Tuesday, January 19, 2016

বিশিষ্টজনদের সম্মানে প্রধানমন্ত্রীর চা–চক্র

শীতের পড়ন্ত বিকালে গণভবনের উন্মুক্ত মাঠে বসেছিল বিশিষ্টজনদের মিলনমেলা। উৎসবের কেন্দ্রে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার আমন্ত্রণেই বিশিষ্টজনদের  সম্মানে পিঠা উৎসব ও চা-চক্র। অনুষ্ঠানে মাটিতে বিছানো গালিচায় বসে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন প্রধানমন্ত্রী। গতকাল সন্ধ্যায় আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে কবি, সাহিত্যিক, লেখক, সাংবাদিক, শিক্ষাবিদ, শিল্পী ও বুদ্ধিজীবীরা অংশ নেন।
বিকাল ৪টা ৪০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্রিম কালারের শাড়ি পরে গণভবনের দক্ষিণ লনে পৌঁছলে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। মাগরিবের নামাজের জন্য ১০ মিনিট বিরতিসহ এই অনুষ্ঠান তিন ঘণ্টাব্যাপী চলে। প্রধানমন্ত্রীর ছোট বোন শেখ রেহানাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। শেখ হাসিনা হেঁটে হেঁটে বরেণ্য ব্যক্তিবর্গের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের কুশল সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। এসময় বিভিন্ন শিল্পীর পরিবেশিত দেশাত্মবোধক ও লোক সংগীত এবং কবিতা আবৃত্তি উপভোগের মাধ্যমে বরেণ্য ব্যক্তিদের সঙ্গে তিনি স্মরণীয় সময় কাটান।
গণভবনের দক্ষিণ-পূর্ব কোণে সুসজ্জিত মঞ্চে দেশের নেতৃস্থানীয় সংগীত শিল্পী ও কবিরা গান এবং আবৃত্তি পরিবেশন করেন। প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব মো. আবুল কালাম আজাদের কন্যা রাইসা আহমেদ সেরা পরিবেশিত একটি রবীন্দ্র সংগীতের সঙ্গে শিশুরা গীতি নৃত্য পরিবেশন করে। পরে ডালিয়া আহমেদ কবিতা আবৃত্তি করেন এবং প্রিয়াংকা গোপ দেশাত্মবোধক গান পরিবেশন করেন। রবীন্দ্র সংগীত গেয়ে শোনান লাইসা আহমেদ লিসা, সাজেদ আকবর ও সালমা আকবর। জাতিগত সংখ্যালঘু গ্রুপের পক্ষ থেকে রাখাইন সম্প্রদায় তাদের ঐতিহ্যবাহী নৃত্য পরিবেশন করে। বিশিষ্ট আবৃত্তিকার জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়ও কবিতা আবৃত্তি করেন। তিমির নন্দী গেয়ে শোনান বিখ্যাত গান ‘শোন একটি মুজিবুরের থেকে’। নার্গিস ফাতেমা গেয়েছেন ‘তোমাকে শোনাতে এই গানের বীণা’। শামা রহমানও একটি রবীন্দ্র সংগীত পরিবেশন করেন। নজরুল সংগীত শিল্পী খায়রুল আলম শাকিল শচীন দেব বর্মণের ‘তাক দুম তাক দুম বাজে বাংলাদেশের ঢোল’ গেয়ে শোনান। প্রখ্যাত অভিনেতা মীর সাব্বির বরিশালের উচ্চারণে ‘কেউ কথা রাখেনি’ কবিতা আবৃত্তি করে শোনান। শিল্পকলা একাডেমির শিল্পীরা দেশাত্মবোধক ও লোক সংগীত পরিবেশন করেন। শিক্ষা সচিব সোহরাব হোসেন একটি কবিতা আবৃত্তি করেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক ড. জুলফিকার লেনিন একটি গান শোনান। সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর এবং প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সচিব-২ নমিতা হালদার অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন। আমন্ত্রিত অতিথিদেরকে পাটিসাপটা, ভাঁপা ও চিতই-এর মতো ঐতিহ্যবাহী পিঠা, চিকেন কাবাব, বিফ শিক কাবাব, পরোটা, নানরুটি, জিলাপি, চাপাতি, ফুসকা এবং চা ও কফি দিয়ে আপ্যায়িত করা হয়। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে সমকাল সম্পাদক গোলাম সারওয়ার, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, সিনিয়র সাংবাদিক শফিকুর রহমান, হাসান শাহরিয়ার, ফরিদ আহমেদ, নাদিম কাদির, কালের কণ্ঠের সম্পাদক ইমদাদুল হক মিলন, সংবাদ সম্পাদক আলতামাস কবির, চ্যানেল আই-এর পরিচালক (বার্তা) শাইখ সিরাজ, বিডি নিউজ ২৪ ডটকমের প্রধান সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালেদি, একাত্তর টেলিভিশনের মোজাম্মেল বাবু, বাংলাদেশ প্রতিদিনের সম্পাদক নঈম নিজাম, দৈনিক অর্থনীতি সম্পাদক নাঈমুল ইসলাম খান, একুশে টিভির সিইও মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল, ব্যারিস্টার আমিরুল ইসলাম, এডভোকেট আব্দুল বাসেত মজুমদার, প্রফেসর এমিরেটাস এ কে আজাদ চৌধুরী, এডভোকেট আব্দুল মতিন খসরু, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর, বিএমএ মহাসচিব অধ্যাপক ইকবাল আর্সালান, অভিনেতা আলী যাকের, কবি মহাদেব সাহা, ড. ইনামুল হক, অভিনেতা ফারুক, পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়, সংগীত দম্পতি রফিকুল আলম ও আবিদা সুলতানা, জাদুকর জুয়েল আইচ, গণসংগীত শিল্পী ফকির আলমগীর, নিমা আনাম, অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী ও মীর সাব্বির এবং আইসিটি বিশেষজ্ঞ মোস্তাফা জব্বার যোগ দেন। এছাড়া, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী ও মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ড. হারুন-অর-রশিদ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ড. মিজানুর রহমান প্রমুখ অংশ নেন।

No comments:

Post a Comment