![]() |
| ডেইলি স্টার ও বিজিএমইএ আয়োজিত গোলটেবিল বৈঠকে অতিথিরাl প্রথম আলো |
স্থানীয়
ও সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) বাড়ানো ছাড়া ২০২১ সালের মধ্যে তৈরি
পোশাকের রপ্তানি আয় ৫ হাজার কোটি ডলারে নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। এ ছাড়া
অবকাঠামো উন্নতির পাশাপাশি দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি, আধুনিক প্রযুক্তির
ব্যবহার করে উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি, কারখানা চলমান সংস্কার
কার্যক্রমসম্পন্ন, শ্রমিক অধিকার বাস্তবায়ন ও কাঁচামাল জোগানের বিষয়ে জোর
দিতে হবে।
তৈরি পোশাকশিল্পের মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ ও ইংরেজি দৈনিক দ্য ডেইলি স্টার-এর যৌথ উদ্যোগে ‘লক্ষ্যমাত্রা ৫০ বিলিয়ন: এটি অর্জনে আপনার সহায়তা দরকার’ শীর্ষক এক গোলটেবিল আলোচনায় বক্তারা এসব কথা বলেন। এতে পোশাক ও বস্ত্র খাতের উদ্যোক্তা, শ্রমিকনেতা, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, অর্থনীতিবিদ, বিভিন্ন দাতা সংস্থার প্রতিনিধি, রাষ্ট্রদূত ও সরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
রাজধানীর ফার্মগেট এলাকায় ডেইলি স্টার সেন্টারে গতকাল শনিবার এই গোলটেবিল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সঞ্চালকের দায়িত্ব পালন করেন দ্য ডেইলি স্টার-এর সম্পাদক মাহ্ফুজ আনাম। উপস্থিত ছিলেন এনবিআরের চেয়ারম্যান নজিবুর রহমান, শ্রমসচিব মিকাইল শিপার, ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মার্শা স্টিফেনস ব্লুম বার্নিকাট, ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) রাষ্ট্রদূত পিয়েরে মায়াদুন প্রমুখ।
আলোচনায় মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন অস্ট্রেলিয়ার আরএমআইটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক শরীফ আস্-সাবের। স্বাগত বক্তব্যে বিজিএমইএর সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘২০২০ সালে বিশ্বের পোশাক বাণিজ্য ৬৫ হাজার কোটি ডলারে দাঁড়াবে। আমরা যদি আমাদের বর্তমানের ৫ শতাংশ শেয়ারকে ৮ শতাংশে উন্নীত করতে পারি, তবে সহজেই ২০২১ সালে ৫ হাজার কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানির লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারব।’ গত ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ২ হাজার ৫৪৯ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়েছে।
পোশাক রপ্তানির লক্ষ্য অর্জন করতে স্থানীয় ও বিদেশি বিনিয়োগের ওপর জোর দেন গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর। তিনি বলেন, ৫ থেকে ১০ বিলিয়ন করা সহজ। তবে ২৫ থেকে ৫০ বিলিয়ন করা অনেক কঠিন। এটির জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নিতে হবে। গত ৩৫ বছরে পোশাক খাতে যে বিনিয়োগ হয়েছে, আগামী পাঁচ-ছয় বছরে সেই পরিমাণ বিনিয়োগ করতে হবে। ওই বিনিয়োগ আবার মূলধন নিবিড় হতে হবে। তিনি আরও বলেন, ‘বিজিএমইএর নেতাদের দ্বিমত থাকলেও আমি মনে করি, সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ ছাড়া আমরা এটি অর্জন করতে পারব না।’
ইইউর রাষ্ট্রদূত পিয়েরে মায়াদুনও প্রায় একই মত দিয়ে বলেন, প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ ও দক্ষতা উন্নয়নের পাশাপাশি স্থানীয় বিনিয়োগ ও এফডিআই আনতে হবে। এফডিআইকে প্রতিযোগী মনে না করে দরকারি ভাবতে হবে। এ জন্য আরও বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ প্রয়োজন।
