আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনে মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের দুই দিনে বিভিন্ন পৌরসভায়
অন্তত ৮৩ মেয়র প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। এর মধ্যে আওয়ামী লীগ,
বিএনপি, অন্যান্য দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছেন। তবে বাদ পড়াদের মধ্যে
সংখ্যার দিক থেকে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র
বাতিল হয়েছে বেশি। যদিও রাতে এ রিপোর্ট লেখার সময় পর্যন্ত নির্বাচন
কমিশন মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়াদের পরিসংখ্যান জানাতে পারেনি। আমাদের
প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্য অনুযায়ী দুই দিনে বিএনপি মনোনীত ১৫ প্রার্থীর
মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। আওয়ামী লীগের বাতিল হয়েছে চারজনের। জাতীয় পার্টির
ছয়জনের বাতিল করা হয়েছে। এ ছাড়া দুদিনে ১৮ স্বতন্ত্র প্রার্থীর মনোনয়নপত্র
বাতিল হয়েছে। এর মধ্যে জামায়াত সমর্থিত ছয় প্রার্থী রয়েছেন। এদিকে গতকাল
মনোনয়নপত্র যাছাইয়ের শেষদিনে আওয়ামী লীগের ২৫ বিদ্রোহী প্রার্থী ও বিএনপির
১০ বিদ্রোহী প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। এ ছাড়া জাসদের দুজন,
ওয়ার্কার্স পার্টির একজন, খেলাফত মজলিশের একজন, ইসলামী ঐক্যজোটের একজন মেয়র
প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। এদিকে শুধু গত দুদিনে সাধারণ
কাউন্সিলর পদে মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে দুই শতাধিকের। সংরক্ষিত কাউন্সিলর
পদে বাতিল হয়েছে অর্ধশতাধিকের। নির্বাচনে মেয়র পদে লড়তে ১২২৩ জন মনোনয়নপত্র
জমা দেন। এর মধ্যে আওয়ামী ও বিএনপি সব পৌরসভায় দলীয় প্রার্থী দিয়েছে। ইসির
হিসাব অনুযায়ী, সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টি ৮২টি পৌরসভায় প্রার্থী
দিয়েছে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ৬১টি এবং স্বতন্ত্র পাঁচ শতাধিক প্রার্থী
মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। আগামী ১৩ই ডিসেম্বর পর্যন্ত মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার
করা যাবে। যাদের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে তারা আগামী তিন দিনের মধ্যে
সংশ্লিষ্ট রিটার্র্র্নিং অফিসার বরাবর আপিল আবেদন করতে পারবেন। হোমনা
(কুমিল্লা) প্রতিনিধি জানান, গতকাল বাছাইয়ের শেষদিনে ভোটার স্বাক্ষরে
অসঙ্গতি পাওয়ার অভিযোগে হোমনা পৌরসভার দুই স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থীর
মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া ঋণখেলাপি ও প্রস্তাবকারী-সমর্থনকারীর
বয়স কম হওয়ার কারণে এক সংরক্ষিত সদস্যসহ পাঁচ সাধারণ কাউন্সিলর প্রার্থীর
মনোনয়পত্র বাতিল করা হয়েছে। মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়া মেয়র প্রার্থীরা হলেন
বর্তমান মেয়র মো. হারুন মিয়ার স্ত্রী খোদেজা বেগম ও সাবেক উপজেলা
চেয়ারম্যান মো. জহিরুল হক জহর। এছাড়া মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়া কাউন্সিলররা
হলেন এক নম্বর ওয়ার্ডের রেজাউল হক সরকার, দুই নম্বর ওয়ার্ডের রিয়াজুল হক
বাবুল ও জামির হোসেন, নয় নম্বর ওয়ার্ডের আনোয়ার হোসেন, নয় নম্বর ওয়ার্ডের
মো. আনোয়ার হোসেন এবং সংরক্ষিত চার, পাঁচ ও ছয় নম্বর ওয়ার্ডের রাবেয়া লতিফ। হলফনামায়
ভুল তথ্য দেয়ার দায়ে মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের শেষদিনে ভূঞাপুর পৌরসভার দুই
বিদ্রোহী মেয়র প্রার্থী, ৫ সাধারণ কাউন্সিলর প্রার্থী এবং এক সংরক্ষিত
কাউন্সিলর প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। বাতিল হওয়া প্রার্থীরা
হলেন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী তারিকুল ইসলাম চঞ্চল ও বিএনপির মো.
