Sunday, December 6, 2015

অবশেষে মহেশখালী জনতাবাজার-গোরকঘাটা সড়কের সংস্কার কাজ শুরু হয়েছে

অবশেষে মহেশখালী জনতাবাজার-গোরকঘাটা সড়কের সংস্কার কাজ শুরু হয়েছে
স.ম.ইকবাল বাহার চৌধুরী
জেলার দ্বীপ উপজেলা মহেশখালীর সড়ক যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ন জনতাবাজার-কালারমারছড়া-গোরকঘাটা সড়কের সংস্কার কাজ অবশেষে শুরু হওয়ায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছে দ্বীপের দীর্ঘদিনের বঞ্চিত উত্তর মহেশখালী বাসি। মহেশখালী সেতুর মাধ্যমে বিচ্ছীন্ন দ্বীপের সাথে মুল ভুখন্ডের সরাসরি সড়ক যোগাযোগ শুরু হওয়ায় অনেক তীর্তযাত্রী সহ পর্যটক সড়ক পথে মহেশখালী ভ্রমন করলেও দীর্ঘদিন ধরে মহেশখালীর প্রবেশদ্বারখ্যাত উত্তর মহেশখালীর প্রায় ১৪ কিঃমিঃ রাস্তা খানাখন্ধকে ভরে গিয়ে গাড়ী যোগে সড়ক যোগযোগে অনুপযোগি হয়ে পড়েছিল। দীর্ঘ কষ্টের পর অবশেষে বর্তমান মহেশখালী-কুতুবদিয়ার সাংসদ আলহাজ্ব আশেক উল্লাহ রফিক‘র হস্তক্ষেপে সড়ক যন্ত্রনা থেকে মুক্তি পেতে যাওয়ায় পরিবহন শ্রমিক থেকে শুরু করে যাত্রীদের মাঝেও দেখা দিয়েছে আনন্দের বন্যা। দ্বীপের গুরুত্বপুর্ণ ইউনিয়ন কালারমারছড়ায় আওয়ামীলীগের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী মাষ্টার মোঃ সেলিম চৌধুরী জানান, উত্তর মহেশখালীবাসীর কষ্টের কথা চিন্তা করে মহেশখালী-কতুবদিয়ার প্রানপ্রিয় নেতা সড়ক যন্ত্র থেকে রেহাই দেওয়ার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে নিয়মিত যোগাযোগ করে দ্রুত রাস্তার কাজ শুরু করেছেন। ইতিপূর্বে শুধু সাড়ে সাত কলোমিটার সড়ক মেরামত কাজ না হওয়ায় পরিবহণ শ্রমিকদের ইচ্ছে মতো ভাড়া আদায়ের কাছে জিম্মি ছিলেন মহেশখালীবাসি। শুধু আট কিলোমিটার সড়ক মেরামত বিহীন থাকার অজুহাতে অধিকাংশ সড়কের মেরামত কাজ প্রায় শেষ হলেও বিগত কয়েক বছরের অতিরিক্ত ভাড়া থেকে মুক্তি পায়নি দ্বীপবাসি। উপজেলার প্রশাসনিক সব কিছু মূল ভু-খন্ডের একেবারে দক্ষিনে অবস্থিত হওয়ায় উপদ্বীপ ধলঘাট, মাতারবাড়ি সহ উত্তরের চারটি ইউনিয়নের হাজারো জনগন বিভিন্ন প্রয়োজনে প্রতিদিন উপজেলা সদরে যাতায়ত করে থাকেন। এ অবস্থায় অবশিষ্ট ভাঙ্গা রাস্তা/সড়ক, কয়েকটি ঝুকিপূর্ন কালভার্ট ও অতিরিক্তি গাড়ি ভাড়া নিয়ে চরম বেকায়দায় পড়েন যাত্রীরা। বর্তমানে গত অর্থ বছরে নির্মিত এলজিইড়ি’র(জনতা