ছয় বছরের কম সময়ের মধ্যে পোশাক রপ্তানি দ্বিগুণ করার লক্ষ্যকে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাট উচ্চাভিলাষী বলেই মনে করেন। তবে তিনি বলেন, বড় লক্ষ্য না থাকলে বড় ফল পাওয়া যায় না। যুক্তরাষ্ট্রের এই কূটনীতিক আরও বলেন, ব্যয়বহুল সংস্কারকাজ শিল্পের জন্য বাধা মনে করেছেন। তবে এটি শেষ হলে ক্রয়াদেশ ও উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে। শ্রমিকেরাও নিরাপদ পরিবেশে কাজ করতে স্বচ্ছন্দবোধ করবেন। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে শুল্কমুক্ত সুবিধা ও জিএসপি পেতে বাংলাদেশের উৎপাদকদের আন্তর্জাতিক মানে পৌঁছাতে পরামর্শ দেন তিনি।
পোশাক রপ্তানির লক্ষ্য অর্জনে বাড়তি কী পরিমাণ বিদ্যুৎ-গ্যাস, জমি, বন্দরসুবিধা, দক্ষ শ্রমিক ও মধ্যম সারির কর্মকর্তা লাগবে, তা হিসাব করার কথা বলেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম।
সিপিডির এই গবেষকের বক্তব্য সমর্থন করে পোশাকশিল্পের উদ্যোক্তাদের উদ্দেশে শ্রমসচিব মিকাইল শিপার বলেন, ‘৫০ বিলিয়নের লক্ষ্য অর্জনে কতটা দক্ষ শ্রমিক লাগবে কিংবা কতটা জায়গার দরকার, সেটি আমাদের বলুন। তাহলেই আমরা আপনাদের সাহায্য করতে পারব। না হলে পারব না।’
ডেইলি স্টার-এর সম্পাদক মাহ্ফুজ আনাম বলেন, বিজিএমইএ যদি ২০২১ সালের মধ্যে ৫০ বিলিয়ন ডলারের পোশাক রপ্তানিকে সিরিয়াস টার্গেট হিসেবে নেয়, তবে তাদের খাতভিত্তিক সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা তৈরি করতে হবে। কারণ হাতে সময় মাত্র পাঁচ বছর। পোশাক রপ্তানি করে প্রতিবছর ৫ বিলিয়ন অতিরিক্ত আয় করতে হবে। পাঁচ বছরের জন্য একটি শক্তিশালী আন্তমন্ত্রণালয় কমিটি করার পরামর্শ দেন তিনি।
আলোচনায় অধিকাংশ বক্তাই কারখানার চলমান সংস্কারকাজ শেষ করার ওপর জোর দেন। বিশ্বব্যাংক ঢাকা কার্যালয়ের মুখ্য অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন বলেন, ‘বাংলাদেশের সুযোগের পাশাপাশি ঝুঁকিও আছে। ভারত, ভিয়েতনাম ও আফ্রিকার চারটি দেশ দ্রুত এগোচ্ছে। সংস্কারকাজ দ্রুত শেষ করতে না পারলে ঝুঁকিটা বেড়ে যাবে। সে ক্ষেত্রে প্রশ্ন হচ্ছে, সহায়তা কোথায় দরকার?’ তিনি আরও বলেন, ‘উৎপাদনক্ষমতা বাড়াতে হবে। দুটি জ্বালা আছে—জমি ও জ্বালানি। গ্যাস বড় সমস্যা। এটি ব্যবহারে জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে সরকারকে নীতি গ্রহণ করতে হবে।’
আলোচনায় ক্রেতাদের কাছ থেকে পোশাকের ন্যায্যমূল্য আদায়ের কথা বলেন বিজিএমইএর একাধিক নেতা। ব্যবসায়িক কূটনীতির মাধ্যমে এটি অর্জনের পরামর্শ দেন জাহিদ হোসেন। তিনি বলেন, ‘মূল্য নিয়ে আমাদের উদ্যোক্তাদের মধ্যে একধরনের প্রতিযোগিতা আছে। আমরা জানি, প্রতিযোগিতা ভালো। তবে প্রতিযোগিতা কমানোর জন্য প্রতিযোগিতা করাটা সুস্থ নয়। এই সমন্বয়হীনতা শিল্পমালিকদেরই মীমাংসা করতে হবে।’
আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) এদেশীয় পরিচালক শ্রীনিবাস রেড্ডি লক্ষ্য অর্জনে তিনটি পরামর্শ দেন। এক. শ্রমিক অধিকারকে সম্মান দেখাতে হবে। দুই. কারখানার সংস্কারকাজ শেষ করা। তিন. দক্ষ মানবসম্পদের জন্য বিনিয়োগ করা। তিনি বলেন, ছোট একটি কারখানার দুর্ঘটনাও পুরো শিল্পের জন্য অ্যাটম বোমা হিসেবে দেখা দিতে পারে। তাই সব কারখানার সংস্কারকাজ সময়মতো শেষ করতে হবে।
শ্রমিকনেত্রী নাজমা আক্তার বলেন, লক্ষ্য অর্জনে অবকাঠামো ও উৎপাদনক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি শ্রমিকদের জীবন ধারণের উপযোগী মজুরি ও ট্রেড ইউনিয়ন করার স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে।