জাহাঙ্গীর হোসেন। এছাড়া সাধারণ কাউন্সিলর প্রার্থী মফিজুর রহমান খান, ফরমান
আলী, মো. আইয়ুব আলী, নবাব আলী, ফরহাদ আলী ও সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর
প্রার্থী কোহিনুর বেগমের মনোনয়নপত্রও বাতিল করা হয়।
ফেনীর তিন পৌরসভা নির্বাচনে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে কাউন্সিলর পদে ৫ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করেছে রিটার্নিং কর্মকর্তা। গতকাল ফেনী জেলা রিটার্নিং অফিসে ফেনী পৌরসভার ১৮টি ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে দুই প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। একই সময়ে দাগনভূঞা পৌরসভা নির্বাচনে তিন কাউন্সিলর প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করেন উপজেলা রিটার্নিং অফিসার। পরশুরাম পৌরসভায় প্রতিটি ওয়ার্ডে একক পদে সরকারদলীয় কাউন্সিলর প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছে উপজেলা রিটার্নিং অফিসার। ফেনী পৌরসভার ৬ ও ১৬নং ওয়ার্ডে দুই সাধারণ কাউন্সিলর প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। এদিকে দাগনভূঞা পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডে তিন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। গাংনী পৌরসভায় তিন কাউন্সিলর প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। এরা হলেন ৯নং ওয়ার্ডের মাসুদুর রহমান ও আব্দুল জলিল ও ২নং ওয়ার্ডের আব্দুল মান্নান। আয়-ব্যয়ের ফরম ও হলফনামায় প্রার্থীদের স্বাক্ষর না থাকা এবং প্রস্তাবকারী ও সমর্থনকারীর স্বাক্ষর ঠিক না থাকায় এসব প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বাতিল বলে গণ্য হয়েছে বলে জানান জেলা রিটার্নিং অফিসার। এদিকে ঝালকাঠির নলছিটি পৌরসভায় গতকাল দুই কাউন্সিলর প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। এরা হলেন সংরক্ষিত আসনের রোজিনা বাবুল ও সাধারণ আসনের মু. মুনিরুজ্জামান মুনির। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষ দিনে গতকাল নরসিংদী পৌরসভার মেয়র পদের ৮ জন প্রার্থীর মধ্যে দুজন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করেছে রিটার্নিং অফিসার। এরা হলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী জহিরুল ইসলাম মানিক ও ইসলামী ঐক্যজোটের আমিনুল ইসলাম। এছাড়া নোয়াখালীর চাটখিল পৌরসভায় স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী কার্তিক দেবনাথ ও ৮নং ওয়ার্ডে কাউন্সিলর প্রার্থী আলাউদ্দিনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। মেয়র পদে কার্তিক দেবনাথ আয়কর সনদ ও ছবি সত্যায়িত না করায় গতকাল তার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। এছাড়া কাউন্সিলর পদে আলাউদ্দিন ঋণখেলাপির কারণে বাদ পড়েছেন বলে রিটার্নিং কর্মকর্তা জানান। কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে বড় দুই দলের দুই বিদ্রোহী মেয়র ও একজন কাউন্সিলর প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে গতকাল। হলফনামায় স্বাক্ষর না থাকায় উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক আহ্বায়ক তানভীরুল হক রাহাত ও বিএনপির সাবেক সহসভাপতি কৃষিবিদ গোলাম ফারুক চাষীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে বলে জানান রিটার্নিং কর্মকর্তা। এ ছাড়া হলফনামায় শিক্ষাগত যোগ্যতা উল্লেখ না করায় কাউন্সিলর পদে ৯নং ওয়ার্ডের আসাদ মিয়ার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। মৌলভীবাজারের কুলাউড়া পৌরসভায় ৪ কাউন্সিলর প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। গতকাল মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের শেষদিনে সংরক্ষিত ২নং ওয়ার্ডে বর্তমান কাউন্সিলর রাজিয়া সুলতানা চৌধুরী, সাধারণ ৪নং ওয়ার্ডে জ্যোতির্ময় দেব রিপন, ৫নং ওয়ার্ডে সাবেক কাউন্সিলর রফিকুল ইসলাম টিপু ও মো. বদরুল ইসলামের মনোনয়ন বাতিল করেন রিটার্নিং অফিসার। উল্লাপাড়া পৌরসভায় ৩ মেয়র প্রার্থীর মধ্যে একজনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। তিনি হলেন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ও উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ফয়সাল কাদের রুমি। এদিকে ওই পৌরসভার ৪৫ জন কাউন্সিলর প্রার্থীর মধ্যে ১০ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়ে গেছে। এদের মধ্যে ৮ জন সাধারণ কাউন্সিলর ও দুজন সংরক্ষিত কাউন্সিলর প্রার্থী। মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়া প্রার্থীরা হলেন সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে গুলশান আরা বেলী ও হাসিনা বেগম। সাধারাণ কাউন্সিলর পদে আবদুল আলীম, নূর মোহাম্মদ, বাবলু ভৌমিক, মমতাজ হোসেন, মঞ্জুর মোল্লা, আবু হানিফ, রইচউজ্জামান শিল্টু ও শাহীন আলম। পঞ্চগড় পৌরসভায় মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের শেষদিনে জামায়ত সমর্থিত এক স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থীসহ ৩ সংরক্ষিত কাউন্সিলর প্রার্থী ও ৬ সাধারণ কাউন্সিলর প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। বাতিল হওয়া মেয়র প্রার্থী হলেন জেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা আবদুল খালেক। এ ছাড়া সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে রাহেনা খাতুন, খাদিজা হক, রাহেনা বেগমসহ সাধারণ কাউন্সিলর পদের জাহেদুল হক, নূর আলম, ওসমান গনী, রফিকুল ইসলাম, আবদুল মালেক ও আবু তালেবের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। বানারীপাড়া পৌরসভায় সাধারণ আসনের দুই কাউন্সিলর প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। হলফনামায় তথ্য গোপনের অভিযোগে ২নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী ও পৌর শ্রমিক দলের সভাপতি মো. রফিকুল আলমের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। এ ছাড়া ঋণখেলাপির অভিযোগে ৬নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী উপজেলা পিপলস লীগের সভাপতি ইলিয়াস শেখের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। এ ছাড়া গৌরনদী পৌরসভার সাধারণ কাউন্সিলর পদে ৩৯ প্রার্থীর মধ্যে ৩ জনের মনোয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। উজিরপুর পৌরসভায় ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) মেয়র প্রার্থী মনিরুজ্জামানের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। সাধারণ কাউন্সিলর পদে ৪ কাউন্সিলর প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে।সিরাজগঞ্জের ৬টি পৌরসভার মধ্যে ৩টিতে আওয়ামী লীগের ২ বিদ্রোহী প্রার্থীসহ ৩ জন মেয়র প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। এর মধ্যে সিরাজগঞ্জ পৌরসভার আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী শামছুজ্জামান আলো ও উল্লাপাড়ার আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ফয়সাল কাদির রুমির মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। এ ছাড়া উল্লাপাড়ায় সংরক্ষিত কাউন্সিলরের ২টি এবং সাধারণ কাউন্সিলরের ৮টি মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। এদিকে শাহজাদপুর ৬ মেয়র প্রার্থীর মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী জয়নাল আবেদিনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। এ ছাড়া এ পৌরসভার সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ১টি ও সাধারণ কাউন্সিলরের ৬টি মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। মানিকগঞ্জ পৌরসভা ৭ জন সাধারণ ও সংরক্ষিত কাউন্সিলরের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। সখীপুর পৌরসভায় দুই মেয়র প্রার্থীসহ চারজনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। গতকাল যাচাই-বাছাইয়ের শেষদিনে সমর্থক ভোটারের জাল স্বাক্ষরের অভিযোগে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী মেয়র প্রার্থী জাহাঙ্গীর তালুকদারের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। এ ছাড়া কাগজ না থাকায় ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) ফারুক হোসেনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। এদিকে ঋণখেলাপির অভিযোগে সংরক্ষিত কাউন্সিলর প্রার্থী রাহিমা আক্তার ও বয়স কম হওয়ায় শাহনাজ আক্তারের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ পৌরসভায় সাধারণ কাউন্সিলর পদের ২ জন ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদের ২ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। নন্দীগ্রাম পৌরসভার এক মেয়র প্রার্থী ও দুই কাউন্সিলর প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। হলফনামায় স্বাক্ষর না থাকায় জাসদের মেয়র প্রার্থী মাহবুবার রহমান রুস্তমের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ পৌরসভায় এক মেয়র প্রার্থী ও দুই কাউন্সিলর প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। হলফনামায় স্বাক্ষর না থাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থী শামছুল হাকীম বকুলের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়। রংপুরের বদরগঞ্জ পৌরসভার সাধারণ কাউন্সিলর পদে আটজনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। মনোনয়নপত্রে ত্রুটি থাকায় নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় এক সাধারণ কাউন্সিলর প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করেছে রিটার্নিং অফিসার।
