Wednesday, December 2, 2015

সিলেটে একক প্রার্থী নিয়ে মাঠে আওয়ামী লীগ-বিএনপি, জাপা

সিলেটে একক প্রার্থী নিয়েই ভোটযুদ্ধে নামছে প্রধান তিনটি রাজনৈতিক দল। এর মধ্যে আওয়ামী লীগ ইতিমধ্যে একক প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে। গতকাল বিকালে চূড়ান্ত করেছে বিএনপি। আর জাতীয় পার্টি প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করেছে সবার আগে। তবে, নীরব রয়েছে জামায়াতে ইসলামী। এদিকে, সিলেটের গোলাপগঞ্জে দুইবারের মেয়র ও স্থানীয় আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক জাকারিয়া আহমদ পাপলু এবার আনুষ্ঠানিকভাবে দলের মনোনয়ন চাননি। তিনি বিদ্রোহী প্রার্থী হতে যাচ্ছেন। এছাড়া, তিন পৌরসভায়ই আওয়ামী লীগ, বিএনপি থেকে মেয়র পদে বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ার আভাস মিলেছে। সেক্ষেত্রে সুসংহত অবস্থানে থাকবে জাতীয় পার্টি। সিলেট জেলার গোলাপগঞ্জ, জকিগঞ্জ ও কানাইঘাট পৌরসভায় এবার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। গোলাপগঞ্জে বর্তমান পৌর মেয়র আওয়ামী লীগের জাকারিয়া আহমদ পাপলু। জকিগঞ্জে বর্তমান মেয়র জাতীয় পার্টির আবদুল মালেক ফারুক। আর কানাইঘাটের মেয়র আওয়ামী লীগের লুৎফুর রহমান। ইতিমধ্যে তিনটি পৌরসভায়ই আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে তিনটি নাম প্রস্তাব করেছে তৃণমূল। এর মধ্যে কানাইঘাটের বর্তমান মেয়র লুৎফুর রহমানকেই আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। জকিগঞ্জের তৃণমূল নেতারা আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে মুক্তিযোদ্ধা খলিলুর রহমানের নাম প্রস্তাব করেছেন। আর বাদ পড়েছেন গোলাপগঞ্জের পৌর মেয়র জাকারিয়া আহমদ পাপলু ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যগ্ম সম্পাদক ও সাবেক পৌর প্রশাসক সিরাজুল জব্বার। স্থানীয় আওয়ামী লীগ সূত্র জানিয়েছে, সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের নির্বাচন উপ-কমিটির নেতারা তৃণমূলের নেতাদের নিয়ে বৈঠক করেন। আর ওই বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে নাম চূড়ান্ত হয়। তার আগে মেয়র প্রার্থীদের দলের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক আবেদন চাওয়া হয়। কিন্তু গোলাপগঞ্জে জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য সৈয়দ মিসবাহ উদ্দিন এতে সাড়া দেন। বর্তমান মেয়র পাপলু ও সাবেক পৌর প্রশাসক সিরাজুল জব্বার দলীয়ভাবে মনোনয়ন চাননি। এ কারণে গোলাপগঞ্জে সৈয়দ মিসবাহ উদ্দিনকেই মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য শফিকুর রহমান চৌধুরী গতকাল মানবজমিনকে জানিয়েছেন, দলের কাছে মনোয়ন চাইতে হবে। দলীয় সিদ্ধান্তমতো অগ্রসর হতে হবে। গোলাপগঞ্জে বর্তমান মেয়র সেটি করেননি। আর তৃণমূল নেতারা সৈয়দ মিসবাহ উদ্দিনের নাম সর্ব সম্মতিক্রমে প্রস্তাব করেছেন। কানাইঘাট ও জকিগঞ্জে একইভাবে মেয়র পদে নাম প্রস্তাব এসেছে। তিনি বলেন, ইতিমধ্যে