সেমিনারে আরও বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সাদেকা হালিম, বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি আনিসুর রহমান সিনহা, আব্দুস সালাম মুর্শেদী, বিটিএমএর সাবেক সভাপতি মতিন চৌধুরী, দৈনিক ভোরের কাগজ-এর সম্পাদক শ্যামল দত্ত প্রমুখ।
তৈরি পোশাকশিল্পের মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ ও ইংরেজি দৈনিক দ্য ডেইলি স্টার-এর যৌথ উদ্যোগে ‘লক্ষ্যমাত্রা ৫০ বিলিয়ন: এটি অর্জনে আপনার সহায়তা দরকার’ শীর্ষক এক গোলটেবিল আলোচনায় বক্তারা এসব কথা বলেন। এতে পোশাক ও বস্ত্র খাতের উদ্যোক্তা, শ্রমিকনেতা, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, অর্থনীতিবিদ, বিভিন্ন দাতা সংস্থার প্রতিনিধি, রাষ্ট্রদূত ও সরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
রাজধানীর ফার্মগেট এলাকায় ডেইলি স্টার সেন্টারে গতকাল শনিবার এই গোলটেবিল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সঞ্চালকের দায়িত্ব পালন করেন দ্য ডেইলি স্টার-এর সম্পাদক মাহ্ফুজ আনাম। উপস্থিত ছিলেন এনবিআরের চেয়ারম্যান নজিবুর রহমান, শ্রমসচিব মিকাইল শিপার, ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মার্শা স্টিফেনস ব্লুম বার্নিকাট, ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) রাষ্ট্রদূত পিয়েরে মায়াদুন প্রমুখ।
আলোচনায় মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন অস্ট্রেলিয়ার আরএমআইটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক শরীফ আস্-সাবের। স্বাগত বক্তব্যে বিজিএমইএর সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘২০২০ সালে বিশ্বের পোশাক বাণিজ্য ৬৫ হাজার কোটি ডলারে দাঁড়াবে। আমরা যদি আমাদের বর্তমানের ৫ শতাংশ শেয়ারকে ৮ শতাংশে উন্নীত করতে পারি, তবে সহজেই ২০২১ সালে ৫ হাজার কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানির লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারব।’ গত ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ২ হাজার ৫৪৯ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়েছে।
পোশাক রপ্তানির লক্ষ্য অর্জন করতে স্থানীয় ও বিদেশি বিনিয়োগের ওপর জোর দেন গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর। তিনি বলেন, ৫ থেকে ১০ বিলিয়ন করা সহজ। তবে ২৫ থেকে ৫০ বিলিয়ন করা অনেক কঠিন। এটির জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নিতে হবে। গত ৩৫ বছরে পোশাক খাতে যে বিনিয়োগ হয়েছে, আগামী পাঁচ-ছয় বছরে সেই পরিমাণ বিনিয়োগ করতে হবে। ওই বিনিয়োগ আবার মূলধন নিবিড় হতে হবে। তিনি আরও বলেন, ‘বিজিএমইএর নেতাদের দ্বিমত থাকলেও আমি মনে করি, সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ ছাড়া আমরা এটি অর্জন করতে পারব না।’
ইইউর রাষ্ট্রদূত পিয়েরে মায়াদুনও প্রায় একই মত দিয়ে বলেন, প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ ও দক্ষতা উন্নয়নের পাশাপাশি স্থানীয় বিনিয়োগ ও এফডিআই আনতে হবে। এফডিআইকে প্রতিযোগী মনে না করে দরকারি ভাবতে হবে। এ জন্য আরও বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ প্রয়োজন।
ছয় বছরের কম সময়ের মধ্যে পোশাক রপ্তানি দ্বিগুণ করার লক্ষ্যকে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাট উচ্চাভিলাষী বলেই মনে করেন। তবে তিনি বলেন, বড় লক্ষ্য না থাকলে বড় ফল পাওয়া যায় না। যুক্তরাষ্ট্রের এই কূটনীতিক আরও বলেন, ব্যয়বহুল সংস্কারকাজ শিল্পের জন্য বাধা মনে করেছেন। তবে এটি শেষ হলে ক্রয়াদেশ ও উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে। শ্রমিকেরাও নিরাপদ পরিবেশে কাজ করতে স্বচ্ছন্দবোধ করবেন। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে শুল্কমুক্ত সুবিধা ও জিএসপি পেতে বাংলাদেশের উৎপাদকদের আন্তর্জাতিক মানে পৌঁছাতে পরামর্শ দেন তিনি।
