Monday, December 7, 2015

লক্ষ্মীপুরে চাঁদা না পেয়ে কৃষক লীগ নেতার নেতৃত্বে হামলা, ভাঙচুর

চাঁদা না দেয়ায় লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়নে এক পরিবারের ওপর ইউপি সদস্য ও সদর উপজেলা কৃষক লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের নেতৃত্বে হামলা করা হয়েছে। এতে  নারী-পুরুষসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে হাবিবুর রহমান, নুরনবী, ফাতেমা বেগম ও আমেনা বেগমকে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গতকাল সকাল ১১টায় এ ঘটনা ঘটে।  এদিকে চিকিৎসাধীন হাবিবুর রহমানের ছেলে জহির সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলায় বিকালে তাকে তুলে নিয়ে যায় জেলা কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক হিজবুল বাহার রানা। পরে মাদাম এলাকায় তাকে মারধর করে ছেড়ে দেয়া হয়।  পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সদস্য ও সদর উপজেলা কৃষক লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সেলিম হোসেনের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও চন্দ্রগঞ্জ থানায় বিচারের দাবিতে একাধিক অভিযোগ করেন হাবিবুর রহমানসহ এলাকাবাসী। এ ছাড়া লক্ষ্মীপুর শহরে এই ইউপি সদস্যের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও চাঁদাবাজির অভিযোগে সংবাদ সম্মেলনও করেছেন তারা। এসব অভিযোগ প্রত্যাহার করে নেয়ার জন্য হাবিবুর রহমানসহ এলাকাবাসীকে চাপ সৃষ্টি করেন সেলিম হোসেন। এ ছাড়া ইউপি সদস্য সেলিম হোসেন কিছু জমি দখল এবং দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা না দেয়া এবং আগে সেলিমের বিরুদ্ধে বিভিন্ন দপ্তরে এলাকার বিক্ষুব্ধ জনতার দেয়ার অভিযোগ প্রত্যাহার না করায় রোববার সকালে রামকৃষ্ণপুর এলাকায় সেলিম হোসেনের নেতৃত্বে ওই এলাকার গাছিবাড়িতে একদল সন্ত্রাসী হামলা চালায়। এতে হাবিবুর রহমান, নুরনবী, ফাতেমা বেগম, আমেনা বেগমসহ ১০ জন আহত হন।  তবে এ বিষয়ে ইউপি সদস্য সেলিম হোসেন নিজের সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করে বলেন, হামলার কথা আমিও শুনেছি। দুই পক্ষের লোকজন হাসপাতালে ভর্তি আছেন। আমি সদর উপজেলা কৃষক লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। এদিকে জেলা কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক হিজবুর বাহার রানা সাংবাদিকদের জানান, মাদাম এলাকায় তাকে মারধর করা হয়নি। হাসপাতাল থেকে জহিরকে একটি বিষয়ে নিয়ে আসা হয়েছে মাত্র। চন্দ্রগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আজিজুর রহমান জানান, জমি-সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে এ হামলার ঘটনা ঘটে। এ সময় নারী-পুরুষসহ কয়েকজন আহত হন। তবে এখনও কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

No comments:

Post a Comment