Saturday, December 5, 2015

বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ের পথে ফেনীর ৩৩ কাউন্সিলর

ফেনীর তিন পৌরসভা নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমাদানের শেষ দিনে কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর পদে একক প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেয়ায় সরকারদলীয় ৩৩ কাউন্সিলর প্রার্থী বিজয়ের পথে রয়েছেন। তিন পৌরসভার মেয়র-কাউন্সিলরসহ ৫১ পদে ভোটের বিপরীতে ‘প্রথম দফায়’ ৩৩ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী হওয়ার পথে থাকলেও মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই ও প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সময় ‘সকল পদে’ সরকারদলীয় একক প্রার্থী বিজয়ী হওয়ার গুঞ্জন সর্বত্র বিরাজ করছে। জেলা রিটার্নিং অফিস সূত্র জানায়, নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিলে প্রথম দফায় ফেনীর ফেনী, পরশুরাম ও দাগনভূঞা পৌরসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ৩রা ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র জমাদানের শেষ দিনে তিন পৌরসভায় ৩টি মেয়রের বিপরীতে ৮টি, ৩৬ কাউন্সিলরের বিপরীতে ৬২টি ও ১২টি সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলরের বিপরীতে ১৭টি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে। যার মধ্যে ২৫টি সাধারণ ও ৮টি সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর পদে সরকারদলীয় একক প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছে। পরশুরাম পৌরসভায় ৯টি সাধারণ ওয়ার্ডে সবকটিতেই একক প্রার্থী হিসেবে সরকার দলীয় প্রার্থীরা মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছে। ফেনী জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আবু তাহের বলেন, সরকারদলীয় ক্যাডারদের বাধার কারণে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারেনি। পুলিশের উপস্থিতিতে তাদের লাঞ্ছিত করার চেষ্টা করা হলেও পুলিশ নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেছে। ফেনী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুর রহমান বলেন, আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ বিজয় জেনেই বিরোধী প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র জমা দেয়নি। আওয়ামী লীগের কোন নেতাকর্মী বিএনপি বা স্বতন্ত্র কোন প্রার্থীর উপর হামলা চালায়নি। বিএনপি দল হিসেবে সংগঠিত নয়, তারা কি নির্বাচন করবে ? সচেতন নাগরিক সমাজের ব্যানারে নির্বাচনে মেয়র পদে অংশগ্রহণে ইচ্ছুক প্রবীণ সাংবাদিক মীর হোসেন মীরু বলেন, মনোনয়নপত্র প্রদানের পর থেকে সরকারদলীয় ক্যাডাররা সম্ভাব্য মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীদের বাড়ি বাড়ি যেয়ে হুমকি ধমকি দিয়েছে। মনোনয়নপত্র প্রদানের শেষ দিনে তারা জেলা রিটার্নিং অফিসের কার্যালয়, জেলা নির্বাচন সার্ভে স্টেশান ও উপজেলা রিটার্নিং অফিস চত্বরে অবস্থান নেয়। সরকারদলীয় ছাড়া আগত অন্যান্য প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র ছিনতাইসহ প্রার্থীদের শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়েছে। ভয়ে অনেক প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেয়নি।
জেলা সহকারী রিটার্নিং অফিসার আফরোজা পারভিন জানান, তিন পৌরসভায় ৫১টি পদের বিপরীতে ৮৭ জন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছে। যার মধ্যে ৩৩টি পদে একক প্রার্থী। মনোনয়নপত্র জমাদানের পর শুক্রবার একাধিক প্রার্থী মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের জন্য নির্বাচনী কার্যালয় এসেছিল। মনোনয়ন প্রত্যাহারের সময় পর্যন্ত তাদের অপেক্ষা করতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া যে ৩৩টি পদে একক প্রার্থী রয়েছে তাদের মধ্যে কারও প্রার্থিতা বাতিল হলে নির্বাচন বিধি অনুযায়ী ওই ওয়ার্ডে পরবর্তীতে পুনরায় তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন করা হবে। ফেনী পৌরসভা নির্বাচনে একটি মেয়র পদের বিপরীতে ৪টি, ১৮টি কাউন্সিলর পদের বিপরীতে ২৭টি ও ৬টি সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলরের বিপরীতে ৯টি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে। ১৮টি সাধারণ ওয়ার্ডের মধ্যে ১২টি ও ৬টি সংরক্ষিত মহিলা ওয়ার্ডের মধ্যে ৪টি একক প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছে। ফেনী পৌরসভায় মেয়র পদে আওয়ামী লীগ মনোনীত বর্তমান মেয়র হাজী আলাউদ্দিন, বিএনপি মনোনীত সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ফজলুর রহমান বকুল, জাতীয় পার্টি মনোনীত জাতীয় যুবসংহতির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মির্জা মোহাম্মদ ইকবাল ও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আতিকুল আলম মজুমদার মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছে। দাগনভূঞা পৌরসভা নির্বাচনে একটি মেয়র পদের বিপরীতে দুইটি, ৯টি কাউন্সিলর পদের বিপরীতে ২৬টি ও ৩টি সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলরের বিপরীতে তিনটি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে। এদের মধ্যে ৪টি সাধারণ ও ৩টি সংরক্ষিত ওয়ার্ডে একক প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছে। দাগনভূঞা পৌরসভায় মেয়র পদে আওয়ামী লীগ মনোনীত বর্তমান মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওমর ফারুক খান, বিএনপি মনোনীত পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কাজী সাইফুর রহমান স্বপন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছে। পরশুরাম পৌরসভা নির্বাচনে একটি মেয়র পদের বিপরীতে দুইটি, ৯টি কাউন্সিলর পদের বিপরীতে ৯টি ও ৩টি সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলরের বিপরীতে ৫টি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে। সাধারণ সবগুলো ওয়ার্ডে একক প্রার্থী থাকলেও ৩টি সংরক্ষিত ওয়ার্ডের মধ্যে দুটিতে দ্বৈত প্রার্থী রয়েছে। পরশুরাম পৌরসভায় মেয়র পদে আওয়ামী লীগ মনোনীত বর্তমান মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নিজাম উদ্দিন আহাম্মেদ চৌধুরী সাজেল, বিএনপি মনোনীত পৌর যুবদলের সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছে।

No comments:

Post a Comment