সৈয়দপুর পৌরসভার জামায়াতের স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী হাফেজ আবদুল মুনতাকিম, বিএনপির অধ্যক্ষ আবদুল গফুর সরকার ও জাতীয় পার্টির জাকির হোসেন তালুকদারের মনোনয়পত্র বাতিল করা হয়েছে। এ ছাড়া সাধারণ কাউন্সিলর প্রার্থী কামাল উদ্দীন, সংরক্ষিত কাউন্সিলর প্রার্থী মুন্নী বেগম ও ইয়াসমিন বেগমেরও মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।
চুনারুঘাট পৌরসভায় মেয়র পদের ২ প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। তারা হলেন জাতীয় পার্টির এস কে ইফতেখারুল গনি ও জামায়াতের স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী মীর সায়েব আলী। এদিকে হবিগঞ্জের মাধবপুর পৌরসভায় ২ জন সাধারণ কাউন্সিলর ও ১ জন সংরক্ষিত কাউন্সিলর প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। লাকসাম পৌরসভায় গতকাল ২ মেয়র ও সংরক্ষিত ২ কাউন্সিলর প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। মনোনয়নপত্র বাতিলকৃতরা হলেন- জাতীয় পার্টির মোখলেছুর রহমান ও স্বতন্ত্র প্রার্থী গোলাম ফারুক। এদিকে যশোরের বাঘারপাড়া পৌরসভায় ৭ কাউন্সিলর প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। খুলনার পাইকগাছা পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দুই বিদ্রোহী প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করেছেন রিটার্নিং অফিসার। গতকাল মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে মেয়র পদে পাঁচ প্রার্থীর মধ্যে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী পৌর আহ্বায়ক সাবেক ভারপ্রাপ্ত মেয়র শেখ কামরুল হাসান টিপু ও জেলা যুবলীগ নেতা প্যানেল মেয়র শেখ আনিছুর রহমান মুক্ত এর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। বাছাইর সময়ে মৌলভীবাজার পৌরসভার বিএনপির প্রার্থীসহ ২ জন মেয়র প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। এ ছাড়া ২জন সাধারণ কাউন্সিলর এবং একজন সংরক্ষিত কাউন্সিলর প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। বাতিল হওয়া দুই মেয়র প্রার্থী হলেন- বিএনপির অলিউর রহমান ও খেলাফত মজলিসের প্রার্থী সৈয়দ মোজাদ্দিদ আলী। এদিকে খুলনার দাকোপের চালনায় ৪ সংরক্ষিত কাউন্সিলর প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করেছে রিটার্নিং অফিসার। কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম পৌরসভায় গতকালের বাছাই পর্বে কাউন্সিলর পদে ১৪ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করেছে রিটার্নিং অফিসার। ত্রিশাল পৌরসভায় ৩ মেয়র প্রার্থীসহ ৭ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করেছে রিটার্নিং অফিসার ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জান্নাতুল ফেরদৌস। বাতিল হওয়া মেয়র প্রার্থীরা হলেন- উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক জহীর মো. আতাউর রহমান শামীম, স্বতন্ত্র প্রার্থী উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মাহবুবুল আলম পারভেজ ও উপজেলা শ্রমিক পার্টির আহ্বায়ক শরীফুল ইসলাম শরীফ। এদিকে বগুড়ার শেরপুর পৌরসভায় স্বতন্ত্র প্রার্থী রাসেল মাহমুদ, কাহালু পৌরসভায় জামায়াতের স্বতন্ত্র প্রার্থী জহুরুল ইসলাম বাদশা এবং নন্দীগ্রাম পৌরসভার জাসদের মেয়র প্রার্থী মাহবুবর রহমান রোস্তম এর মনোননয়পত্র বাতিল হয়েছে। এ ছাড়া সারিয়াকান্দির বিএনপি মনোনীত প্রার্থী টিপু সুলতান, স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুর রশিদ ফারাজি ও আবদুল হামিদ সর্দার মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। গোপালগঞ্জ পৌরসভায় মেয়র পদে বিএনপির প্রার্থী জেলা যুবদলের সভাপতি অ্যাডভোকেট তৌফিকুল ইসলাম ও টুঙ্গিপাড়া পৌরসভায় মেয়র পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী ফোরকান বিশ্বাসের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। এদিকে নেত্রকোণার কেন্দুয়া ও মদনে মেয়র প্রার্থীসহ ৩ জনের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। মদন পৌরসভায় রুহুল আমীন ভূঁইয়া স্বতন্ত্র মেয়র ও রীমা পালের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। রাজশাহী