চলতি
অর্থবছরের দ্বিতীয়ার্ধের (জানুয়ারি-জুন) জন্য নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা করে
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমান বলেছেন, এবারের মুদ্রানীতির
ভঙ্গি-সতর্ক ও সংযত কিন্তু সমর্থনমূলক। উৎপাদন ও মূল্য পরিস্থিতির সঙ্গে
সঙ্গতি রেখে মুদ্রানীতি ঘোষণা করা হয়েছে বলে জানান তিনি। নতুন মুদ্রানীতিতে
দীর্ঘ দিন পর নীতি-নির্ধারণী সুদহার (পলিসি রেট) কমানো হয়েছে। একই সঙ্গে
কমানো হয়েছে বেসরকারি খাতসহ বেশ কিছু লক্ষ্যমাত্রা। গতকাল আগামী ৬ মাসের
জন্য নয়া মুদ্রানীতি ঘোষণা করে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন মুদ্রানীতিতে সুদহার
কমানো বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন গভর্নর ড. আতিউর রহমান। নতুন মুদ্রানীতিতে
সুদহার দশমিক ৫০ শতাংশ কমিয়ে রেপোতে ৬ দশমিক ৭৫ এবং রিভার্স রেপোতে ৪
দশমিক ৭৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। বিনিয়োগকারীদের উৎসাহ দিতে এ সিদ্ধান্ত
নেয়া হয়েছে। সর্বশেষ ২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে এই সুদহার কমানো হয়। বিনিয়োগ
বাড়াতে বেশ কিছুদিন ধরে সুদহার কমানোর পরামর্শ দিয়ে আসছেন অর্থনীতিবিদ ও
বিশিষ্টজনেরা। সমপ্রতি বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিপিডি নীতি-নির্ধারণী
সুদহার কমানোর পরামর্শ দিয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতি-নির্ধারণী সুদ
কমালে ব্যাংকগুলোর সুদহারে তার প্রভাব পড়ে। বাংলাদেশ ব্যাংকের এ
সিদ্ধান্তের ফলে ব্যাংকিং খাতে সুদহার কমবে বলে মনে করা হচ্ছে। অবশ্য বেশ
কিছু দিন ধরে ব্যাংকগুলোর সুদহার কমতির দিকে রয়েছে। বর্তমানে ব্যাংকগুলোর
ঋণের গড় সুদহার নেমে এসেছে ১১ দশমিক ২৭ শতাংশে। এক বছর আগে যা ১২ দশমিক ৪৯
শতাংশ ছিল। তবে ব্যবসায়ীরা চান এ সুদহার আরও কমে এক অংকে নেমে আসুক।
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং কাঙ্ক্ষিত প্রবৃদ্ধি অর্জনের মধ্যে ভারসাম্য
রাখার প্রয়াস থেকে প্রতি ৬ মাসের আগাম মুদ্রানীতি ঘোষণা করে বাংলাদেশ
ব্যাংক। মুদ্রানীতিতে আগামী ৬ মাসের ঋণ যোগান, মুদ্রা সরবরাহ, প্রবৃদ্ধি,
মূল্যস্ফীতিসহ বিভিন্ন বিষয়ে ধারণা দেয়া হয়। নতুন মুদ্রানীতিতে আগামী জুন
নাগাদ বেসরকারি খাতে ঋণের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১৪ দশমিক ৮০ শতাংশ।
বেসরকারি খাতের রপ্তানিমুখী শিল্পের জন্য বৈদেশিক মুদ্রায় গঠিত ৫০ কোটি
ডলারের দুটি তহবিল থেকে ঋণ নেয়ার সুযোগের ঘোষণা থাকছে। গত জুলাই মাসে ঘোষিত
মুদ্রানীতিতে ডিসেম্বর পর্যন্ত ঋণের লক্ষ্য ছিল ১৪ দশমিক ৩০ শতাংশ। আর জুন
নাগাদ তা ১৫ শতাংশে নেয়ার কথা বলা হয়েছিল। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ
হিসাবে, নভেম্বর পর্যন্ত বেসরকারি খাতে ঋণ বেড়েছে ১৩ দশমিক ৭২ শতাংশ। চলতি
অর্থবছর জিডিপি প্রবৃদ্ধি সরকার নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার কাছাকাছি তথা ৬
দশমিক ৮০ থেকে ৬ দশমিক ৯০ শতাংশের মধ্যে থাকবে বলে মনে করছে বাংলাদেশ
ব্যাংক। তবে পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে ৭ শতাংশ স্পর্শ করার আশা দেখছেন
গভর্নর। সরকার প্রবৃদ্ধি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে ৭ শতাংশ। আর
মূল্যস্ফীতি সরকার নির্ধারিত ৬ দশমিক ২ শতাংশের মধ্যে সীমিত রাখা সম্ভব
হবে। যদিও আগের মুদ্রানীতিতে অর্থবছর শেষে মূল্যস্ফীতি ৬ দশমিক ৪ শতাংশ হবে
বলে ধারণা দিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে গত ডিসেম্বর পর্যন্ত ৬ দশমিক ১০
শতাংশে সীমিত থাকায় অর্থবছর শেষে সরকারের লক্ষ্য অর্জন হবে বলে এবারের
মুদ্রানীতিতে ধারণা দেয়া হয়েছে। মুদ্রানীতিতে ব্যাপক মুদ্রা যোগানের
বার্ষিক প্রবৃদ্ধি আগামী জুন নাগাদ ১৫ শতাংশ ধরা হচ্ছে। আগের মুদ্রানীতিতে
গত ডিসেম্বর পর্যন্ত মুদ্রা সরবরাহের লক্ষ্যমাত্রা একই ছিল। আর জুনে তা ১৫
দশমিক ৬ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা ছিল। তবে গত নভেম্বর পর্যন্ত
মুদ্রা সরবরাহের বার্ষিক প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ১৩ দশমিক ৮১ শতাংশ। সূত্র
জানায়, বেসরকারি খতে উৎপাদনমুখী কর্মকাণ্ডের জন্য বিশ্বব্যাংকের ৩০ কোটি
ডলারের তহবিল এবং পরিবেশবান্ধব উপায়ে রপ্তানি উপযোগী গার্মেন্ট ও চামড়া
শিল্প খাতের উদ্যোক্তাদের ঋণ দিতে ২০ কোটি ডলারের ইডিএফ তহবিলের ঘোষণা
থাকবে মুদ্রানীতিতে।
Subscribe to:
Post Comments (Atom)

No comments:
Post a Comment