সরকারের এক মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আরেক মন্ত্রণালয়ের কোনো বিরোধ দেখা দিলে তার
জন্য আদালতে না গিয়ে প্রথমে সচিব কমিটির কাছে অভিযোগ করা যাবে। সেখানে
নিষ্পত্তি না হলে সিনিয়র একজন মন্ত্রীর নেতৃত্বে গঠিত ‘মন্ত্রিসভা-কমিটির’
আপিল বোর্ডে চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হবে। মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে মন্ত্রণালয় যাতে
মামলায় জড়িয়ে না পড়ে সে জন্য গতকাল দুটি কমিটির অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।
কমিটি মামলাগুলো নিষ্পত্তি করবে। এ দুই কমিটির মধ্যে প্রথম কমিটি হবে
সচিবদের নিয়ে। এ কমিটির নাম হবে ‘আন্তঃমন্ত্রণালয় আইনগত সহায়তা কমিটি’।
অন্যদিকে আপিল কমিটি হবে মন্ত্রীদের নিয়ে। সরকারি প্রতিষ্ঠানের বিরোধ
নিষ্পত্তিতে যাতে কেউ আদালতে না যান ওই চেষ্টাতেই এই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
গতকাল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠক শেষে
সংবাদ ব্রিফিংয়ে এসব বিষয় সাংবাদিকদের জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব শফিউল আলম।
দুইটি কমিটির গঠন বিষয়ে শফিউল আলম বলেন, সচিব কমিটির প্রধান থাকবেন
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব (সমন্বয়)। তার সঙ্গে বিরোধ সংশ্লিষ্ট
মন্ত্রণালয়ের সচিব বা তাদের প্রতিনিধি, আইন ও বিচার বিভাগের সচিব,
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একজন প্রতিনিধি (ডিজির নিচে নয়), মন্ত্রিপরিষদ
বিভাগের যুগ্ম সচিব (সমন্বয়) এই কমিটির সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন
করবেন। এর বাইরে কমিটি মনে করলে নতুন সদস্য নিতে পারবে বা বিশেষজ্ঞ মত
গ্রহণ করতে পারবে। তিনি বলেন, আপিল কমিটির প্রধান হিসেবে সরকারের একজন
সিনিয়র মন্ত্রী থাকবেন। বিরোধ নিষ্পত্তি প্রত্যাশী দুই মন্ত্রণালয়ের
মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী এবং সচিব, আইনমন্ত্রী ও সচিব, মুখ্যসচিব বা
প্রধানমন্ত্রীর সচিব এবং মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব সমন্বয়। এর সঙ্গে আরও
সদস্য যোগ করার দরকার হলে করা যাবে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান,
আন্তঃমন্ত্রণালয়সহ সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মামলার বিষয়গুলো কাজের গতি
কমিয়ে দিচ্ছে। তাই সরকার এই উদ্যোগ নিচ্ছে, যাতে সরকারের নিজেদের
প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম নিজেরাই বাধাগ্রস্ত না করতে হয়। মন্ত্রিপরিষদ সচিব
জানান, শিগগিরই ?এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে কাজ শুরু হবে। এই পদ্ধতি
বিদ্যমান বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির মতোই একটি ব্যবস্থা বলে তিনি মন্তব্য
করেন। মন্ত্রিসভা বৈঠকে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ আইন-২০১৫ এর খসড়ার চূড়ান্ত
অনুমোদন দেয়া হয়েছে। আগে এটি ইংরেজিতে ছিল, এখন এটি বাংলায় করা হচ্ছে।
বৈঠকে পাঁচটি বিষয় সম্পর্কে মন্ত্রিসভাকে অবহিত করা হয়। তবে, সরকারি
প্রতিষ্ঠানের বিরোধ সংক্রান্ত কত মামলা এখন আছে তা জানাতে পারেননি
মন্ত্রিপরিষদ সচিব। এদিকে মন্ত্রিসভা বৈঠকে অনির্ধারিত আলোচনায় চটের বস্তা
প্রসঙ্গ আলোচিত হয়। এ বিষয়ে আলোচনার সূচনা করেন বাণিজ্য মন্ত্রী তোফায়েল
আহমেদ। তিনি সরকারি প্রতিষ্ঠানের পণ্য আনা- নেয়ায় চটের ব্যবহার নিশ্চিত
করার জন্য বলেন। এরপর এনিয়ে আলোচনায় কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরীসহ কয়েক জন
মন্ত্রী অংশ নেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ মন্ত্রিসভার সদস্যরা তাদের
আলোচনায় প্রয়োজনে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে পলিথিন ব্যবহার বন্ধ করার উদ্যোগ
নিতে বলেন। এরপর সরকারি মিলে উৎপাদিত চটের বস্তা ব্যবহার নিশ্চিত করার কথা
বলেন।
Subscribe to:
Post Comments (Atom)

No comments:
Post a Comment