Sunday, January 31, 2016

সংবিধান না থাকলেও জনগণ ক্ষমতার মালিক থাকবে -রেহমান সোবহানের বইয়ের আলোচনায় ড. কামাল

মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টার ইনে গতকাল ‘দ্য স্ট্রাগল ফর বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনায় অংশ নেন (বাঁ থেকে) সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম, ড. কামাল হোসেন, রেহমান সোবহান, দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, গওহর রিজভী ও সুলতান হাফিজ রহমান l ছবি: প্রথম আলো
কৃতী অর্থনীতিবিদ রেহমান সোবহানের স্মৃতিকথা আনট্রাঙ্কুইল রিকালেকশনস, দ্য ইয়ারস অব ফুলফিলমেন্ট–এ রাষ্ট্রের অভ্যুদয়ের সঙ্গে সমান্তরালভাবে ব্যক্তির যাপিত জীবনের বর্ণনা আছে। দেশের সবচেয়ে উজ্জ্বল সময় ষাটের দশক, যেখানে চিন্তা, চিন্তকের সঙ্গে রাজনীতির চমৎকার সমন্বয়ের চিত্র আছে। এ বই অনেককে অনুপ্রাণিত করবে।
গতকাল শনিবার রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টার ইন মিলনায়তনে ‘দ্য স্ট্রাগল ফর বাংলাদেশ’ শীর্ষক সংলাপে বক্তারা এই অভিমত দেন।
মুক্ত আলোচনায় গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেন, ‘ঐকমত্য গড়ে উঠেছিল বলে আমরা স্বাধীন হয়েছিলাম, স্বৈরাচারমুক্ত হয়েছিলাম। এ দেশে গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা, জাতীয়তাবাদ থাকবে। গণতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থার মধ্য দিয়ে মানুষের মধ্যে বৈষম্য বিলোপ সম্ভব। সংবিধানকে ছিঁড়ে ফেলে দিলেও জনগণ ক্ষমতার মালিক আর চার মূলনীতি থাকবে। সবাইকে উৎসাহিত করে একটি জাতীয় ঐকমত্য গড়ে তোলার ব্যাপারে এ বইটার একটা অসাধারণ ভূমিকা থাকতে পারে।’
রেহমান সোবহানের স্মৃতিকথা আনট্রাঙ্কুইল রিকালেকশনস, দ্য ইয়ারস অব ফুলফিলমেন্ট-এর ওপর ভিত্তি করে এ সংলাপের আয়োজন করে গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। সিপিডির বিশেষ ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের সঞ্চালনায় সংলাপে সূচনা বক্তব্য দেন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান। এরপর স্মৃতিকথা নিয়ে রেহমান সোবহান সংক্ষিপ্ত বক্তৃতা করেন।
অনুষ্ঠানে রওনক জাহান বলেন, তখনকার শিক্ষকেরা রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় থাকতেন। ছাত্রদের তাঁরা অনুপ্রাণিত করলেও নিজেরা কখনো রাজনৈতিকভাবে নিয়ন্ত্রিত ছিলেন না। নিজেদের আদর্শের জায়গা থেকে তাঁরা সব সময় রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করতেন।
প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা গওহর রিজভী বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতাসংগ্রামের জন্য রেহমান সোবহানের অঙ্গীকার এত কঠিন ছিল যে দেশটির জন্য আন্তর্জাতিক সমর্থন আদায়ে তিনি পৃথিবীর নানা প্রান্তে গেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজির অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম বলেন, একটি বিশেষ উদ্দেশ্য সামনে রেখে অধ্যাপক রেহমান সোবহানের স্মৃতিকথায় ইতিহাসের বর্ণনা আছে। তিনি ছাত্রদের উদ্বুদ্ধ করেছেন, তাদের মনন গঠনে ভূমিকা রাখছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির অধ্যাপক এম এম আকাশ বলেন, বইটি রোমাঞ্চকর ও শিক্ষণীয়।
মুক্ত আলোচনায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ বলেন, ‘আশা করব পরের বইতে লিখবেন যে কেন আপনারা সমাজতন্ত্র এমন একটি দলকে নিয়ে বাস্তবায়ন করতে চাইলেন, যারা সমাজতন্ত্রের আদর্শে বিশ্বাস করে না। একদলীয় ব্যবস্থা যে হলো, বঙ্গবন্ধুকে বোঝানো হলো গণতন্ত্রের মাধ্যমে সমাজতন্ত্র অর্জন করা যাবে না।’ এ প্রসঙ্গে সিপিবির সাধারণ সম্পাদক মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, কমিউনিস্ট পার্টি একদলীয় শাসন বা বাকশালের পক্ষে ছিল না। মণি সিংহ ও মোহাম্মদ ফরহাদের নেতৃত্বে সিপিবির সর্বোচ্চ নেতৃত্ব বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে দেখা করে বলেছিলেন, সমাজতন্ত্র চালু করতে একদলীয় শাসন পূর্বশর্ত নয়।
আলোচনায় সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা আকবর আলি খান ও রাশেদা কে চৌধূরী, সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আবুল হাসান চৌধুরী, বিআইজিডির নির্বাহী পরিচালক সুলতান হাফিজ রহমান প্রমুখ অংশ নেন।

No comments:

Post a Comment