Monday, December 7, 2015

শেষ রক্ষা হলো না গোলাপগঞ্জের শাহীনের

মনোনয়নপত্র জমা দিলেও এখন পর্যন্ত নির্বাচনে নামতে পারেননি সিলেটের গোলাপগঞ্জ পৌরসভার বিএনপি দলীয় মেয়র প্রার্থী গোলাম কিবরিয়া শাহীন। আওয়ামী লীগ সহ স্বতন্ত্র প্রার্থীরা মাঠ দাপিয়ে বেড়ালেও শাহীন নামেননি নির্বাচনে। আড়ালে থেকেই তিনি নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। কিন্তু শেষ রক্ষা হলো না শাহীনের। গতকাল বাছাইয়ের দিনে রিটার্ন দাখিলের কাগজপত্র না    থাকায় তার মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। অথচ অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে এই পৌরসভায় একক প্রার্থী ঘোষণা করেছিল বিএনপি। বিদ্রোহী অপর দুই প্রার্থীকে ম্যানেজ করে তাকেই প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেয়া হয়েছিল। গতকাল বিকালে সিলেট জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আহমদ জানিয়েছেন, গোলাম কিবরিয়া শাহীনের মনোনয়নপত্র বাতিল হলেও তিনি এ ব্যাপারে আপিল করবেন। আশা করা হচ্ছে এ পৌরসভায় বিএনপি তার ভোটের অধিকার ফিরে পাবে। এদিকে, শাহীনের মনোনয়নপত্র বাতিলের খবরে হতাশ হয়ে পড়েছেন এ পৌরসভার বিএনপির ভোটাররা। তারা জানিয়েছেন, আপিলের মাধ্যমে মনোনয়নপত্র ফিরে না পেলে এ পৌরসভায় ফাঁকা মাঠে গোল করবে আওয়ামী লীগ। জকিগঞ্জ পৌরসভায় আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মুক্তিযোদ্ধা কাজী খলিল উদ্দিনের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ নয় আওয়ামী লীগ। এ কারণে এ পৌরসভায় বিদ্রোহী প্রার্থী আওয়ামী লীগের ফারুক আহমদকে নিয়ে উজ্জীবিত ছিলেন কর্মীরা। গতকাল ফারুক আহমদের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়ে গেছে। কানাইঘাট পৌরসভায় আওয়ামী লীগের প্রার্থী লুৎফুর রহমানের শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন আল মিজান। তার মনোনয়নপত্র বৈধ হলেও অপর বিদ্রোহী প্রার্থী সিরাজুল ইসলামের মনোনয়ন বাতিল হয়ে গেছে। এরপরও আওয়ামী লীগ প্রার্থী রয়েছেন চ্যালেঞ্জের মুখে। গতকাল সিলেটে গোলাপগঞ্জ, জকিগঞ্জ ও কানাইঘাট পৌরসভার মনোনয়নপত্র বাছাই হয়েছে। তিনটি পৌরসভায় ৬ মেয়র প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। গতকাল সন্ধ্যায় রিটার্নিং অফিসার সূত্র জানিয়েছে, গোলাপগঞ্জে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী গোলাম কিবরিয়া  চৌধুরী, জাতীয় পার্টির সমর্থিত প্রার্থী  মো. সুহেদ আহমদ এবং খেলাফত মজলিসের প্রার্থী আমিনুল ইসলামের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। এদের মধ্যে বিএনপির একমাত্র প্রার্থী  গোলাম কিবরিয়া চৌধুরী আয়কর রিটার্ন দাখিল করেননি বলে জানা গেছে। এদিকে, ওই পৌরসভায় মেয়র পদে বাতিলকৃত তিনজন ছাড়াও আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী বর্তমান মেয়র জাকারিয়া আহমদ পাপলু ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক ও সাবেক পৌর প্রশাসক সিরাজুল জব্বার  চৌধুরী, যুক্তরাজ্য যুবলীগের যুগ্ম সম্পাদক মো. আমিনুল ইসলাম রাবেল ও স্বতন্ত্র প্রার্থী আমিনুর রহমান মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। তাদের মনোনয়নপত্র বৈধ বলে ঘোষণা করছে স্থানীয় নির্বাচন কর্মকর্তারা। সিলেটের কানাইঘাট পৌরসভায় আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী কানাইঘাট বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আওয়ামী লীগ নেতা সিরাজুল ইসলাম খোকনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। এছাড়া,  খেলাফত মজলিসের মনোনীত প্রার্থী ইসলাম উদ্দিনের মনোনয়নপত্রও বাতিল হয়েছে। সিলেট জেলা নির্বাচন অফিসার আজিজুল ইসলাম জানান, মনোনয়নপত্রে শনাক্তকারীর স্বাক্ষর না থাকায় সিরাজুল ইসলাম খোকন এবং হলফনামায় স্বাক্ষর না থাকায় ইসলাম উদ্দিনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। এ  পৌরসভায় মেয়র পদে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী বর্তমান মেয়র লুৎফুর রহমান, আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী উপজেলা আ’লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন আল মিজান (স্বতন্ত্র), বিএনপিদলীয় প্রার্থী কাউন্সিলর রহিম উদ্দিন ভরসা, গত পৌরসভা নির্বাচনে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী জামায়াত নেতা একেএম অলিউল্লাহ (স্বতন্ত্র), জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী উপজেলা জাপার সাধারণ সম্পাদক বাবুল আহমদ, জাসদের প্রার্থী তাজ উদ্দিন, স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যবসায়ী সোহেল আমিন এবং প্রবাসী সুলতান আহমদের মনোনয়নপত্র বৈধ হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা নির্বাচন অফিসার। সিলেটের জকিগঞ্জ পৌরসভায় আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী পৌর আ’লীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ফারুক আহমদের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। মামলা সংক্রান্ত কাগজপত্র জমা না দেয়ায় তার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জকিগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন অফিসার আল আমিন। এ পৌরসভায়  মেয়র পদে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার খলিল উদ্দিন, বিএনপি মনোনীত প্রার্থী বদরুল হক বাদল, জাতীয় পার্টির আবদুল মালেক ফারুক, খেলাফত মজলিসের জাফরুল ইসলাম এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী কাজী হিফজুর রহমানের মনোনয়নপত্র বৈধ হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাচন অফিসার।

No comments:

Post a Comment