থেকে আমাদের স্টাফ রিপোর্টার জানান, রাজশাহীতে মেয়র প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে আরও ছয় পৌরসভায় ১৩ জন মেয়র প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। যাদের মনোনয়নপত্র বাতিল হলো- ভবানীগঞ্জ পৌরসভায় বিএনপির বিদ্রোহী মেয়র প্রার্থী শাহীনুর ইসলাম শাহীন, তাহেরপুর পৌরসভায় বিএনপির বিদ্রোহী মেয়র প্রার্থী সামসুন্নাহার, পৌর যুবদলের সভাপতি আবদুল আলীম বাবু ও ছাত্রদল সভাপতি এসএম আরিফুল ইসলাম আরিফ, দুর্গাপুর পৌরসভায় বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী সৈয়দ জামাল উদ্দিন, জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী আজাহার আলী ও ওয়ার্কার্স পার্টি মনোনীত প্রার্থী শামিমুল ইসলাম; কাটাখালী পৌরসভায় আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মঞ্জুর রহমান; পুঠিয়া পৌরসভায় আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আবদুল মালেক, বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী সাইফুল ইসলাম ও জামায়াতের আহাদ আলী নওহাটা পৌরসভায় আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আফজাল হোসেন ও হাফিজুর রহমানের। শরীয়তপুরের ৫টি পৌরসভায় আওয়ামী লীগ মনোনীত দুই মেয়র প্রার্থী সহ মোট ১৩ জন মেয়র প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করেছে সংশ্লিষ্ট পৌরসভা নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার। বাকি ১১জনই আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী। মেয়র প্রার্থীর মধ্যে যাদের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে তারা হলেন- শরীয়তপুর পৌরসভায় আওয়ামী লীগের রফিকুল ইসলাম কোতোয়াল, ডামুড্যা পৌরসভা আওয়ামী লীগের প্রার্থী ও বর্তমান মেয়র হুমায়ুন কবির বাচ্চু ছৈয়াল, আসাদুল্লাহ, ভেদরগঞ্জ পৌরসভায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আবদুল জব্বার রাঢ়ী, সাধারণ সম্পাদক আবদুল মান্নান বেপারি, যুবলীগ নেতা হালিম বেপারি, তানিয়া জাহিদ, নড়িয়া পৌরসভায় উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা জাকির হোসেন বেপারি, আওয়ামী লীগ নেতা মোসলেহ উদ্দিন, শাহেদুজ্জামান, জাজিরা পৌরসভায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা আবুল বাশার খান, ছাত্রলীগ নেতা খোকন তালুকদার ও যুবলীগ নেতা জুলহাস কবিরাজ।
ফেনীর তিন পৌরসভা নির্বাচনে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে কাউন্সিলর পদে ৫ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করেছে রিটার্নিং কর্মকর্তা। গতকাল ফেনী জেলা রিটার্নিং অফিসে ফেনী পৌরসভার ১৮টি ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে দুই প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। একই সময়ে দাগনভূঞা পৌরসভা নির্বাচনে তিন কাউন্সিলর প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করেন উপজেলা রিটার্নিং অফিসার। পরশুরাম পৌরসভায় প্রতিটি ওয়ার্ডে একক পদে সরকারদলীয় কাউন্সিলর প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছে উপজেলা রিটার্নিং অফিসার। ফেনী পৌরসভার ৬ ও ১৬নং ওয়ার্ডে দুই সাধারণ কাউন্সিলর প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। এদিকে দাগনভূঞা পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডে তিন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। গাংনী পৌরসভায় তিন কাউন্সিলর প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। এরা হলেন ৯নং ওয়ার্ডের মাসুদুর রহমান ও আব্দুল জলিল ও ২নং ওয়ার্ডের আব্দুল মান্নান। আয়-ব্যয়ের ফরম ও হলফনামায় প্রার্থীদের স্বাক্ষর না থাকা এবং প্রস্তাবকারী ও সমর্থনকারীর স্বাক্ষর ঠিক না থাকায় এসব প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বাতিল বলে গণ্য হয়েছে বলে জানান জেলা রিটার্নিং অফিসার। এদিকে ঝালকাঠির নলছিটি পৌরসভায় গতকাল দুই কাউন্সিলর প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। এরা হলেন সংরক্ষিত আসনের রোজিনা বাবুল ও সাধারণ আসনের মু. মুনিরুজ্জামান মুনির। