শাহিদ মোস্তফা শাহিদ, কক্সবাজার সদর:
কক্সবাজারে উত্তর বনবিভাগের আওতাধীন ঈদগাঁও মেহেরঘোনা বিটের বনাঞ্চলে
সংঘবদ্ধ বনদস্যুদের ধারাবাহিক বনজ সম্পদ লুটপাট, পাচার বাণিজ্যের ফলে
মেহেরঘোনা বিটে হাজার হেক্টর অধিক বনভূমি উজাড় হতে চলছে। প্রতিদিন বন
নিধনযজ্ঞ ও পাহাড় কেটে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ চলতে থাকলে আগামীতে বনায়ন,
সৃজনের মত আর কোন পরিবেশ থাকবে না বলে মনে করছেন পরিবেশবাদীরা। সূত্রে জানা
যায়, মেহেরঘোনা বিটের আওতাধীন বিট অফিসার, ভিলেজার, হেডম্যান, গাছচোর ও
ভূমি খেকোদের সহায়তায় প্রায় ৭/৮ হাজারেরও অধিক স্থাপনা গড়ে উঠেছে। নাম
প্রকাশে অনিচ্ছুক এসব স্থাপনার একাধিক মালিক জানান, বনবিভাগ সময়ে অসময়ে
কয়েকবার এসব বসতি ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিয়েছে। কিছুদিন যেতে না যেতেই পুনরায় বিট
কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে ঘরবাড়ী ও দখল বাণিজ্যে মেতে উঠেছে। আর ঐসব
বনভূমিতে বর্তমানে শত শত অবৈধ স্থাপনা গড়ে উঠেছে। বিশেষ করে ভাদিতলা,
মেহেরঘোনা, সাতঘরিয়া পাড়া, পূর্ব ভাদিতলা, চান্দেরঘোনা, পূর্ব চান্দেরঘোনা,
ঘোনা পাড়া এলাকায় অধিকাংশ বনভূমির জায়গা অবৈধ দখলদারদের দখলে রয়েছে। এসব
বনভূমির জায়গার উপর বিভিন্ন স্থান থেকে বহিরাগত লোকজন এসে বসতবাড়ী নির্মাণ
করলেও বনবিভাগের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তাদের রহস্যজনক কারনে কোন কার্যকরী
ভূমিকা দেখা যায় না। এজন্য এতদাঞ্চলের লোক সরকারী বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ
করে বলেন, বনভূমির জায়গা দখলকারীদের সাথে রেঞ্জ ও বিট কর্মকর্তার যোগসাজস
রয়েছে। এব্যাপারে বিট কর্মকর্তা সিরাজুল হকের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি
স্থানীয় সংবাদকর্মীদের নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করেন। পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত
হলে তার কিছুই হবে না বলে জানায়। অভিযোগ উঠেছে উক্ত বিট কর্মকর্তা সিরাজুল
হক সাবেক মন্ত্রী সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর এলাকার লোক পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন জনের
কাছ থেকে চাঁদা দাবী করে। যার ধারাবাহিকতায় যোগদানের পরদিন স্থানীয় অবৈধ
গাছ ব্যবসায়ীদের সাথে গোপন বৈঠক করেন তিনি। স্থানীয় জহির মৌলভীর ভিটাবাড়ীতে
সীমানা প্রাচীর নির্মাণের সময় ১ লক্ষ টাকা ঘুষ গ্রহণ, অফিসের টিলায় গর্জন
বাগানের মাঝে ভিলেজার আবুতাহের কর্তৃক নতুন বাড়ী নির্মাণ করে ভাড়া দেওয়া,
চান্দের ঘোনা আবুল বশরের ছোট ভাই থেকে সীমানা প্রাচীর দেওয়ার অজুহাতে ১২
হাজার টাকা, ভাদিতলা থেকে মেহেরঘোনা পর্যন্ত প্রায় ৭০টির মত বাড়ী নির্মাণে
প্রতিটি ঘর থেকে ১৫ হাজার টাকা করে ঘুষ নিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। মেহেরঘোনা
বিটের প্রায় ৩ হাজার ৫শত হেক্টর বনভূমি স¤পূর্ণ এখন বেদখলে। স্থানীয়ভাবে
জমির দাম বেড়ে যাওয়ায় বহিরাগতরা একের পর এক মেহেরঘোনা বিটের বিট
কর্মকর্তাদের মোটা অংকের টাকায় ম্যানেজ করে বনাঞ্চলের জায়গা অবৈধ বসতি
স্থাপন করে। অপরদিকে মেহেরঘোনা রেঞ্জ কর্মকর্তা মীর হোসেনের সাথে যোগাযোগ
করা হলে তিনি এ ব্যাপারে কোন মন্তব্য করেননি। বরং চা আপ্যায়নের দাওয়াত দেয় এ
প্রতিনিধিকে। কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা
শাহ-ই-আলমের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি খোঁজ খবর নিয়ে জড়িতদের বিরুদ্ধে
ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানায়।
Subscribe to:
Post Comments (Atom)

No comments:
Post a Comment