বাজার-শাপলাপুর-গোরকঘাটা) সড়কের বিভিন্ন অংশে বড় ধরনের ভাঙন ও গর্তের সৃষ্টি হওয়ায় অল্প দিনেই শেষ হয়ে যায় যাত্রীদের আশা আকাংখা। ফলে অনেক দিন পর হলেও ভাল সড়ক/ রাস্তা পাওয়ার আনন্দ উপভোগ করতে পারছেনা অবহেলিত মহেশখালীবাসি। ভাঙ্গা সড়ক ও কালভার্টের অজুহাত দেখিয়ে মহেশখালীর পরিবহনে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ থাকলেও দেখার যেন কেউ নেই। বর্তমানে বিগত কয়েক বছরের তুলনায় এলজিইড়ি এবং সওজ,র অধিকাংশ সড়কের অবস্থা ভাল হলেও পরিবহণ ভাড়া কমেনি এক টাকাও। অনেকের অভিযোগ, মহেশখালীর পরিবহণ সেক্টর নিয়ন্ত্রনে আওয়ামীলীগ ও বিএনপি পন্থি কয়েকটি প্রভাবশালী পরিবার এবং তাদের সাথে এলাকা ভিত্তিক এক সময়ের পেশাদার ডাকাত-সন্ত্রাসীরা জড়িত থাকায় অতিরিক্ত ভাড়া আদায় নিয়ে কেউ মূখ খোলতে পারছেনা। ফলে ইচ্ছে মতো ভাড়া আদায় করলেও দেখার যেন কেউ নেই এমন অভিযোগ যাত্রীদের। শুধুমাত্র আট (৮) কিলোমিটার ভাঙ্গা সড়ক ও হোয়ানক কালাগাজীর পাড়া ঝুকিপূর্ন নড়বড়ে কালভার্টে’র কারণে মহেশখালীতে মালামাল নিয়ে আসতে অতিরিক্ত পরিবহণ ব্যয়ের অযুহাতে ব্যবসায়িরা ইচ্ছে মতো নিত্য প্রয়োজনিয় পণ্যের মূল্য আদায় করছে বলে জানান ক্রেতারা। ভাঙা সড়কের কারনে বর্তমানে দুরপাল্লার পণ্যবাহী পরিবহণ মহেশখালীতে অনেকটা কমে গেছে বলে জানান মহেশখালী সেতু ইজারাদার সজীব। ফলে প্রায় কোটি সেতু ইজারা নিয়ে লোকসান হওয়ার সম্ভাবনা কথা জানান তিনি। বর্তমানে নতুনভাবে যে মেরামতের কাজ শুরু হওয়ায় জনমনে আনন্দের দেখা মিললেও সন্দেহের কথা জানান অনেকেই।তাদের প্রশ্ন আধো ঠিকাদার মান সম্মত কাজ করবে কিনা ? নাকি আগের মতোই লোক দেখানো কাজ করে দু‘দিন পরেই তথৈবচ অবস্থায় ফিরে যাবে ? মহেশখালী বাসির যন্ত্রনা খ্যাত সওজ’র আট কিলোমিটার সড়কের মেরামত কাজ বিষয়ে মুটুফোনে কক্সবাজার নির্বাহী প্রকৌশলী আর পি বড়–য়ার দৃষ্টি আকর্ষন করলে তিনি অফিসে যোগাযোগ করতে বলে ফোন কেটে দেন। সচেতন মহলের প্রশ্ন, বর্তমান সরকারের উন্নয়নের অংশ হিসাবে যে কাজ শুরু হয়েছে দুর্ণীতিবাজ আমলা ও ঠিকাদারদের কারনে নি¤œমানের কাজ হলে কে দেখবে? তাই দেশের উন্নয়নের নামে রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় রোধকল্পে টেকসই প্রয়োজনীয় সড়ক মেরামত কাজ শুরুর দাবী উন্নয়ন বঞ্চিত ও উন্নয়ন প্রত্যাশী অবহেলিত দ্বীপবাসি।  

No comments:

Post a Comment