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষ দিনে গতকাল নরসিংদী পৌরসভার মেয়র পদের ৮ জন প্রার্থীর মধ্যে দুজন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করেছে রিটার্নিং অফিসার। এরা হলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী জহিরুল ইসলাম মানিক ও ইসলামী ঐক্যজোটের আমিনুল ইসলাম। এছাড়া নোয়াখালীর চাটখিল পৌরসভায় স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী কার্তিক দেবনাথ ও ৮নং ওয়ার্ডে কাউন্সিলর প্রার্থী আলাউদ্দিনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। মেয়র পদে কার্তিক দেবনাথ আয়কর সনদ ও ছবি সত্যায়িত না করায় গতকাল তার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। এছাড়া কাউন্সিলর পদে আলাউদ্দিন ঋণখেলাপির কারণে বাদ পড়েছেন বলে রিটার্নিং কর্মকর্তা জানান। কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে বড় দুই দলের দুই বিদ্রোহী মেয়র ও একজন কাউন্সিলর প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে গতকাল। হলফনামায় স্বাক্ষর না থাকায় উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক আহ্বায়ক তানভীরুল হক রাহাত ও বিএনপির সাবেক সহসভাপতি কৃষিবিদ গোলাম ফারুক চাষীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে বলে জানান রিটার্নিং কর্মকর্তা। এ ছাড়া হলফনামায় শিক্ষাগত যোগ্যতা উল্লেখ না করায় কাউন্সিলর পদে ৯নং ওয়ার্ডের আসাদ মিয়ার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। মৌলভীবাজারের কুলাউড়া পৌরসভায় ৪ কাউন্সিলর প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। গতকাল মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের শেষদিনে সংরক্ষিত ২নং ওয়ার্ডে বর্তমান কাউন্সিলর রাজিয়া সুলতানা চৌধুরী, সাধারণ ৪নং ওয়ার্ডে জ্যোতির্ময় দেব রিপন, ৫নং ওয়ার্ডে সাবেক কাউন্সিলর রফিকুল ইসলাম টিপু ও মো. বদরুল ইসলামের মনোনয়ন বাতিল করেন রিটার্নিং অফিসার। উল্লাপাড়া পৌরসভায় ৩ মেয়র প্রার্থীর মধ্যে একজনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। তিনি হলেন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ও উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ফয়সাল কাদের রুমি। এদিকে ওই পৌরসভার ৪৫ জন কাউন্সিলর প্রার্থীর মধ্যে ১০ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়ে গেছে। এদের মধ্যে ৮ জন সাধারণ কাউন্সিলর ও দুজন সংরক্ষিত কাউন্সিলর প্রার্থী। মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়া প্রার্থীরা হলেন সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে গুলশান আরা বেলী ও হাসিনা বেগম। সাধারাণ কাউন্সিলর পদে আবদুল আলীম, নূর মোহাম্মদ, বাবলু ভৌমিক, মমতাজ হোসেন, মঞ্জুর মোল্লা, আবু হানিফ, রইচউজ্জামান শিল্টু ও শাহীন আলম। পঞ্চগড় পৌরসভায় মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের শেষদিনে জামায়ত সমর্থিত এক স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থীসহ ৩ সংরক্ষিত কাউন্সিলর প্রার্থী ও ৬ সাধারণ কাউন্সিলর প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। বাতিল হওয়া মেয়র প্রার্থী হলেন জেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা আবদুল খালেক। এ ছাড়া সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে রাহেনা খাতুন, খাদিজা হক, রাহেনা বেগমসহ সাধারণ কাউন্সিলর পদের জাহেদুল হক, নূর আলম, ওসমান গনী, রফিকুল ইসলাম, আবদুল মালেক ও আবু তালেবের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। বানারীপাড়া পৌরসভায় সাধারণ আসনের দুই কাউন্সিলর প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। হলফনামায় তথ্য গোপনের অভিযোগে ২নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী ও পৌর শ্রমিক দলের সভাপতি মো. রফিকুল আলমের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। এ ছাড়া ঋণখেলাপির অভিযোগে ৬নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী উপজেলা পিপলস লীগের সভাপতি ইলিয়াস শেখের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। এ ছাড়া গৌরনদী পৌরসভার সাধারণ কাউন্সিলর পদে ৩৯ প্রার্থীর মধ্যে ৩ জনের মনোয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। উজিরপুর পৌরসভায় ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) মেয়র প্রার্থী মনিরুজ্জামানের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। সাধারণ কাউন্সিলর পদে ৪ কাউন্সিলর প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে।