Friday, January 15, 2016

প্রথম দিনেই পররাষ্ট্র দপ্তরে দুই নয়া দূত

ঢাকায় পৌঁছার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই পররাষ্ট্র দপ্তরে গেলেন বাংলাদেশে দায়িত্ব পাওয়া বৃটিশ ও ভারত সরকার মনোনীত দুই দূত। আলাদা সময়ে তারা রাষ্ট্রাচারের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বাংলাদেশে দ্রুততম সময়ের মধ্যে কাজ শুরু করতে আগ্রহী দূতদ্বয় প্রেসিডেন্টের কাছে পরিচয়পত্র পেশের সময় চেয়েছেন। পরবর্তী বৃটিশ হাইকমিশনারের দায়িত্ব নেয়ার অপেক্ষায় থাকা অ্যালিসন ব্লেক গতকাল দিনের শুরুতে পররাষ্ট্র দপ্তরে যান। সেখানে রাষ্ট্রাচারের প্রধান (চিফ অব প্রটোকল) আসাদ আলম সিয়ামের সঙ্গে তার বৈঠক হয়। বৈঠকে মন্ত্রণালয় ও বৃটিশ হাইকমিশনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। ঢাকায় মিশন প্রধানের দায়িত্ব পেয়ে উচ্ছ্বসিত অ্যালিসন ব্লেক বৃটেনের সঙ্গে বাংলাদেশের বন্ধুত্বপূর্ণ ও ব্যাপক সহযোগিতামূলক সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। বুধবার ঢাকায় পৌঁছার পর ব্লেকের বিবৃতিতেও এ অঙ্গীকারের উল্লেখ ছিল।
এদিকে বিকালে পররাষ্ট্র দপ্তরে যান ভারত মনোনীত হাইকমিশনার হর্ষবর্ধন শ্রিংলা। তিনিও রাষ্ট্রাচার প্রধানের সঙ্গে বৈঠক করেন। দায়িত্ব নিতে গতকাল দুপুরেই ব্যাংকক থেকে ঢাকায় পৌঁছান ভারতীয় জ্যেষ্ঠ এ কূটনীতিক। বিমানবন্দরে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হন তিনি। ঢাকার সঙ্গে পুরনো যোগাযোগ থাকা ওই কূটনীতিক বলেন, ভারতের কাছে বাংলাদেশ বরাবরই গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিবেশী দুই দেশের সম্পর্ক এগিয়ে নেয়ার বিষয়ে রাজনৈতিক পর্যায়ের যেসব সিদ্ধান্ত রয়েছে সেগুলো বাস্তবায়নে ‘দ্রুত গতি’ আনাই তার প্রথম এবং প্রধান কাজ হবে। দুই দেশের বিদ্যমান সুসম্পর্ক ‘নতুন উচ্চতায়’ নিয়ে যাওয়ার প্রচেষ্টাও অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার করেন কূটনীতিক হর্ষবর্ধন শ্রিংলা। বিমানবন্দরে উপস্থিত গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের সঙ্গে কুশল বিনিময়ের পর পশ্চিমবঙ্গের দার্জিলিংয়ে জন্ম নেয়া ভারতীয় এ কূটনীতিক বাংলায় বলেন, ‘আজ আমি খুব খুশি ভারতের হাইকমিশনার হিসেবে বাংলাদেশে আসতে পেরে। এই সুন্দর, সোনার বাংলায় আমার খুব সুন্দর সময় কাটবে বলে ?আশা করি’। পরে অবশ্য ইংরেজিতে কথা বলেন তিনি। দিল্লির বিদেশ মন্ত্রণালয়ে বিভিন্ন কূটনৈতিক দায়িত্ব পালনকালে বেশ কয়েকবার বাংলাদেশে এসেছিলেন জানিয়ে ওই কূটনীতিক বলেন, ঢাকায় আগেও এসেছি। তবে এবারের যাত্রা ভিন্ন অভিজ্ঞতা। বাংলাদেশ ভারতের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী। এখানে দায়িত্ব পেয়ে আমি সত্যিই আনন্দিত। বিমানবন্দর থেকে বিদায়ের সময় স্ত্রী ও একমাত্র পুত্র এবং ভারতীয় হাইকমিশনের কর্মকর্তারা তার সঙ্গে ছিলেন। এর আগে বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জে নয়া ওই দূতকে বরণ করে নেন ভারতীয় হাইকমিশনের পদস্থ কর্মকর্তারা। তারা ফুলের তোড়া দিয়ে তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। এ সময় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা এবং কয়েকটি দেশের কূটনীতিক সেখানে উপস্থিত ছিলেন। ভারতীয় ফরেন সার্ভিসে ‘উদীয়মান তারকাদের’ অন্যতম হিসেবে বিবেচিত হর্ষবর্ধন শ্রিংলার বাংলাদেশে আসার আগে থাইল্যান্ডে দেশটির রাষ্ট্রদূত ছিলেন। দীর্ঘ ৩০ বছরে বর্ণাঢ্য কূটনৈতিক জীবনে তিনি প্যারিস, হ্যানয় ও তেলআবিবের ভারতীয় দূতাবাসে বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। জাতিসংঘে ভারতের স্থায়ী মিশনের কাউন্সিলর এবং চীনের হো চি মিন শহর, ভিয়েতনাম ও দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবান শহরে ভারতের কনসাল জেনারেল হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। ব্যাংককে নিয়োগের আগে দিল্লির বিদেশ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব হিসেবে বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, মিয়ানমার ও মালদ্বীপের বিষয়গুলো দেখভাল করতেন তিনি। দিল্লির সেন্ট স্টিফেনস কলেজের স্নাতক শ্রিংলা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যোগ দেয়ার আগে ভারতের করপোরেট ও সেবা খাতে কাজ করেছেন। থাইল্যান্ডে দেশটির রাষ্ট্রদূতের পাশাপাশি ইউএনইএসসিএপিতে স্থায়ী প্রতিনিধির দায়িত্বে ছিলেন তিনি।

No comments:

Post a Comment