চট্টগ্রামের চন্দনাইশ পৌরসভা নির্বাচনে ১৬টি কেন্দ্রের মধ্যে ৩টি কেন্দ্রের ভোট স্থগিত হয়ে যায়। নির্বাচন চলাকালীন কমিশনারদের ভোট গ্রহণকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে ৫ জন আহত হয়। পুলিশ নির্বাচনী সহিংসতার ঘটনায় ২৩ জনকে আটক করেছে। সে সাথে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ১শ রাউন্ডের অধিক ফাঁকা গুলি করে।
গতকাল ৩০ ডিসেম্বর সকাল ৮টা থেকে পৌরসভা নির্বাচন শুরু হয়। নির্বাচন শুরু হওয়ার পূর্ব মুহুর্তে ৯নং ওয়ার্ডের গাছবাড়িয়া এনজি উচ্চ বিদ্যালয়, আফলাতুন চৌধুরী ফোরকানিয়া মাদরাসা কেন্দ্রে বহিরাগতরা প্রবেশ করে ব্যালট বাক্স ছেঁড়ার অভিযোগে ২টি কেন্দ্রের ভোট স্থগিত করে দেন রিটার্নিং অফিসার সনজীদা শরমিন। অপরদিকে ১নং ওয়ার্ডে সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটে পুলিশ ফাঁকা গুলি করে ছত্রভঙ্গ করে ব্যালট ছিনতাই করার কারণে ভোট গ্রহণ স্থগিত করে দেন রিটার্নিং অফিসার। এদিকে ৪নং ওয়ার্ডের হারলা সমবায় প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে দুই কাউন্সিলরের সমর্থকদের মধ্যে হারলা গ্রামের মো. আরফাত (২০), মো. রাব্বি আলম (২১), আবদুস ছালাম (৪৯), মো. সাজ্জাদ মঈনুদ্দিন (১৮), মো. আলাউদ্দিন (৩০) আহত হয়। আহতদেরকে স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেয়া হয়। অপরদিকে নির্বাচনী সহিংসতার ঘটনায় পুলিশ মো. আবদুল আলিম (৩৭), কাজী মো. দেলোয়ার হোসেন (৩০), ছাদেকুর রহমান (২৬), মো. ইব্রাহিম (২৬), প্রমিজ বড়–য়া (২০), চুন্নু মিয়া (৪৮), মেহেদী হাসান (৪০), আবদুল আজিজ (২৭), মো. আর্লী (৩৭), আরিফ হোসেন (২০), জাহাঙ্গীর আলম (২১), মো. নাজিম উদ্দিন (২৮), আবদুল কাদের (২৮), মোসলেম মিয়া (২৮), বিজয় (১৮), সজল (২৭), এরফানুল হোসেন (১৯), আলী আহমদ (২৮), মো. হাসান উদ্দিন (২১), মো. এনাম হোসেন (২১), মো. তারেক হাসান তানজিম (২১), মো. জামাল উদ্দিন (২৫) কে আটক করা হয়। এদের মধ্যে মো. এনাম, তারেক হাসান তানজিম, জামাল উদ্দিনকে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ১ হাজার টাকা করে জরিমানা ও মো. হাসান উদ্দিনকে ৭ দিনের বিনাশ্রম কারাদন্ডের আদেশ দিয়েছেন। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ১শ রাউন্ডের অধিক ফাঁকা গুলি করে। নির্বাচন কারচুপির অভিযোগ তুলে সাংবাদিক সম্মেলন করেছেন এলডিপির চেয়ারম্যান ড. কর্নেল (অব:) অলি আহমদ বীর বিক্রম। এ সময় তিনি সকাল ৮টার পূর্বেই অধিকাংশ কেন্দ্রে ব্যালট ছিনিয়ে নিয়ে সরকারি দলের লোকজন নৌকা প্রতীকে সিল মেরে বক্সে ঢুকিয়ে দেয়ার অভিযোগ করেন। সে সাথে তিনি ১৩টি কেন্দ্রে ভোট কারচুপির অভিযোগ এনে রিটার্নিং অফিসারকে অভিযোগ দিলেও তিনি ৩টি কেন্দ্র স্থগিত করার বাকী ১০টি কেন্দ্রে কোন প্রকার পদক্ষেপ গ্রহণ না করার অভিযোগ করেন। তবে তিনি নির্বাচন থেকে তার প্রার্থী ‘ছাতা’ প্রতীকের আয়ুব কুুতবীকে প্রত্যাহারের কোন আবেদন করেন নি বলে জানান। একইভাবে ইসলামী ফ্রন্ট সমর্থিত প্রার্থী মো. আবদুল হাকিম (মোমবাতি), স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. জসিম উদ্দিন আহমেদ (জগ) জোরপূর্বক মেয়রের ভোট সরকারি দলের লোকজন নিজেরাই সিল মেরে ভোটারবিহীন নির্বাচন করার অভিযোগ তুলেছেন। প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত আ’লীগ সমর্থিত মেয়র প্রার্থী ‘নৌকা’ প্রতীকের মাহবুবুল আলম খোকা এগিয়ে রয়েছে।
* উত্তর গাছবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রিজাইডিং অফিসার মো. রোকন উদ্দিন, মোবাইল নং-০১৮১৯ ০৯৭৯১৯, গাছবাড়িয়া এনজি উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে প্রিজাইডিং অফিসার প্রভাষক রাহুল চন্দ্র, মোবাইল নং- ০১৮১১৮১১০৭৩, আফলাতুন চৌধুরী ফোরকানিয়া মাদরাসা কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার প্রহ্লাদ চৌধুরী রায়, ০১৭৩১৮১১৮৯০
No comments:
Post a Comment