সিরাজগঞ্জের ৬টি পৌরসভার মধ্যে ৩টিতে আওয়ামী লীগের ২ বিদ্রোহী প্রার্থীসহ ৩ জন মেয়র প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। এর মধ্যে সিরাজগঞ্জ পৌরসভার আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী শামছুজ্জামান আলো ও উল্লাপাড়ার আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ফয়সাল কাদির রুমির মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। এ ছাড়া উল্লাপাড়ায় সংরক্ষিত কাউন্সিলরের ২টি এবং সাধারণ কাউন্সিলরের ৮টি মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। এদিকে শাহজাদপুর ৬ মেয়র প্রার্থীর মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী জয়নাল আবেদিনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। এ ছাড়া এ পৌরসভার সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ১টি ও সাধারণ কাউন্সিলরের ৬টি মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। মানিকগঞ্জ পৌরসভা ৭ জন সাধারণ ও সংরক্ষিত কাউন্সিলরের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। সখীপুর পৌরসভায় দুই মেয়র প্রার্থীসহ চারজনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। গতকাল যাচাই-বাছাইয়ের শেষদিনে সমর্থক ভোটারের জাল স্বাক্ষরের অভিযোগে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী মেয়র প্রার্থী জাহাঙ্গীর তালুকদারের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। এ ছাড়া কাগজ না থাকায় ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) ফারুক হোসেনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। এদিকে ঋণখেলাপির অভিযোগে সংরক্ষিত কাউন্সিলর প্রার্থী রাহিমা আক্তার ও বয়স কম হওয়ায় শাহনাজ আক্তারের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ পৌরসভায় সাধারণ কাউন্সিলর পদের ২ জন ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদের ২ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। নন্দীগ্রাম পৌরসভার এক মেয়র প্রার্থী ও দুই কাউন্সিলর প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। হলফনামায় স্বাক্ষর না থাকায় জাসদের মেয়র প্রার্থী মাহবুবার রহমান রুস্তমের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ পৌরসভায় এক মেয়র প্রার্থী ও দুই কাউন্সিলর প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। হলফনামায় স্বাক্ষর না থাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থী শামছুল হাকীম বকুলের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়। রংপুরের বদরগঞ্জ পৌরসভার সাধারণ কাউন্সিলর পদে আটজনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। মনোনয়নপত্রে ত্রুটি থাকায় নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় এক সাধারণ কাউন্সিলর প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করেছে রিটার্নিং অফিসার।
সৈয়দপুর পৌরসভার জামায়াতের স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী হাফেজ আবদুল মুনতাকিম, বিএনপির অধ্যক্ষ আবদুল গফুর সরকার ও জাতীয় পার্টির জাকির হোসেন তালুকদারের মনোনয়পত্র বাতিল করা হয়েছে। এ ছাড়া সাধারণ কাউন্সিলর প্রার্থী কামাল উদ্দীন, সংরক্ষিত কাউন্সিলর প্রার্থী মুন্নী বেগম ও ইয়াসমিন বেগমেরও মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।
চুনারুঘাট পৌরসভায় মেয়র পদের ২ প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। তারা হলেন জাতীয় পার্টির এস কে ইফতেখারুল গনি ও জামায়াতের স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী মীর সায়েব আলী। এদিকে হবিগঞ্জের মাধবপুর পৌরসভায় ২ জন সাধারণ কাউন্সিলর ও ১ জন সংরক্ষিত কাউন্সিলর প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। লাকসাম পৌরসভায় গতকাল ২ মেয়র ও সংরক্ষিত ২ কাউন্সিলর প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। মনোনয়নপত্র বাতিলকৃতরা হলেন- জাতীয় পার্টির মোখলেছুর রহমান ও স্বতন্ত্র প্রার্থী গোলাম ফারুক। এদিকে যশোরের বাঘারপাড়া পৌরসভায় ৭ কাউন্সিলর প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। খুলনার পাইকগাছা পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দুই বিদ্রোহী প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করেছেন রিটার্নিং অফিসার। গতকাল মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে মেয়র পদে পাঁচ প্রার্থীর মধ্যে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী পৌর আহ্বায়ক সাবেক ভারপ্রাপ্ত মেয়র শেখ কামরুল হাসান টিপু ও জেলা যুবলীগ নেতা প্যানেল মেয়র শেখ আনিছুর রহমান মুক্ত এর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। বাছাইর সময়ে মৌলভীবাজার পৌরসভার বিএনপির প্রার্থীসহ ২ জন মেয়র প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। এ ছাড়া ২জন সাধারণ কাউন্সিলর এবং একজন সংরক্ষিত কাউন্সিলর