Wednesday, December 2, 2015

নির্বাচন কমিশন অক্ষম ও নতজানু বিএনপি

বর্তমান নির্বাচন কমিশনকে অক্ষম, নতজানু ও মেরুদণ্ডহীন বলে আখ্যায়িত করেছে বিএনপি। দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কমিশনকে পৌর নির্বাচন ১৫ দিন পেছানো ও দেশব্যাপী গণগ্রেপ্তার বন্ধের দাবি জানিয়েছিল বিএনপি। কিন্তু এসব দাবি নিরসনে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি তারা। নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার পর এভাবে বিএনপির মেয়র প্রার্থীদের গ্রেপ্তার করা হলে নির্বাচন প্রতিযোগিতামূলক হবে না। কমিশন যদি চোখ-কান বন্ধ করে থাকে তাহলে সরকারের নীলনকশায় ভরপুর একটি নির্বাচন হবে। গতকাল নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির মুখপাত্র ও আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ড. আসাদুজ্জামান রিপন এসব কথা বলেন। ইসির সমালোচনা করে বিএনপির মুখপাত্র বলেন, পৌর নির্বাচনে অংশগ্রহণের লক্ষ্যে বিএনপি নির্বাচন কমিশনের কাছে কিছু পর্যবেক্ষণ ও দাবি তুলে ধরেছিল। কিন্তু দুঃখের সঙ্গে লক্ষ্য করছি, কমিশন এসব দাবি নিরসনের কোন পদক্ষেপ নেয়নি। আমরা প্রতীকীভাবে ১৫ দিন সময় বাড়ানোর কথা বলেছিলাম। এর জন্য এক মাস সময় লাগলে লাগতে পারত, তাহলে সমস্যা কি হতো। এর মধ্য দিয়ে ৫০ লাখ নতুন ভোটার নির্বাচনের সঙ্গে যুক্ত হতে পারতো। পৌর নির্বাচন না পিছিয়ে ৫০ লাখ নতুন ভোটারকে তাদেরকে ভোট দেয়া থেকে বঞ্চিত করেছে কমিশন। তিনি বলেন, আমরা নির্বাচন কমিশনকে স্বাধীন ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে ভাবতে চাই। তারা অক্ষমতা থেকে সক্ষমতা অর্জন করবে, এটাই আমরা প্রত্যাশা করি। দলের প্রার্থীদের গ্রেপ্তারের অভিযোগ করে বিএনপি মুখপাত্র বলেন, সারা দেশে পৌর নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে থেকেই দলের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। সোমবার নান্দাইলের পৌর মেয়র এএফএম আজিজুল ইসলামকে পুলিশ কোন কারণ ছাড়াই গ্রেপ্তার করেছে। এছাড়া ওইদিন পাবনায় ৯১ জন, দিনাজপুরে ৪ জন, সাতক্ষীরায় ২৫ জন এবং নেত্রকোনায় দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি বলেন, আমরা দাবি জানাচ্ছি, যারা নির্বাচনের আগে ও পরে গ্রেপ্তার হয়েছেন, সকল রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে। গণগ্রেপ্তার বন্ধ করতে হবে। অর্থনৈতিক অগ্রগতিসহ নানা ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এগোলেও মানবাধিকার পরিস্থিতি নাজুক হয়েছে পড়েছে বলে মন্তব্য করেন বিএনপির মুখপাত্র। তিনি বলেন, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডে মানবাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে।  দেশের ভাবমূর্তি বিনষ্ট হচ্ছে। মানবাধিকার লঙ্ঘনের যে পর্যায়টা এখন যাচ্ছে, এটা খুবই খারাপ ও নিম্নগামী। আজকে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট ও জাতিসংঘে এ নিয়ে কথা উঠেছে। রিপন বলেন, ইউরোপীয় পার্লামেন্টের বক্তব্যের প্রতি উত্তরে একটি পত্রিকায় হেডিং দেখলাম- সরকার বলছে ‘ভেরি ডিস্টার্বিং’। বিষয়টা ডিস্টার্বিং নয়, এগুলোকে অ্যাড্রেস করাটাই হচ্ছে সরকারের দায়িত্ব। চোখ বন্ধ করে রাখলে কি প্রলয় বন্ধ হয়? সমস্যার সমাধান দিতে হবে। মেহেরপুরে ক্রসফায়ারে বিএনপির নেতা রমজান শেখকে হত্যার নিন্দা জানিয়ে ওই ঘটনায় উচ্চ পর্যায়ের বিচারবিভাগীয় তদন্ত কমিশন গঠনের দাবি জানান তিনি। রিপন বলেন, আজকে টেলিভিশনে সংবাদ শিরোনাম দেখলাম গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে একজন সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীর লাশ ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া গেছে। এখন মানুষকে মেরে লাশ গাছে ঝুলিয়ে রাখা হচ্ছে। আমরা মনে করি, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বন্ধ করা উচিত। একাত্তরে যুদ্ধাপরাধ নিয়ে পাকিস্তানের বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে বিএনপির মুখপাত্র বলেন, পাকিস্তানি সৈন্যবাহিনী জেনোসাইড ঘটিয়েছে। তাদের এসট্রোসিটি ছিল। সুতরাং  ইসলামাবাদের এই কথায় সত্যকে আড়াল করা যাবে না। এক প্রশ্নের জবাবে ড. রিপন জানান, পৌর নির্বাচনে বিএনপির মেয়র প্রার্থীদের তালিকা তৈরির কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে দলের সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, সহদপ্তর সম্পাদক আবদুল লতিফ, আসাদুল করিম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

No comments:

Post a Comment