তিন পৌরসভায়ই একক প্রার্থীর নাম দলীয় সভানেত্রীর কাছ পাঠানো হয়েছে। রাতেই ঘোষণা হতে পারে মেয়র প্রার্থীদের নাম। সিলেটের গোলাপগঞ্জ পৌরসভার বর্তমান মেয়র ও আওয়ামী লীগ নেতা জাকারিয়া আহমদ পাপলু জানিয়েছেন, ‘কথা ছিল জেলা নেতারা তৃণমূলের মতামতের ভিত্তিতে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকা কেন্দ্রে পাঠানো হবে। কিন্তু তা হয়নি। আমি বর্তমান মেয়র। স্বতন্ত্র থেকে প্রার্থী হয়ে প্রমাণ করবো এবার দল থেকে মনোনয়নপ্রাপ্ত ব্যক্তি জনবিচ্ছিন্ন।’ এদিকে, তিন পৌরসভায় বিএনপিও একক প্রার্থী দিয়ে ভোটযুদ্ধে নামছে। ইতিমধ্যে তৃণমূলের সমর্থন নিয়ে এই প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে। আর প্রার্থীদের মনোনয়নের বিষয়টি চূড়ান্ত করতে গতকাল ঢাকায় গেছেন সিলেট জেলা বিএনপি’র যগ্ম আহ্বায়ক আলী আহমদ। তিনি দলের হাইকমান্ডের কাছে তিন পৌর সভায় তিনজনের নাম প্রস্তাব করবেন। এরপর দলের পক্ষ থেকে প্রত্যয়নপত্র দেয়া হবে। এর মধ্যে সিলেটের  গোলাপগঞ্জ পৌরসভায় মেয়র পদে বিএনপি নেতা গোলাম কিবরিয়া শাহীন অথবা মশিকুর রহমান মহি, জকিগঞ্জে উপজেলা বিএনপি’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক বদরুল হক বাদল ও কানাইঘাটে পৌর কমিটির সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট আবদুর রহিমকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে সিলেট জেলা বিএনপি’র যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আহমদ জানিয়েছেন, বিএনপি’র তৃণমূলের মতামতের ভিত্তিতেই প্রার্থীদের নাম প্রস্তাব করা হয়েছে। তিনি বলেন, সিলেটের বিএনপি’র তৃণমূলের নেতারা আপাতত একক নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়েছেন। জোটবদ্ধ নির্বাচন হলে বিষয়টি পরবর্তীতে বিবেচনা করা হবে। তবে, এখন পর্যন্ত সিলেটে জোটবদ্ধ নির্বাচনের আভাস পাওয়া যায়নি বলে জানান তিনি। সিলেট জেলা জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ সিদ্দিকীসহ নির্বাচন উপ-কমিটির নেতারা ইতিমধ্যে তিনটি পৌরসভায় তাদের প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করেছে। জকিগঞ্জে বর্তমান মেয়র পার্টির পৌর আহ্বায়ক আবদুল মালেক ফারুক। তাকে এবারও মেয়র পদে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। কানাইঘাটে জাতীয় পার্টির উপজেলা সাধারণ সম্পাদক বাবুল আহমদ ও গোলাপগঞ্জে জাতীপার্টি নেতা জমির উদ্দিন আহমদকে মনোনয়ন প্রদান করা হয়েছে। সিলেট জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি আবদুল্লাহ সিদ্দিকী জানিয়েছেন, পার্টির চেয়ারম্যান তিনজনকে মেয়র পদে মনোনয়ন দিয়েছেন। এদিকে, জামায়াতে ইসলামী এখনও নির্বাচনের ব্যাপারে মাঠে নামেনি। তবে, কানাইঘাটে রয়েছে তাদের শক্তিশালী প্রার্থী। গেল নির্বাচনে দ্বিতীয়স্থানে ছিলেন জামায়াত প্রার্থী ওলিউল্লাহ। শেষ মুহূর্তে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে নামতে পারেন বলে জানা গেছে।

No comments:

Post a Comment