প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। বাতিল হওয়া দুই মেয়র প্রার্থী হলেন- বিএনপির অলিউর রহমান ও খেলাফত মজলিসের প্রার্থী সৈয়দ মোজাদ্দিদ আলী। এদিকে খুলনার দাকোপের চালনায় ৪ সংরক্ষিত কাউন্সিলর প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করেছে রিটার্নিং অফিসার। কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম পৌরসভায় গতকালের বাছাই পর্বে কাউন্সিলর পদে ১৪ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করেছে রিটার্নিং অফিসার। ত্রিশাল পৌরসভায় ৩ মেয়র প্রার্থীসহ ৭ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করেছে রিটার্নিং অফিসার ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জান্নাতুল ফেরদৌস। বাতিল হওয়া মেয়র প্রার্থীরা হলেন- উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক জহীর মো. আতাউর রহমান শামীম, স্বতন্ত্র প্রার্থী উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মাহবুবুল আলম পারভেজ ও উপজেলা শ্রমিক পার্টির আহ্বায়ক শরীফুল ইসলাম শরীফ। এদিকে বগুড়ার শেরপুর পৌরসভায় স্বতন্ত্র প্রার্থী রাসেল মাহমুদ, কাহালু পৌরসভায় জামায়াতের স্বতন্ত্র প্রার্থী জহুরুল ইসলাম বাদশা এবং নন্দীগ্রাম পৌরসভার জাসদের মেয়র প্রার্থী মাহবুবর রহমান রোস্তম এর মনোননয়পত্র বাতিল হয়েছে। এ ছাড়া সারিয়াকান্দির বিএনপি মনোনীত প্রার্থী টিপু সুলতান, স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুর রশিদ ফারাজি ও আবদুল হামিদ সর্দার মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। গোপালগঞ্জ পৌরসভায় মেয়র পদে বিএনপির প্রার্থী জেলা যুবদলের সভাপতি অ্যাডভোকেট তৌফিকুল ইসলাম ও টুঙ্গিপাড়া পৌরসভায় মেয়র পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী ফোরকান বিশ্বাসের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। এদিকে নেত্রকোণার কেন্দুয়া ও মদনে মেয়র প্রার্থীসহ ৩ জনের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। মদন পৌরসভায় রুহুল আমীন ভূঁইয়া স্বতন্ত্র মেয়র ও রীমা পালের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। রাজশাহী থেকে আমাদের স্টাফ রিপোর্টার জানান, রাজশাহীতে মেয়র প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে আরও ছয় পৌরসভায় ১৩ জন মেয়র প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। যাদের মনোনয়নপত্র বাতিল হলো- ভবানীগঞ্জ পৌরসভায় বিএনপির বিদ্রোহী মেয়র প্রার্থী শাহীনুর ইসলাম শাহীন, তাহেরপুর পৌরসভায় বিএনপির বিদ্রোহী মেয়র প্রার্থী সামসুন্নাহার, পৌর যুবদলের সভাপতি আবদুল আলীম বাবু ও ছাত্রদল সভাপতি এসএম আরিফুল ইসলাম আরিফ, দুর্গাপুর পৌরসভায় বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী সৈয়দ জামাল উদ্দিন, জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী আজাহার আলী ও ওয়ার্কার্স পার্টি মনোনীত প্রার্থী শামিমুল ইসলাম; কাটাখালী পৌরসভায় আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মঞ্জুর রহমান; পুঠিয়া পৌরসভায় আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আবদুল মালেক, বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী সাইফুল ইসলাম ও জামায়াতের আহাদ আলী নওহাটা পৌরসভায় আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আফজাল হোসেন ও হাফিজুর রহমানের। শরীয়তপুরের ৫টি পৌরসভায় আওয়ামী লীগ মনোনীত দুই মেয়র প্রার্থী সহ মোট ১৩ জন মেয়র প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করেছে সংশ্লিষ্ট পৌরসভা নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার। বাকি ১১জনই আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী। মেয়র প্রার্থীর মধ্যে যাদের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে তারা হলেন- শরীয়তপুর পৌরসভায় আওয়ামী লীগের রফিকুল ইসলাম কোতোয়াল, ডামুড্যা পৌরসভা আওয়ামী লীগের প্রার্থী ও বর্তমান মেয়র হুমায়ুন কবির বাচ্চু ছৈয়াল, আসাদুল্লাহ, ভেদরগঞ্জ পৌরসভায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আবদুল জব্বার রাঢ়ী, সাধারণ সম্পাদক আবদুল মান্নান বেপারি, যুবলীগ নেতা হালিম বেপারি, তানিয়া জাহিদ, নড়িয়া পৌরসভায় উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা জাকির হোসেন বেপারি, আওয়ামী লীগ নেতা মোসলেহ উদ্দিন, শাহেদুজ্জামান, জাজিরা পৌরসভায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা আবুল বাশার খান, ছাত্রলীগ নেতা খোকন তালুকদার ও যুবলীগ নেতা জুলহাস কবিরাজ।

No comments:
Post a Comment