চলমান রয়েছে, গতকাল দুপুরে র্যাব-৯ এর সদর দপ্তরে প্রেস ব্রিফিংয়ে
জানিয়েছের উপ-অধিনায়ক মেজর হুমায়ূন কবীর। সিলেটের ‘পাঙ্গাস’। পুরো নাম
বাবুল হোসেন ওরফে পাঙ্গাস। এক নামেই চেনে সবাই। ছিনতাইকারী ও সন্ত্রাসী হিসেবে
নগরীতে তার পরিচিতি রয়েছে। সিলেট নগরীর পীর মহল্লা এলাকায় পাঙ্গাসের বাসা।
তার মূল বাড়ি দিরাই উপজেলার বাটিপাড়া গ্রামে। তার পিতার নাম আবুল বাশার
ওরফে আবুল হোসেন। গতকাল গ্রেপ্তারের পর র্যাব-৯ এর সদর দপ্তরে তাকে নিয়ে
প্রেস ব্রিফিং করেন র্যাব সদস্যরা। এ সময় গ্রেপ্তারকৃত পাঙ্গাসকেও
সাংবাদিকদের সামনে হাজির করা হয়। র্যাব সদস্যরা জানান, কয়েক দিন আগে
‘দৈনিক মানবজমিন’ পত্রিকায় সিলেটের সন্ত্রাসী পাঙ্গাসকে নিয়ে খবর প্রকাশিত
হয়। এর প্রেক্ষিতে র্যাব সদস্যরা তার সম্পর্কে খোঁজ নেয়া শুরু করেন।
র্যাব’র অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে পাঙ্গাসের অপরাধ কর্মের নানা কাহিনী।
পাঙ্গাসের বিরুদ্ধে সিলেট নগরীর এয়ারপোর্ট থানায় তিনটি ওয়ারেন্ট রয়েছে।
এছাড়া আরও কয়েকটি মামলা রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন সময় নগরীর
মজুমদারী, খাসদবির, পশ্চিম-পূর্ব পীর মহল্লা এলাকায় ছিনতাই, চাঁদাবাজি,
ভূমিদস্যুতা, অগ্নিসংযোগের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া, রাজনৈতি কর্মকাণ্ডে সে
দেশি-বিদেশি অস্ত্র দিয়ে মহড়া প্রদর্শন করে। এসব মহড়ার খবর বিভিন্ন সময়
গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। এদিকে, পাঙ্গাসকে গ্রেপ্তারের দাবিতে এলাকায়
ভুক্তভোগী অনেকেই র্যাব’র কাছে অভিযোগ দায়ের করেন। এসবের প্রেক্ষিতে
পাঙ্গাসকে গ্রেপ্তারে র্যাব-৯ এর কর্মকর্তা সোর্স নিয়োগ করেন। আর এই
সোর্সের ভিত্তিতে রোববার রাত ২টার সময় র্যাব কর্মকর্তারা জালালাবাদ এলাকার
ঐক্যতান ১৫২ নম্বর বাসায় অভিযান চালায়। ওই সময় পাঙ্গাস বাসাতেই ছিল।
কিন্তু র্যাব’র উপস্থিতি টের পেয়ে সে লুকিয়ে পড়ে। প্রথমে ঘরের ভেতরে
অভিযান চালিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। একপর্যায়ে র্যাব সদস্যরা বাসার ভেতরে
তল্লাশি শুরু করেন। তল্লাশির একপর্যায়ে বাসার ওয়্যারড্রোবের ভেতর থেকে তাকে
আটক করা হয়। এদিকে, গ্রেপ্তারের পর র্যাব সদস্যরা পাঙ্গাসকে জিজ্ঞাসাবাদ
করেন। তাদের জিজ্ঞাসাদের প্রেক্ষিতে পাঙ্গাসের সেই কালো ব্যাগ ও রামদা
উদ্ধার করা হয়। র্যাব কর্মকর্তারা জানান, গ্রেপ্তারের পর পাঙ্গাস তার
অপকর্মের কথা র্যাব’র কাছে স্বীকার করেছে। তার কাছ থেকে নগরীর পীর
মহল্লাসহ আশপাশের এলাকার অপরাধীদের সম্পর্কে তথ্য পাওয়া গেছে। এদিকে, এলাকা
সূত্রে জানা গেছে, স্বেচ্ছাসেবকলীগ পরিচয়ে পাঙ্গাস এলাকায় চাঁদাবাজি করে
আসছিল। গত রোববার সে চাঁদার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকার লোকজনকে হুমকি দেয়।
এমনকি তাদের হত্যা করারও হুমকি দেয়। এলাকার লোকজন জানান, পাঙ্গাস সব সময়
ফেনসিডিল, গাঁজা ও মদ সেবন করে। আর রাজনৈতিক নেতারা তাদের গ্রুপের ক্যাডার
হিসেবেই তাকে ব্যবহার করেন। সে ইতিমধ্যে সিলেটে রাজপথে অস্ত্র নিয়ে মহড়া
দিয়ে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। গেল কয়েকদিন আগে নগরীর জিন্দাবাজারে স্বেচ্ছাসেবকলীগের
শান্তিপূর্ণ মিছিলে সে অস্ত্র নিয়ে মহড়া দিয়েছে। এর আগে নগরীর দর্শন দেউড়ী
এলাকায় নিজ দলের কর্মীদের উপর সে প্রকাশ্য অস্ত্র নিয়ে হামলা চালিয়েছে।
হাউজিং এস্টেট এলাকা জামায়াতের কয়েকজন নেতার বাসায় সে অগ্নিসংযোগ করে
আলোচিত হয়। পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষেও সে লিপ্ত হয়।
Subscribe to:
Post Comments (Atom)

No comments:
Post a Comment