পোশাক রপ্তানির লক্ষ্য অর্জনে বাড়তি কী পরিমাণ বিদ্যুৎ-গ্যাস, জমি, বন্দরসুবিধা, দক্ষ শ্রমিক ও মধ্যম সারির কর্মকর্তা লাগবে, তা হিসাব করার কথা বলেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম।
সিপিডির এই গবেষকের বক্তব্য সমর্থন করে পোশাকশিল্পের উদ্যোক্তাদের উদ্দেশে শ্রমসচিব মিকাইল শিপার বলেন, ‘৫০ বিলিয়নের লক্ষ্য অর্জনে কতটা দক্ষ শ্রমিক লাগবে কিংবা কতটা জায়গার দরকার, সেটি আমাদের বলুন। তাহলেই আমরা আপনাদের সাহায্য করতে পারব। না হলে পারব না।’
ডেইলি স্টার-এর সম্পাদক মাহ্ফুজ আনাম বলেন, বিজিএমইএ যদি ২০২১ সালের মধ্যে ৫০ বিলিয়ন ডলারের পোশাক রপ্তানিকে সিরিয়াস টার্গেট হিসেবে নেয়, তবে তাদের খাতভিত্তিক সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা তৈরি করতে হবে। কারণ হাতে সময় মাত্র পাঁচ বছর। পোশাক রপ্তানি করে প্রতিবছর ৫ বিলিয়ন অতিরিক্ত আয় করতে হবে। পাঁচ বছরের জন্য একটি শক্তিশালী আন্তমন্ত্রণালয় কমিটি করার পরামর্শ দেন তিনি।
আলোচনায় অধিকাংশ বক্তাই কারখানার চলমান সংস্কারকাজ শেষ করার ওপর জোর দেন। বিশ্বব্যাংক ঢাকা কার্যালয়ের মুখ্য অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন বলেন, ‘বাংলাদেশের সুযোগের পাশাপাশি ঝুঁকিও আছে। ভারত, ভিয়েতনাম ও আফ্রিকার চারটি দেশ দ্রুত এগোচ্ছে। সংস্কারকাজ দ্রুত শেষ করতে না পারলে ঝুঁকিটা বেড়ে যাবে। সে ক্ষেত্রে প্রশ্ন হচ্ছে, সহায়তা কোথায় দরকার?’ তিনি আরও বলেন, ‘উৎপাদনক্ষমতা বাড়াতে হবে। দুটি জ্বালা আছে—জমি ও জ্বালানি। গ্যাস বড় সমস্যা। এটি ব্যবহারে জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে সরকারকে নীতি গ্রহণ করতে হবে।’
আলোচনায় ক্রেতাদের কাছ থেকে পোশাকের ন্যায্যমূল্য আদায়ের কথা বলেন বিজিএমইএর একাধিক নেতা। ব্যবসায়িক কূটনীতির মাধ্যমে এটি অর্জনের পরামর্শ দেন জাহিদ হোসেন। তিনি বলেন, ‘মূল্য নিয়ে আমাদের উদ্যোক্তাদের মধ্যে একধরনের প্রতিযোগিতা আছে। আমরা জানি, প্রতিযোগিতা ভালো। তবে প্রতিযোগিতা কমানোর জন্য প্রতিযোগিতা করাটা সুস্থ নয়। এই সমন্বয়হীনতা শিল্পমালিকদেরই মীমাংসা করতে হবে।’
আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) এদেশীয় পরিচালক শ্রীনিবাস রেড্ডি লক্ষ্য অর্জনে তিনটি পরামর্শ দেন। এক. শ্রমিক অধিকারকে সম্মান দেখাতে হবে। দুই. কারখানার সংস্কারকাজ শেষ করা। তিন. দক্ষ মানবসম্পদের জন্য বিনিয়োগ করা। তিনি বলেন, ছোট একটি কারখানার দুর্ঘটনাও পুরো শিল্পের জন্য অ্যাটম বোমা হিসেবে দেখা দিতে পারে। তাই সব কারখানার সংস্কারকাজ সময়মতো শেষ করতে হবে।
শ্রমিকনেত্রী নাজমা আক্তার বলেন, লক্ষ্য অর্জনে অবকাঠামো ও উৎপাদনক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি শ্রমিকদের জীবন ধারণের উপযোগী মজুরি ও ট্রেড ইউনিয়ন করার স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে।
সেমিনারে আরও বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সাদেকা হালিম, বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি আনিসুর রহমান সিনহা, আব্দুস সালাম মুর্শেদী, বিটিএমএর সাবেক সভাপতি মতিন চৌধুরী, দৈনিক ভোরের কাগজ-এর সম্পাদক শ্যামল দত্ত প্রমুখ।

No comments:
Post a Comment